শোভন গায়েন। কলকাতা সারাদিন।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পাল্টা চাল দিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে তিন পাতার দীর্ঘ চিঠি লিখে মুখ্যমন্ত্রীর সমস্ত দাবিকে ‘ভিত্তিহীন’ ও ‘মনগড়া’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। শুভেন্দুর দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই এসআইআর প্রক্রিয়াকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছেন মুখ্যমন্ত্রী। চিঠিতে শুভেন্দু সাফ জানিয়েছেন, স্বচ্ছ নির্বাচনের জন্য এসআইআর অত্যন্ত জরুরি। অমর্ত্য সেন বা দেবের মতো ব্যক্তিত্বদের নোটিস পাঠানো প্রসঙ্গে তিনি মনে করিয়ে দেন যে, আইনের চোখে সবাই সমান। ৭৭ জনের মৃত্যুর তথ্যকেও তিনি চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন। বিভ্রান্তিকর কৌশল উপেক্ষা করে দ্রুত এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য তিনি নির্বাচন কমিশনের কাছে জোরালো আর্জি জানিয়েছেন।
চিঠিতে শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য আসলে গোটা প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করা। তাঁর বক্তব্য, এই সংশোধনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভোটার তালিকায় দীর্ঘদিন ধরে থাকা ভুয়ো নাম, ডুপ্লিকেট এন্ট্রি এবং অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের অস্তিত্ব প্রকাশ্যে আসছে, যা তৃণমূল কংগ্রেসের আমলে প্রশ্রয় পেয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে শুভেন্দু অধিকারী লেখেন, ‘এসআইআর-এর ফলে ভুয়ো ভোটার, মৃত ভোটার এবং অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের নাম সামনে আসছে। এই প্রক্রিয়ায় তৃণমূল কংগ্রেসের মুখ্যমন্ত্রী আতঙ্কিত।’
শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের এই উদ্যোগ তৃণমূল কংগ্রেসের ‘অস্বস্তিকর সত্য’ প্রকাশ করে দিচ্ছে। তাঁর মতে, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই প্রক্রিয়াই মুখ্যমন্ত্রীর রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে, যার জেরে তিনি চাপের মধ্যে রয়েছেন। মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে লেখা চিঠিতে শুভেন্দু লিখেছেন, মমতা যে দাবি করেছেন তা ভিত্তিহীন, অতিরঞ্জিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। বিরোধী দলনেতা আরও লিখেছেন, ‘আমি আবারও স্পষ্ট করে বলতে চাই, তাঁর এই দাবি সম্পূর্ণভাবে ভিত্তিহীন। এসআইআর-এর মত গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়াকে বানচাল করার চেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয়। কারণ এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই ভোটার তালিকায় দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রশ্রয়ে বেড়ে ওঠা ভুয়ো নাম, ডুপ্লিকেট এন্ট্রি এবং অনুপ্রবেশকারীদের অস্তিত্ব প্রকাশ্যে আসছে। এখন তারা হইচই ও আতঙ্ক সৃষ্টির পথে হাঁটছে।’
প্রসঙ্গত, শনিবার মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে তৃণমূল সুপ্রিমো অভিযোগ করেন, এসআইআর-এর নামে বাংলায় যা ঘটছে তা সাধারণ মানুষের মর্যাদা, জীবিকা এবং সাংবিধানিক অধিকারের উপর এক ‘ভয়াবহ আক্রমণ’। তাঁর দাবি, এই প্রক্রিয়া এখন ভোটারদের ‘ভয় দেখানো এবং নাম বাদ দেওয়ার’ হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁর অভিযোগ, ভারতের নির্বাচন কমিশন ধীরে ধীরে তার সাংবিধানিক দায়িত্ব থেকে বিপজ্জনকভাবে সরে যাচ্ছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘গণতন্ত্র ভয়ের উপর দাঁড়িয়ে থাকে না। জোরজবরদস্তি করে ভোটার তালিকা ‘শুদ্ধ’ করা যায় না।’ তাঁর মতে, এসআইআর-এর আওতায় যেভাবে শুনানি চালানো হচ্ছে, তাতে মানবিক সংবেদনশীলতা এবং বাস্তবতার কোনও প্রতিফলন নেই।