সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
দুর্গাপুরের আইকিউ সিটি মেডিকেল কলেজের ডাক্তারি পড়ুয়ার গণধর্ষণ হয়নি। নিজেদের মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ফুচকা খেতে যাওয়ার নাম করে বেরিয়ে পেছনের জঙ্গলে সহপাঠী ডাক্তারি পড়ুয়ার সঙ্গে বেরিয়েছিল শারীরিক ঘনিষ্ঠতার জন্যেই। সেই সময় তাদেরকে উলঙ্গ অবস্থায় দেখে স্থানীয় কয়েকজন দুষ্কৃতি মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়াতেই জানাজানির ভয়ে গণধর্ষণের গল্প সাজিয়েছিল ডাক্তারি পড়ুয়া।
আর এই গণধর্ষণের সাজানো গল্পকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার তথা বাংলার মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে আসরে নেমে পড়েছিল বিজেপি এবং সিপিএম। আজ দুর্গাপুরের জঙ্গলে গোটা ঘটনার পুনর্নির্মাণ করার পরে ফাঁস হয়ে যায় আসল ঘটনা। এরপরেই আইকিউ সিটি মেডিকেল কলেজের ডাক্তারি পড়ুয়া ওয়াসিফ আলীকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার করলো আসানসোল দুর্গাপুর কমিশনারেটের পুলিশ।
দুর্গাপুর ধর্ষণকাণ্ডে বড় আপডেট। পুলিসের জালে এবার নির্যাতিতার বন্ধু। গ্রেফতারি সংখ্যা বেড়ে হল ৬। প্রাথমিক তদন্তে পুলিসের অনুমান, গণধর্ষণ নয়, ধর্ষক একজনই।
এদিন সাংবাদিক বৈঠকে দুর্গাপুর আসানসোল কমিশনারেটের পুলিশ কমিশনার সুনীল কুমার চৌধুরী বলেন, ‘দুর্গাপুরে একটা প্রাইভেট মেডিকেল কলেজের বাইরে পার্দই জঙ্গলে একটা ঘটনা ঘটেছিল। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই FIR রেজিস্টার হয়। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়’।
কমিশনার জানান, ‘ঘটনাস্থলে পাঁচজন অভিযুক্তর থাকার প্রমান পাওয়া গিয়েছে। পাঁচজকেই গ্রেফতার করা হয়েছে। নির্যাতিতার যে মোবাইল ফোন ছিনতাই হয়েছিল বা অভিযুক্তরা নিয়ে গিয়েছিল, সেটা উদ্ধার করা হয়েছে। পাঁচজন অভিযুক্ত এবং নির্যাতিতার সহপাঠীর পোশাক বাজেয়াপ্ত হয়েছে। FSL ঘটনাস্থলে গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করেছে। অভিযুক্তদের নিয়ে এবং নির্যাতিতাকে নিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করেছে পুলিস’।
কমিশনার জানান, ‘ঘটনাস্থলে পাঁচজন অভিযুক্তর থাকার প্রমান পাওয়া গিয়েছে। পাঁচজকেই গ্রেফতার করা হয়েছে। নির্যাতিতার যে মোবাইল ফোন ছিনতাই হয়েছিল বা অভিযুক্তরা নিয়ে গিয়েছিল, সেটা উদ্ধার করা হয়েছে। পাঁচজন অভিযুক্ত এবং নির্যাতিতার সহপাঠীর পোশাক বাজেয়াপ্ত হয়েছে। FSL ঘটনাস্থলে গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করেছে। অভিযুক্তদের নিয়ে এবং নির্যাতিতাকে নিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করেছে পুলিস’।

নির্যাতিতার বন্ধুর আচরণ যে সন্দেহে উর্ধ্বে নয়, সেকথাও জানিয়েছেন কমিশনার। তিনি বলেন, ‘এখনও অনেক রিপোর্ট বাকি আছে। তদন্ত এখনও চলছে। ছেলেটিকে সব সময়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। যারা অভিযুক্ত, যাদের কে গ্রেফতার করা হয়েছে তাঁরা পুলিশ হেফাজতে রয়েছে, তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। যে ফ্যাক্ট গুলো চলে আসবে সেই অনুযায়ী কেস চলতে থাকবে’। জানান, নির্যাতিতার বয়ান অনুযায়ী, একজন অভিযুক্ত ধর্ষণ করেছে। বাকিদের কি ভূমিকা আছে, সেটা আমরা তদন্ত করে দেখছি’।
আসানসোল-দুর্গাপুরের কমিশনার এ-ও জানান, অভিযোগের দু’দিনের মধ্যে সকল অভিযুক্তকে তাঁরা গ্রেফতার করেছেন। শুক্রবার রাত ১টা ৫ মিনিটে মৌখিক ভাবে খবর পেয়ে কর্তব্যরত পুলিশকর্মী মোবাইল ভ্যান নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান। ৩টে ৩৮ মিনিটে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ লিখিত অভিযোগ করেন।

সুনীলের কথায়, ‘‘নির্যাতিতা এবং তাঁর বন্ধু ছাড়া ঘটনাস্থলে যে পাঁচ জন ছিলেন, তাঁদের সকলকে গ্রেফতার করেছি। ওই দিন তাঁরা যে পোশাক পরেছিলেন, সেগুলো বাজেয়াপ্ত করেছি। নির্যাতিতার বন্ধুকে নিয়ে আমরা ঘটনাস্থলে পরিদর্শনে গিয়েছিলাম। পুনর্নির্মাণ হয়েছে। এখনও পর্যন্ত যে বিভিন্ন নমুনা পাওয়া গিয়েছে এবং নির্যাতিতার বয়ান অনুযায়ী, এক অভিযুক্তই ধর্ষণ করেছেন। বাকিদের কী ভূমিকা ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’’