সুষমা পাল মন্ডল। কলকাতা সারাদিন।
বাংলায় আর বনধের রাজনীতি নেই—এই বার্তাই আরও একবার জোরালোভাবে তুলে ধরলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নবান্ন থেকে শিল্প ও বিনিয়োগ প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, বাংলায় কোনও বনধ বা ধর্মঘট তিনি হতে দেবেন না। তাঁর দাবি, শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সহাবস্থানের পরিবেশই আজ বাংলাকে শিল্পপতিদের কাছে সবচেয়ে নিরাপদ ও আকর্ষণীয় গন্তব্য করে তুলেছে।
ওয়াটগঞ্জের দইঘাটে নতুন শ্মশানের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং নবনির্মিত সিরিটি মহাশ্মশানের ভার্চুয়াল উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বাম আমলে বাংলায় প্রায় ৭৫ লক্ষ কর্মদিবস নষ্ট হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর একদিনের জন্যও কর্মদিবস নষ্ট হতে দেওয়া হয়নি। এখন বাংলায় বনধ হয় না বলেই শিল্পের পক্ষে অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
মমতার কথায়, শিল্পপতিদের আর চিন্তার কারণ নেই। আপনারা প্রস্তুত থাকুন, পরিকল্পনা করে দেবে রাজ্য সরকার। ইতিমধ্যেই রাজ্যে একের পর এক কারখানা গড়ে উঠছে, বহু শিল্প সংস্থা বাংলায় বিনিয়োগে আগ্রহ দেখাচ্ছে। হাওড়া থেকে দুর্গাপুর পর্যন্ত রাস্তার দু’ধারে তাকালেই চোখে পড়বে উন্নয়নের ছবি—কত নতুন শিল্প এসেছে, কত কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে।
পরিযায়ী শ্রমিকদের প্রসঙ্গেও মুখ খুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। দেশের কিছু বিজেপি শাসিত ডাবল ইঞ্জিন রাজ্যে বাংলায় কথা বলার অপরাধে যেভাবে বাঙালি শ্রমিকদের উপর আক্রমণের অভিযোগ উঠছে, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। বাংলার বাইরে কাজ করতে যাওয়া শ্রমিকদের উদ্দেশে মমতার বার্তা—যাঁরা চাইছেন, তাঁরা বাংলায় ফিরে আসুন। এখানে কাজ আছে, সরকার পাশে আছে।
নবান্ন সভাঘরের বৈঠক থেকে মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, রাজ্যের মানুষের সুবিধার জন্য একাধিক উন্নয়ন প্রকল্প একসঙ্গে চলছে। শিলিগুড়িতে তৈরি হচ্ছে মহাকাল মন্দির, যেখানে থাকবে ২৪টি শিবলিঙ্গ ও একটি বিশাল শিবমূর্তি। পাশাপাশি দিঘায় জগন্নাথ মন্দির, নিউটাউনের দুর্গাঙ্গন, বগলামুখী মন্দির—যেখানেই মানুষের অনুরোধ এসেছে, সেখানেই উন্নয়নের কাজ হয়েছে বলে জানান তিনি।
তবে শান্তি রক্ষার প্রশ্নে কোনও আপস নয়—এই বার্তাও দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, ভোটের স্বার্থে কেউ কেউ বাংলায় অশান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু বাংলা শান্তি চায়, সহাবস্থান চায়। সবাইকে মাথা ঠান্ডা রেখে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

মমতার কথায়, বাংলা বিভাজনের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। হিন্দু, মুসলিম, শিখ বা খ্রিস্টান—ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে ভারতীয় পরিচয়টাই এখানে সবচেয়ে বড়। একটি পরিবারের মতোই রাজ্যকে চলতে হবে। শান্ত মন ও স্থিতিশীল পরিবেশ থাকলেই শিল্প বাড়বে, বাণিজ্য বাড়বে এবং নতুন প্রজন্ম নিরাপদ থাকবে—এই বিশ্বাসেই এগোচ্ছে বাংলা।