সুষমা পাল মন্ডল। কলকাতা সারাদিন।
‘বাংলা সহায়তা কেন্দ্রগুলির কাজকর্ম স্বচ্ছভাবে তদন্ত করে পুনরায় বাছাই করা উচিত।’ বিগত তৃণমূল সরকারের আমলে পঞ্চায়েত স্তরের বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ তুলে এভাবেই নতুন করে সব ঢেলে সাজানোর কথা ঘোষণা করলেন রাজ পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ।
তাঁর দাবি, বাংলা সহায়তা কেন্দ্রের মাধ্যমে অনুপ্রবেশকারীদের ভোটার কার্ড, আধার কার্ড-সহ বিভিন্ন সরকারি নথি তৈরি করে দেওয়া হয়েছিল। গোটা বিষয়টির স্বচ্ছ তদন্ত করে কেন্দ্রগুলিকে নতুন করে বাছাই করারও দাবি জানান তিনি। শুক্রবার কলকাতার ধনধান্যে অডিটোরিয়ামে কমন সার্ভিস সেন্টারের (সিএসসি) ১৭তম বার্ষিক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এই অভিযোগ করেন মন্ত্রী। দিলীপ ঘোষের দাবি, বাংলা সহায়তা কেন্দ্রের মাধ্যমে বহু অনুপ্রবেশকারী সরকারি পরিচয়পত্র পেয়ে গিয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ দেশবিরোধী কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। তাঁর কথায়, দীর্ঘদিন ধরে দেশকে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের মোকাবিলা করতে হয়েছে। তাই এই ধরনের অনিয়ম বন্ধ হওয়া জরুরি।
কয়েকদিন আগে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের আমলে পশ্চিমবঙ্গের ২৭ লক্ষের বেশি পুরুষ লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকা পাচ্ছিলেন ছিলেন প্রতি মাসে। সেই কারণেই দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, আবাস যোজনা, জব কার্ড-সহ একাধিক সরকারি প্রকল্পের সুবিধা ভুয়ো নথির মাধ্যমে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তাই যেসব বাংলা সহায়তা কেন্দ্র এই ধরনের কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিল বলে অভিযোগ, সেগুলির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে নতুনভাবে কমন সার্ভিস সেন্টারের আওতায় আনা প্রয়োজন।’

অন্যদিকে, দমদম বিমানবন্দরের ভিতরে রানওয়ে লাগোয়া বাঁকড়া মসজিদকে সরানো ঘিরে প্রাক্তন মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরীর হুঁশিয়ারির প্রেক্ষিতে দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী এটা যেন ভুলে না যান এটা তৃণমূলের রাজত্ব নয়, বিজেপির রাজত্ব। যা নাচাকোদা করে নিয়েছেন তৃণমূলের আমলে। অনেক ফুটানি দেখেছি আমরা। হাজার হাজার লোক নিয়ে এসে কলকাতা ঘেরাও করতেন। এই ভুলটা যেন এখন না করেন। পুলিশের লাঠি শক্ত হয়ে গিয়েছে। এক ঘা পড়লে বাকি জীবনটা হাসপাতালে যাবে। এই বয়সে এগুলি শোভা দেয় না। আপনার নেতাগিরি চলবে না। মানুষ সবকিছু বুঝে গিয়েছে। পুরোটাই তৈরি করা ছিল। ওনার পিছনে আর কেউ নেই। মুসলিম সমাজও জেনে গিয়েছে এখানে বাকি লোকেদের সঙ্গে মিলেমিশে থাকতে হবে। আলাদা সুবিধা কাউকে দেওয়া হবে না।’