সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
তৃণমূলের রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাক ও তার কর্ণধার প্রতীক জৈনের দফতর থেকে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) কোনও নথি বা তথ্য বাজেয়াপ্ত করেনি এই মর্মে কেন্দ্রীয় সংস্থার বক্তব্য শোনার পর তৃণমূল কংগ্রেসের দায়ের করা আবেদন খারিজ করে দিল কলকাতা হাইকোর্ট। বুধবার বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের বেঞ্চ জানায়, ইডি যখন স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে তারা কোনও নথি বা ডিভাইস বাজেয়াপ্ত করেনি, তখন এই বিষয়ে আর কোনও নির্দেশ দেওয়ার প্রয়োজন নেই।
তৃণমূল আদালতে দাবি করেছিল, ইডি তাদের গোপন রাজনৈতিক তথ্য বাজেয়াপ্ত করেছে এবং সেই তথ্য সংরক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হোক। তবে ইডি-র তরফে জানানো হয়, কোনও তথ্য তাদের হেফাজতে নেই। এর পর তৃণমূলের আইনজীবী জানান, যদি আদালতের নথিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয় যে ইডি কিছুই বাজেয়াপ্ত করেনি, তাহলে তাঁদের আবেদনের নিষ্পত্তিতে কোনও আপত্তি নেই। এদিন আদালতে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল এসভি রাজু জানান, ৮ জানুয়ারি আই-প্যাকের দফতরে তল্লাশির সময় ইডি কোনও নথি বা ডিভাইস বাজেয়াপ্ত করেনি। তাঁর দাবি, তল্লাশির সময় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই সেখানে পৌঁছে নথি ও ডিভাইস নিয়ে যান। বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের এদিনের পর্যবেক্ষণে স্পষ্টভাবে মন্তব্য করেন, যে আই-প্যাক বা প্রতীক জৈনের দফতর থেকে ইডি কিছুই বাজেয়াপ্ত করেনি। এই পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতেই তৃণমূলের আবেদন নিষ্পত্তি করে আদালত। ইডি-র আইনজীবী হাইকোর্টের কাছে অনুরোধ করেন যে, নথিগুলো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিয়ে গিয়েছেন-এই মর্মে তাঁর বক্তব্যটি যেন রেকর্ড করা হয়। আদালত আরও রেকর্ড করে যে, তল্লাশির সময় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট কোনও ডেটার ব্যাকআপ তৈরি করেনি। তাই তৃণমূলের উচিত তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা। যদি তৃণমূল এমন আবেদন জানায়, তবে ইডি তাদের সমর্থন করবে। তৃণমূলের হয়ে মামলাটি করেছেন শুভাশিস চক্রবর্তী। তাঁর মামলা করার যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ইডির আইনজীবী। তিনি আদৌ ঘটনাস্থলে ছিলেন কি না, প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
অন্যদিকে, আইপ্যাক দফতরে তল্লাশির সময় তদন্তে বাধা দেওয়ার অভিযোগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ইডি যে আবেদন করেছিল, তা এদিন মুলতুবি রাখা হয়েছে। অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল জানান, একই আবেদন সুপ্রিম কোর্টেও দায়ের করা হয়েছে। সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পর কলকাতা হাইকোর্ট মামলাটি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। আদালত জানায়, যেহেতু বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন, তাই সর্বোচ্চ আদালত এই মামলার শুনানি না করা পর্যন্ত হাইকোর্টে কোনও কার্যক্রম চলবে না। জানা গিয়েছে, সুপ্রিম কোর্ট আগামীকাল ইডির আবেদনের শুনানি করবে।
তৃণমূলের আইটি সেলের অফিসে চুরি করতে গিয়েছিল ইডি অফিসাররা এমনই দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও এই নিয়ে এখন মামলা গড়িয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্টে। এবার এই দুই মামলাতেই রাজ্যের পাশাপাশি যুক্ত করা হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার, কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজকুমার ভার্মা, কলকাতা পুলিশের ডিসি (দক্ষিণ) প্রিয়ব্রত রায় এবং সিবিআইকে। আগেই এই ঘটনায় সিবিআই তদন্ত চেয়েছিল ইডি।