সুষমা পাল মন্ডল। কলকাতা সারাদিন।
দীর্ঘ ৩৪ বছরের সিপিএম জমানার ডার্ক সেক্রেট এবার বাংলা ছবির পর্দায়। পরিচালক অরিন্দম শীলের নতুন ছবি কর্পূর এবার তুলে ধরবে দীর্ঘ ৩৪ বছর বাংলায় সিপিএম জমানায় কিভাবে পরীক্ষা দুর্নীতিতে হাত পাকিয়েছিল সিপিএম নেতারা।
সেই সঙ্গে শিক্ষা ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ কুক্ষিগত করে একের পর এক দুর্নীতি এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঘটিয়ে তা মিটিয়ে ফেলার জন্য কিভাবে ভয়ংকরতম অপরাধ ঘটতো সিপিএম আমলে তাও তুলে ধরা হবে এই ছবিতে।
১৯৯৭-৯৮ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ডেপুটি এক্সাম কন্ট্রোলার মনীষা মুখোপাধ্যায়ের রহস্যজনক অন্তর্ধান নিয়ে এই ছবি তৈরি হলেও ছবির কোন চরিত্র অথবা ঘটনার সঙ্গে বাস্তবে মিল নেই বলে বিতর্ক এড়ানোর জন্য দাবি করেছেন পরিচালক অরিন্দম শীল।
বাংলার রাজনীতির ইতিহাসে তোলপাড় করা ঘটনা মনীষা মুখোপাধ্যায় অন্তর্ধানকে ভিত্তি করে লেখা সাহিত্যিক দীপান্বিতা রায়ের ‘অন্তর্ধানের নেপথ্যে’ উপন্যাস অবলম্বনে তৈরি হচ্ছে এই ছবি।

কিন্তু যে ছবির প্রধান দুই চরিত্রে রয়েছেন ব্রাত্য বসু এবং কুনাল ঘোষ – সেই ছবিকে নিয়ে বিতর্ক হবে না তা ভাবাটাই বোধহয় ভুল। সরাসরি নাম না করলেও বা নাম বদল করে দিলেও তৃণমূলের অন্যতম রাজ্য সম্পাদক কোনাল ঘোষকে রাখা হয়েছে তৎকালীন রাজ্য পার্টির সম্পাদকের ভূমিকায়। শংকর মল্লিক নামে এই পার্টি সম্পাদকের সঙ্গে অদ্ভুত মিল সিপিএমের প্রয়াত রাজ্য সম্পাদক অনিল বিশ্বাসের।

স্পেশাল ইনভেস্টিগেটিং অফিসার রাখহ হরির ভূমিকায় বরাবরের মতোই অনবদ্য মেকআপ ব্রাত্য বসুর। আর গোটা ঘটনার বা গোটা রহস্যের কেন্দ্র বিন্দুতে জিনিস এই মনীষা মুখোপাধ্যায়ের চরিত্রে অভিনয় করছেন ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত।

এছাড়াও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে রয়েছেন তৃণমূল কাউন্সিলার অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি নিউজ পোর্টালের এডিটরের ভূমিকায়, অভিনেতা সাহেব চট্টোপাধ্যায় রয়েছেন সেই সময়ের এক প্রভাবশালী শাসক দলের সাংসদ তথা রাজনীতিবিদের ভূমিকায়। প্রসঙ্গত মনীষা মুখোপাধ্যায় অন্তর্ধানের পরেই সবথেকে বেশি বিতর্কে জড়িয়ে ছিলেন বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিমান বসু। অভিযোগ উঠেছিল বিভিন্ন দুর্নীতি এবং ব্যক্তিগত সম্পর্কের। আবার নিউজ পোর্টালের দুই সাংবাদিকের চরিত্রে রয়েছেন অর্পণ এবং লহমা ভট্টাচার্য।

দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূলের রাজ্য সম্পাদক পদে থাকার পাশাপাশি সাংবাদিকতা এবং রাজনীতির জগতে ও বিচরণ করা সত্ত্বেও প্রথমবারের জন্য সিনেমার পর্দায় পা রাখছেন কুনাল।

নতুন এই জার্নি নিয়ে বলতে গিয়ে কুণাল ঘোষ বলেন, “এক একটা চরিত্রের এক এক রকম বৈশিষ্ট্য। আমি এই বিষয়ে একদম নতুন। আমি নবাগত। ফলত আমাকে আমার পরিচালক গড়ে পিঠে নিচ্ছেন। আর আমার বন্ধু ব্রাত্য, সেও খুব গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিচ্ছেন আমাকে। আমি সেইমতো নিজেও অনুশীলন করছি। ভালোভাবে বারবার স্ক্রিপ্টটা পড়ছি। পিডিএফ আকারেও ছবির স্ক্রিপ্টটা রেখেছি। কখনও গাড়িতে যেতে যেতে স্ক্রিপ্টটা পড়ে নিচ্ছি। এভাবেই চেষ্টা করছি।”

ফিল্মি দুনিয়ায় পা রাখলেও তাঁর সঙ্গে যে কারও প্রতিযোগিতা নেই, সেকথাও জানান তিনি।

এছাড়াও তিনি আরও বলেন, “এই যে এতজন অভিনয় জগৎ থেকে রাজনীতিতে এসেছেন, আমি এটাই দেখাতে চাই যে এদিক থেকেও ওদিকে যাওয়া যায়, পারফর্ম করা যায়। তবে এখানে আমার কারও সঙ্গে প্রতিযোগিতা নেই। আমি নবাগত। আমার পরিচালক যেন বলেন তিনি আমার কাজে সন্তুষ্ট। আমি নিজেও সন্তুষ্ট হতে চাই যে আমি ফাঁকিবাজি করিনি। আমি কখনও ফাঁকিবাজি করে কোনও কাজ করি না। আমার সাংবাদিকতা, রাজনীতি এগুলি নিয়ে জ্ঞান থাকলেও অভিনয় একেবারেই আমার কাছে নতুন। যাতে আমি অভ্যস্ত নই। তাতে আমাকে আমার বন্ধু ব্রাত্য ও পরিচালক অরিন্দম শীল সাহায্য করছেন। দর্শকের থেকেও ভালো প্রতিক্রিয়া পাচ্ছি।”