কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অমৃতা সিনহা টলিপাড়ার দ্বন্দ্ব সংক্রান্ত মামলাগুলি খারিজ করে দিয়েছেন। তাঁর স্পষ্ট পর্যবেক্ষণ, রাজ্য সরকার এই ইন্ডাস্ট্রিকে স্বচ্ছভাবে চালাতে অক্ষম এবং সরকারের মধ্যে সুস্পষ্ট অনীহা রয়েছে।
টলিউডের টেকনিশিয়ান ও পরিচালকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা মতবিরোধ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল। পরিচালক পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়, অনির্বাণ ভট্টাচার্যসহ একাধিক পরিচালকের অভিযোগ ছিল, ফেডারেশনের একাধিক সিদ্ধান্ত তাঁদের কাজ করতে দিচ্ছে না। অন্যদিকে, ফেডারেশন দাবি করে, তারা ইন্ডাস্ট্রির স্বার্থেই পদক্ষেপ নিচ্ছে।
বিচারপতি অমৃতা সিনহা মামলাকারীকে সরাসরি বলেন, “রাজ্য আপনাদের কাউকে নিয়ন্ত্রণ করার জায়গায় নেই।” পাশাপাশি প্রিন্সিপাল সেক্রেটারিকে উদ্দেশ করে প্রশ্ন তোলেন, “আপনি জানেন ইন্ডাস্ট্রির সমস্যা হচ্ছে, তবুও কিছু করতে পারছেন না কেন?” এই মন্তব্যে আদালতের অসন্তোষ স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
এর আগেই আদালতের নির্দেশে একটি কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। পরিচালকদের তালিকায় মুম্বইয়ের কয়েকজন খ্যাতনামা পরিচালকের নাম জমা পড়ে, আর ফেডারেশনের তালিকায় ছিল টালিগঞ্জের একাধিক পরিচালক ও প্রযোজকের নাম। কিন্তু উভয় পক্ষের তালিকা জমা দেওয়ার পরও সমস্যার সমাধান হয়নি। ফলে শেষমেশ আদালত মামলাগুলি খারিজ করে দেয়।
মামলা খারিজ হওয়ার পর ফেডারেশনের তরফে একটি বিবৃতি প্রকাশিত হয়। সেখানে জানানো হয়, “আপনাদের অকুণ্ঠ সমর্থন আর শুভকামনার জোরেই হাইকোর্টে আমাদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা খারিজ হয়েছে। সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির কর্মী ও টেকনিশিয়ানদের অধিকারের আন্দোলনে এটি এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকবে।”
অন্যদিকে পরিচালকদের একটি অংশের দাবি, তাঁরা টেকনিশিয়ানদের নিয়ে আপত্তি জানাচ্ছেন না, কিন্তু কাজ করার সুযোগ পাচ্ছেন না। এর ফলে একাধিক শিল্পী ও কর্মী বেকারত্বের মুখে পড়েছেন। বিচারপতি স্পষ্ট ভাষায় জানান, রাজ্য সরকারের ভূমিকাই এখানে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। তাঁর মন্তব্য, “রাজ্য সরকার ইন্ডাস্ট্রি স্বচ্ছভাবে চালাতে পারে না। রাজ্যের অনীহা রয়েছে।”
আইনজীবীদের বক্তব্য অনুযায়ী, এই মামলার রায় টলিউড ইন্ডাস্ট্রির ভবিষ্যৎ গঠনে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তৈরি করবে। যদিও আদালতের এই পর্যবেক্ষণ এবং মামলা খারিজের সিদ্ধান্তে আপাতত ইন্ডাস্ট্রির অচলাবস্থা কাটার কোনো সমাধান আসেনি।
বর্তমানে টলিপাড়ার টেকনিশিয়ান ফেডারেশন এবং পরিচালকদের একাংশের মধ্যে যে টানাপোড়েন চলছে, তা আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে শিল্পী, টেকনিশিয়ান এবং দর্শকরা আশা করছেন, দ্রুত কোনো ইতিবাচক সমাধান আসবে, যাতে ইন্ডাস্ট্রি তার স্বাভাবিক গতিতে ফিরতে পারে।