সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
দিল্লির দক্ষিণ-পশ্চিম দ্বারকা অঞ্চলে ঘটে গেল এক হৃদয়বিদারক ও নৃশংস খুন। এক বিবাহিত মহিলা, তার স্বামীর ছোট ভাইয়ের সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ার পর যৌথভাবে তার স্বামীকে হত্যা করেছে। পুরো ঘটনাটি মোবাইল চ্যাটের মাধ্যমে ফাঁস হয়ে যাওয়ার পর চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
৩৫ বছর বয়সী করণ দেব ১৩ জুলাই রহস্যজনকভাবে নিজের বাড়িতে মৃত অবস্থায় পাওয়া যান। প্রথমে তার স্ত্রী সুস্মিতা জানায়, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে সে অজ্ঞান হয়ে গিয়েছে। হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডাক্তাররা করণকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। তবে ময়নাতদন্তে আপত্তি তোলেন সুস্মিতা এবং তার শ্বশুর। এতে করণের পরিবারের সন্দেহ আরও বাড়ে এবং তারা পুলিশের কাছে তদন্তের দাবি জানান।
চ্যাটে খুনের ছক স্পষ্ট
করণের ভাই কুণাল, সুস্মিতার ফোন ঘেঁটে ভয়ঙ্কর কিছু চ্যাট মেসেজ খুঁজে পায়। সেখানে দেখা যায়, সুস্মিতা এবং তার দেবর রাহুল একসঙ্গে করণকে মারার ছক কষছে। চ্যাটে সুস্মিতা লেখে:
> “দেখো ওষুধ খেয়ে মরতে কত সময় লাগে। তিন ঘণ্টা হয়ে গেছে, কিছুই হচ্ছে না। মরেওনি।”
রাহুল জবাব দেয়: “তাহলে কারেন্ট দাও।”
সুস্মিতা: “কীভাবে বাঁধব ওকে?”
রাহুল: “টেপ দিয়ে বাঁধো।”
সুস্মিতা: “মুখ খুলছে না, ওষুধ দিতে পারছি না।”
রাহুল: “তুমি জল ঢালো, আমি আসছি, একসঙ্গে করি।”
এই চ্যাট স্পষ্ট করে দেয়, এটি কোনও আকস্মিক মৃত্যু নয়, বরং একটি ঠাণ্ডা মাথার পরিকল্পিত খুন।
পুলিশ গ্রেফতার করেছে সুস্মিতা ও রাহুলকে
চ্যাট ফাঁস হওয়ার পরপরই পুলিশ সুস্মিতা ও রাহুলকে গ্রেফতার করে। তাদের কড়া জেরা চলছে এবং আরও প্রযুক্তিগত ও ফরেনসিক প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চলছে। পুলিশ মনে করছে, দীর্ঘদিন ধরেই চলছিল এই অবৈধ সম্পর্ক ও ষড়যন্ত্র।

এই ঘটনার মধ্য দিয়ে সমাজে সম্পর্কের মূল্যবোধ এবং বিশ্বাস কতটা ভেঙে পড়েছে তা স্পষ্ট হয়ে যায়। প্রযুক্তি যেমন সত্য সামনে আনতে সাহায্য করে, তেমনি মানুষের অসৎ উদ্দেশ্যও প্রকাশ পায়। মোবাইল চ্যাট আজ হত্যার গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পরিবারে সমস্যার সমাধান কখনোই হিংসার মাধ্যমে নয়। যে কোনও সন্দেহজনক মৃত্যুতে সতর্কতা ও তদন্ত আবশ্যক।