শোভন গায়েন। কলকাতা সারাদিন।
“বাংলার প্রচুর বোন কাঁদছে। আমাদের কাছে ভেজাটা কোনও ব্যাপার নয়। যত বৃষ্টি হবে তত তাড়াতাড়ি মমতার বিদায় হবে। সব চলেছে। অভয়ার চোখ থেকে রক্ত বেরিয়েছে। বৃষ্টিতে ভেজা কোনও ব্যাপার নাকি ! গুলি খেতে রাজি আছি আমরা।” এভাবেই বুধবার বৃষ্টি ভেজা কলকাতার রাস্তায় ভিজে ভিজে কসবা কান্ডের প্রতিবাদে তিনি ছেলে সামিল হয়ে হুঙ্কার দিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
এর আগে আইন কলেজে গণধর্ষণকাণ্ডে গড়িয়াহাটে বিক্ষোভ দেখিয়ে গ্রেফতার হয়েছিলেন সুকান্ত মজুমদার-সহ ৬৫ জন বিজেপি নেতা, কর্মী। নিঃশর্তে মুক্তির দাবিতে বেল বন্ডে সই করতে চাননি সুকান্ত মজুমদার, তমোঘ্ন ঘোষ, জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়রা। এই নিয়ে রাতভর টানাপোড়েন চলে। লালবাজারের সামনে বিক্ষোভ দেখান বিজেপি কর্মীরা। পরের দিন সকালেও উত্তেজনা ছড়ায়। স্লোগান দিতে শুরু করেন বিজেপি কর্মীরা। রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবাদ জানানো হয়। বিজেপি কটাক্ষ করে, কার্যত ছুঁচো গেলার মতোই তাদের দাবি মেনে নেয় পুলিশ। লালবাজারের লকআপে রাত কাটিয়ে প্রায় ১৪ ঘণ্টা পর বেরিয়ে পুলিশ এবং রাজ্য সরকারকে আক্রমণ করেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি। আদালতে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিজেপি নেতা ও আইনজীবী তরুণজ্যোতি তিওয়ারি।
বিজেপি যুব মোর্চার ডাকে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা যোগ দেন। শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিশাল একটি মিছিল কসবা থানার দিকে অগ্রসর হয়। মিছিলের প্রধান স্লোগান ছিল, “আমরা বিচার চাই”, “নারী সুরক্ষায় সরকার ব্যর্থ”, এবং “দোষীদের ফাঁসি চাই”। মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা হাতে পোস্টার ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করেন। কর্মসূচিতে উপস্থিত থেকে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী কসবা কাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানান। তিনি বলেন, “এই ধরনের ঘটনা রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি প্রমাণ করে। শাসক দল নারীদের নিরাপত্তা দিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ।”

তিনি আরও বলেন, “অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতার করতে হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে এমন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন অপরাধ করার সাহস না পায়।” শুভেন্দু অধিকারী এই ঘটনায় প্রশাসনিক গাফিলতির অভিযোগ তুলেছেন এবং সরকারের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।