সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
‘টেলিভিশন চ্যানেলের সবথেকে বড় দিক হোক মানবিক, সামাজিক চেতনা বৃদ্ধি।’ এভাবেই পশ্চিমবঙ্গ সরকারের টেলি একাডেমী পুরস্কার ২০২৫ এর মঞ্চে দাঁড়িয়ে বিনোদন জগতের সঙ্গে যুক্ত সমস্ত অভিনেতা অভিনেত্রী সকল সকলের উদ্দেশ্যে বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
বৃহস্পতিবার রাজ্য তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের উদ্যোগে ‘ধন ধান্য’ প্রেক্ষাগৃহে অনুষ্ঠিত হল টেলি অ্যাকাডেমি পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে সম্মানিত হলেন ছোট পর্দার তারকারা। বিনোদনমূলক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি আমাদের তরুণ প্রজন্ম এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যে যে বাংলা তথা বাঙালির ইতিহাস এবং সংস্কৃতির বিষয়গুলিও তুলে ধরা উচিত, এই বার্তা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মনে করিয়ে দিলেন, ‘আমাদের এই মাটিই কিন্তু স্বাধীনতা আন্দোলনের জন্ম দিয়েছে। নবজাগরণের জন্ম দিয়েছে, এই মাটি সোনার চেয়েও খাঁটি। আমি সেই মাটিটাকে চেনানোর জন্য বলছি। এটা একটা পরিবার।’
টিআরপি টানার জন্য বহু ক্ষেত্রে বিভিন্ন আপত্তিকর জিনিস উঠে আসে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি। দর্শক টানার কথা মাথায় রেখে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য, ‘টেলিভিশন চ্যানেলের সবথেকে বড় দিক হোক মানবিক, সামাজিক চেতনা, সুশিক্ষা বৃদ্ধি। আমাদের বর্তমান প্রজন্মের কাছে ইতিহাস হয়তো ঠিকভাবে পৌঁছচ্ছে না। টেলিভিশনের মাধ্যমেই কখনও কখনও সামাজিক চেতনা বৃদ্ধি করতে হবে। অনেক নতুন শিল্পীরা আসছেন, ট্রেনিং নিচ্ছেন। পুরাতনরাও রয়েছেন।

আমি মনে করি, টেলিভিশন হচ্ছে আমাদের হৃদয়ের দর্পণ। সমাজশিক্ষা। সমাজের আলোড়ন। ভাষার সংকলন, সঙ্গীতের সুরধ্বনি। সবকিছু নিয়ে মিলিয়ে মিশিয়ে এই জগৎটা না থাকলে মানুষের বিনোদন থাকত না। আমি নিজেও সিরিয়াল দেখি। পরের অংশে কী দেখানো হবে সেটাও বলে দিতে পারি। কোনওটা বাড়াতে গিয়ে কাউকে মেরে দেয়। আবার প্রয়োজনে একটু কূটকচালি হয়ে গেল। প্রত্যেকটা সিনে তিন-চারটে চরিত্র তো থাকেই। কেউ ভালো, কেউ নেগেটিভ চরিত্রে। সবই ভালো। টিআরপিও বাড়াতে হবে। গল্পও বানাতে হবে। আমাদের টেলিভিশন জগতের শিল্পী, কলাকুশলীরা দিনরাত এক করে কাজ করে। তাঁদের জীবনে ছুটি নেই। উৎসবে যাওয়া নেই। এটাই যেন তাঁদের জীবনের উৎসব। পুজোর সময়ও তারকাদের ব্যস্ততা বেশি থাকে।’