সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
বাংলায় ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগেই তৃণমূল বিরোধী নয়া জোট সম্ভাবনা তৈরি হল। নিউটাউনের হোটেলে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম ও হুমায়ুন কবীরের মধ্যে হয়ে গেল গোপন বৈঠক। প্রায় একঘণ্টার বেশি সময় ধরে একান্ত বৈঠক হয় দুই নেতার। আর এই বৈঠকের পর দু পক্ষের আলোচনা সদর্থক বলে দাবি হুমায়ুন কবীরের। অপরদিকে, পার্টিতে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান সেলিমও। যদিও সেলিম-হমায়ুন বৈঠক নিয়ে কটাক্ষ করেছে তৃণমূল। কটাক্ষ করতে ছাড়ছে না বিজেপিও।
জানা গিয়েছে, মহম্মদ সেলিম এবং হুমায়ুন কবীরের মধ্যে বিধানসভা ভোটে জোট এবং আসন সমঝোতা নিয়ে কথা হয়েছে। আর বৈঠকে মহম্মদ সেলিম হুমায়ুনকে জানিয়েছেন যে এই বিষয়ে দলে আগে কথা হবে। তারপরই জোট বা আসন সমঝোতা নিয়ে এগোনো সম্ভব হবে বামেদের তরফে।
হুমায়ুন বেরিয়ে জানিয়েছেন, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে সিপিএম, আইএসএফ-এর সঙ্গে তিনি জোট করে লড়়তে চান। তা নিয়েই সেলিমের সঙ্গে কথা হয়েছে। জোটের বিষয়ে নওশাদ সিদ্দিকির দলের সঙ্গে আলোচনার ভার সিপিএমের উপরেই ছেড়েছেন হুমায়ুন। তবে এই আলোচনা নিয়ে এখনই চূড়ান্ত কিছু বলতে নারাজ সিপিএম। সেলিম জোটের বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলেননি। হুমায়ুন নিউ টাউন থেকে সাংবাদিকদের বলেন, ‘মহম্মদ সেলিমের সঙ্গে আমার আলোচনা হয়েছে। আগামী নির্বাচনে আমরা জোট করে লড়ব কি না, সে বিষয়ে কথা বলেছি। আইএসএফ-এর সঙ্গে কথা বলার বিষয়টি ওঁদের উপরেই ছাড়তে চাই। কংগ্রেস নিয়ে আমার কোনও বক্তব্য নেই। তাঁরা কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো অবস্থায় আছে বলে আমার মনে হয় না।’ সেলিম বলেন, ‘হুমায়ুন বিভিন্ন জায়গা থেকে আমাকে বার্তা পাঠাচ্ছিল। ওর সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছে। আমি তো বলেইছিলাম, নতুন দল করলে আমি কথা বলব। ওর ভাবনা জানলাম। এ বার আমি দলকে তা জানাব।’
এই দুজনের বৈঠকের পরই বাংলার রাজনীতিতে জল্পনা শুরু হয়ে গিয়েছে। রাজনৈতিক মহলের বড় অংশই মনে করছে, এই জোট সিপিআইএম-এর কর্মী সমর্থকরাই আদৌ মেনে নেবে না। কারণ, নওশাদ সিদ্দিকীর আইএসএফ-এর সঙ্গে জোটের পরও দলের মধ্যে একাধিক প্রশ্ন ওঠে। কীভাবে একটি বামপন্থী দল আইএসএফ-এর সঙ্গে জোটে যেতে পারে, তা নিয়ে তোপের মুখে পড়েছিল নেতৃত্ব। যদিও সেই যাত্রায় আইএসএফ-এর ‘সেক্যুলার’ নীতিকে সামনে রেখে কিছুটা মুখ রক্ষা করা গিয়েছিল। কিন্তু এবার বাংলায় বাবরি মসজিদ তৈরির দাবি করে যার নতুন রাজনৈতিক দলের সূচনা, সেই হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে জোটের জন্য আলোচনাও যে বাম কর্মী-সমর্থকরা মেনে নেবেন না, তা নিয়ে নিশ্চিত অনেকেই। তাঁদের দাবি, অতীতে হুমায়ুন সাম্প্রদায়িক মন্তব্য করেছেন। তাঁদের পার্টিগত লাইনের সঙ্গে মেলে না হুমায়ুনের মতাদর্শ। সেই জায়গায় এই জোটকে মোটেই ভাল চোখে দেখছেন না সিপিএম-এর রাজ্য নেতৃত্বের একটা অংশ। মূলত বিরোধিতা আসছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলি, দক্ষিণ কলকাতার মতো স্তর থেকে। ইতিমধ্যেই জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে। আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি এই বৈঠক নিয়ে বলেন, ‘বামপন্থীরা কাদের সঙ্গে কথা বলবেন তা তো নির্ধারণ করে দিতে পারি না। এই নিয়ে আমাদের কিছু বলার নেই। আমরা বিজেপি ও তৃণমূলের আদর্শের বিরুদ্ধে লড়ব।’

এই বিষয়ে মুখ খুলেছেন তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষও। তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া হয়ে গিয়েছে সিপিআইএম।’ তাই ভোটের আগে ভিক্ষের পাত্র হাতে জোট ভিক্ষা করছেন সেলিমরা বলে কটাক্ষ করেন তিনি। তৃণমূল স্বাভাবিক ভাবেই সিপিএম-কে কটাক্ষ করেছে। দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ ডুগডুগি বাজিয়ে গান গেয়েছেন, ‘আমার এই ছোট্ট ঝু়ড়ি, এতে রাম-বাম আছে, দেখে যা নিজের চোখে, কমরেড সেলিম কেমন নাচে!’