শোভন গায়েন। কলকাতা সারাদিন।
‘অবৈধ রেশন কার্ড, অবৈধ ভোটার তালিকায় নাম উঠেছে। কয়েকদিন আগে আমি বলেছিলাম, গর্তে কার্বোলিক অ্যাসিড ঢেলে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। পিলপিল করে সাপেরা বেরিয়ে আসছে। এই সন্দেশখালিতে দেখুন, শাহজাহান জেলের ভিতরে থেকে…কারণ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিয়ন্ত্রণে থাকা জেল…মোবাইল ফোন ব্যবহার করে মাছ-মাংস খেয়ে…ওখান থেকে ফোনে ফোনে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের দিচ্ছেন, বিএলওকে কী ভাষা ! আজ, এসআইআর সফল করুন আপনারা। কী হিন্দু, কী ভারতীয় মুসলিম একযোগে এসআইআর সফল করুন। নইলে এরা আমাদের রেশন খাচ্ছে। খাদ্য জিহাদ।’ এভাবেই বাংলা জুড়ে ভোটার তালিকায় স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা এসআইআর প্রক্রিয়া সফল করার জন্য রাজ্যের সমস্ত মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে খাদ্য-জিহাদ সফল করার আহ্বান জানালেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
মথুরাপুরে বিজেপির সভায় উপস্থিত হয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। সেই সভামঞ্চ থেকেই তিনি বলেন, এক সময় তৃণমূল দলকে ছুড়ে ফেলে এসেছেন তিনি। এটা কোনও দলই নয়! শুভেন্দুর কথায়, ‘আমি যদি সেদিন নন্দীগ্রামের মানুষকে নিয়ে লড়াই না করতাম তাহলে দিদি থেকে দিদিমা হয়ে যেতেন। মুখ্যমন্ত্রী হতে হত না।’ স্পষ্টত এই মন্তব্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করেছেন তিনি। প্রথম থেকেই শুভেন্দু তথা বিজেপির নেতারা অনুপ্রবেশকারী এবং রোহিঙ্গা ইস্যুতে তৃণমূল কংগ্রেসকে নিশানা করে আসছে। এর আগে বিরোধী দলনেতা এটাও বলেছিলেন – এসআইআর হলে ১ কোটির বেশি অবৈধ ভোটারের নাম বাদ যাবে যা আদতে তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্ক। তিনি চান ভারতীয়রা তাঁকে ভোট দিয়ে বিধায়ক করুন। অ-ভারতীয়রা কেন ভোট দেবে? প্রশ্ন তোলেন তিনি। এই কারণে নির্বাচন কমিশনকে সম্পূর্ণভাবে সহযোগিতা করার ডাক দেন শুভেন্দু।
অন্যদিকে,
পাণ্ডবেশ্বর থেকে খবর পাওয়া গিয়েছে, মায়ারানী গোস্বামী নামে এক মহিলা পাণ্ডবেশ্বরের একটি বুথে ভোট দিলেও তার নাম এই রাজ্যের ৪৪ টি জায়গায় রয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই এক ব্যক্তি এক জায়গায় ভোট দিচ্ছেন। কিন্তু তার পদবী পাল্টে দিয়ে রাজ্যের ৪৪ টি জায়গায় ভোটার তালিকায় কে তার নাম তুলে দিলো, তা নিয়ে উঠতে শুরু করেছে প্রশ্ন। আর এখানেই শাসকের মুখোশ খুলে দিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।

এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। আর সেখানেই পাণ্ডবেশ্বর এক ব্যক্তির নাম যেভাবে ৪৪ জায়গায় দেখতে পাওয়া যাচ্ছে, সেই বিষয়ে তাকে প্রশ্ন করা হয়। আর সেই ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা বলেন, ‘এই জন্যই এসআইআরের বিরোধিতা করছে তৃণমূল। উনি নিজে এক জায়গায় ভোট দিতেন, আর বাকি ৪৩ টি ভোট তৃণমূলের লোক দিয়ে দিয়ে আসতো। বিকেল বেলা ক্যামেরা বন্ধ করে চারটা থেকে ছয়টা তৃণমূল যেখানে বিরোধীরা এজেন্ট দিতে পারে না, সেখানে বুথ দখল করে। এটা হচ্ছে মডেল। গণতন্ত্রে এটা হতে পারে না। গনতন্ত্রে কখনও একটা দল ১০০ টি ভোটের মধ্যে ৯৮ টি ভোট পেতে পারি না। ভারতবর্ষের বহুদলীয় গণতন্ত্রে এটা কোথাও নেই।’