সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
সুপ্রিমকোর্টের রায়ে বড়সড় স্বস্তি রাজ্যের। অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণী মামলায় কলকাতা হাইকোর্টের রায়ের উপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। যার ফলে রাজ্যের ওবিসি সংরক্ষণ ব্যবস্থা আপাতত বহাল থাকছে।
গত জুন মাসে হাই কোর্টের বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি রাজাশেখর মান্থার বেঞ্চ ওই বিজ্ঞপ্তির উপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিয়েছিল। আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত ওই স্থগিতাদেশ জারি করেছিল আদালত। পরে ওই অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশের মেয়াদ আরও বৃদ্ধি করে অগস্ট মাস পর্যন্ত করা হয়। আগামী ৫ অগস্ট হাই কোর্টে এই মামলার শুনানির কথা রয়েছে। সেই দিনই পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানানোর কথা আদালতের।
হাই কোর্টের ওই নির্দেশের ফলে কলেজে পড়ুয়াদের ভর্তির ক্ষেত্রে কোনও সমস্যা হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল অনেকের মনে। যদিও আদালত আগেই স্পষ্ট করেছে যে, এমন কোনও প্রতিবন্ধকতা নেই। তবে হাই কোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল রাজ্য। সোমবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচাররপতি গাভাই, বিচারপতি কে বিনোদ চন্দ্রন এবং বিচারপতি এনভি অঞ্জরিয়ার বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হয়।
সোমবার মামলাটি শুনানির জন্য উঠতেই হাই কোর্টের স্থগিতাদেশ জারির সিদ্ধান্ত নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি গবই বলেন, ‘আমরা এ বিষয়ে নোটিস জারি করব। এটা আশ্চর্যজনক! হাই কোর্ট কী ভাবে এমন করে স্থগিতাদেশ দিতে পারে? আমরা ভেবে অবাক হচ্ছি যে, কোন যুক্তিতে হাই কোর্ট এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে!’
প্রধান বিচারপতি আরও জানান, সংরক্ষণ তো কার্যনির্বাহী (এক্সিকিউটিভ) বা প্রশাসনিক বিভাগের কাজের অংশ। এ বিষয়ে অতীতের একটি মামলার রায়ের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। প্রধান বিচারপতি জানান, ইন্দিরা সাহনী মামলার রায় থেকে স্পষ্ট যে প্রশাসন এই কাজ করতে পারে। সংরক্ষণের জন্য কার্যনির্বাহী বা প্রশাসনের নির্দেশই যথেষ্ট, এর জন্য আলাদা করে কোনও আইন তৈরির প্রয়োজন নেই।
সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ মৌখিক ভাবে জানিয়েছে, হাই কোর্টের নির্দেশকে ‘প্রাথমিক ভাবে ভুল’ বলে মনে করা হচ্ছে। এ কথা জানিয়ে হাই কোর্টের নির্দেশের উপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করে শীর্ষ আদালত। প্রধান বিচারপতি গবইয়ের মতে, বিজ্ঞপ্তির ক্ষেত্রে কিছু পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়েছে। সেটি সঠিক হতেও পারে, না-ও হতে পারে। তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে হাই কোর্ট চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। তবে বিতর্কিত এই নির্দেশের উপর আপাতত অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি থাকবে।’
শুনানির পর প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ জানায়-আমরা আপাতত স্থগিতাদেশ দিচ্ছি। হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে নির্দেশ দেব, নতুন বেঞ্চ গঠনের। ৬-৮ সপ্তাহের মধ্যে মামলার নিষ্পত্তি করতে হবে।