সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
‘শুধু বিগ বিগ টক। কিন্তু আসলে এই বাজেট একেবারেই দিগভ্রান্ত, ভিশনলেস, মিশনলেস, অ্যাকশনলেস!’ রবিবার কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন সংসদে বাজেট পেশ করার পরে এভাবেই বাজেট নিয়ে নিজের প্রতিক্রিয়া জানালেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার অর্থাৎ আগামীকাল দিল্লিতে জাতীয় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে বৈঠকের আগে আজ দিল্লি রওনা হওয়ার আগে কলকাতা বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রীয় বাজেট প্রসঙ্গে বলেন, ‘বাজেটে কিছু কথার খেলা হয়েছে। কিন্তু একটা জিনিসও বলতে পারবেন, যেখানে সাধারণ মানুষ উপকৃত হয়েছেন? হাম্পটি ডাম্পটি বাজেট। বাজেটে শুধু কথার ফুলঝুরি। বাংলার ২ লক্ষ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। এই বাজেট একেবারেই দিগভ্রান্ত, ভিশনলেস, মিশনলেস, অ্যাকশনলেস!’
সামনেই বাংলার বিধানসভা নির্বাচন থাকা সত্ত্বেও এবারেও বাংলাকে বঞ্চনা করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে মমতার দাবী বাংলায় বিজেপি এবারেও হেরে যাবে বুঝতে পেরে আগাম বাংলার জন্য ভোটমুখী কোন প্রতিশ্রুতি দিতে যায়নি বাজেটে। মমতার অভিযোগ, ‘বিহার তো এর আগে বাজেট থেকে পেয়েছিল, বাংলা বঞ্চিত হল। দিশাহীন বাজেট, ভোট পাবে না জেনে বাংলাকে বঞ্চিত। ফ্রেট করিডরের কথা বলছে, সেটা আমি ২০০৯ সালে বলেছিলাম। এতদিন ধরে সেই প্রকল্প বাস্তবে রূপায়ণ হয়নি। তারা জানে বাংলায় হারবে, তার জন্যই এসআইআর করেছিল। আমি তাদের বলব রাজনৈতিকভাবে লড়ুন, নির্বাচন কমিশন, কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে ব্যবহার করা বন্ধ করুন। হরিয়ানা, মহারাষ্ট্রতে হারতে হয়েছে, এই কারণেই। বাংলা, কেরল, তামিলনাড়ুতেও হেরে যাবে। বাংলায় ওরা হারছে। তাই বিজেপি বিমাতৃসুলভ মনোভাব নিয়ে বাংলার মানুষকে শিক্ষা দিতে চাইছে। আসন্ন নির্বাচনে মানুষ বিজেপিকে সমুচিত জবাব দিয়ে দেবে।’
রবিবার মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এই বাজেট হচ্ছে গারবেজ অফ লাই। গোটা দেশে এখন একটাই কর কাঠামো, জিএসটি। বাংলার থেকে সব টাকা তুলে নিয়ে যাচ্ছে। একটা টাকা রাজ্যকে দিচ্ছে না। যে টাকার কথা বলা হয়েছে, সব আমাদের টাকা।’ গত রাজ্য বাজেটে তাঁর সরকার ছ’টি পণ্য করিডর তৈরির কথা জানিয়েছিল বলেও স্মরণ করিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রসঙ্গত, ওই বাজেটে ডানকুনি-রঘুনাথপুর, রঘুনাথপুর-তাজপুর, ডানকুনি-ঝাড়গ্রাম, ডানকুনি-কোচবিহার এবং পুরুলিয়ার গুরুডি থেকে জোকা এবং খড়্গপুর-মোরগ্রাম করিডর গড়ে তোলার কথা জানানো হয়েছিল।
বিজেপিকে আক্রমণ করে মমতা বলেন, ‘ওরা কী করবে? আমরাই তো জঙ্গলমহলের জন্য জঙ্গলসুন্দরী করেছি। পুরুলিয়ার জন্য আলাদা ফ্রেট করিডর করেছি। ইতিমধ্যেই ৭২ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ হয়েছে।’ রবিবারের বাজেটে শিলিগুড়ি এবং বারাণসীর মধ্যে হাইস্পিড রেল করিডর তৈরির কথা বলা হয়েছে। এই প্রসঙ্গে মোদীর নির্বাচনী কেন্দ্র বারাণসীকে ‘ডিজ়নিল্যান্ড’ বানানো হচ্ছে বলে কটাক্ষ করেন মমতা।