বিতস্তা সেন। কলকাতা সারাদিন।
বছর শেষের পার্টি, বিয়ে-বাড়ি, পিকনিক—সবকিছু মিলিয়ে ডিসেম্বর মানেই বঙ্গে মদের পিক সিজন। আর সেই সময়েই রাজ্য সরকারের বড় ঘোষণা—১ ডিসেম্বর থেকে বাড়ছে মদের দাম (Liquor Price Hike West Bengal)।
আগামী ১ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে রাজ্যে সব ধরনের মদের উপর অতিরিক্ত আবগারি শুল্ক কার্যকর হবে বলে সম্প্রতি এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে রাজ্য আবগারি দফতর। নতুন নীতিতে দেশি ও বিদেশি, সব শ্রেণির মদের উপর শুল্ক বাড়ানো হয়েছে, শুধুমাত্র বিয়ার এর অন্তর্ভুক্ত নয়।
প্রস্তুতকারক, পরিবেশক ও পাইকারি বিক্রেতাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ৩০ নভেম্বরের মধ্যে যতটা সম্ভব পুরনো দরে স্টক ছাড়তে, কারণ পরে আগের দামে মদ বিক্রি করা যাবে না। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ৭৫০ মিলিলিটারের বিদেশি মদের বোতলে ৩০ থেকে ৪০ টাকা বাড়বে, আর ১৮০ মিলিলিটারের প্যাকেটে দাম বাড়বে ১০ টাকা। দেশি মদের দামে প্রতিটি প্যাকেটে ১০ টাকার বৃদ্ধি হবে।
সূত্রের খবর, ২০২৫-২৬ আর্থিক বছরে রাজ্যের বার্ষিক আবগারি রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ১৯,০০০–২০,০০০ কোটি টাকা। আবগারি দফতরের এক সিনিয়র আধিকারিক বলেন, “আমরা এই লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যেতে চাই। এই দামবৃদ্ধির ফলে মদের খরচ কমবে না, তবে রাজস্ব প্রায় ৪,০০০ কোটি টাকা বাড়বে বলে আশা করছি, যা রাজ্যের রাজস্ব ঘাটতি কমাতে সহায়ক হবে।”
নতুন শুল্কহার কার্যকর হওয়ার এক মাস পরেই প্রকৃত রাজস্ব প্রভাব বোঝা যাবে বলে জানান ওই আধিকারিক। তিনি বলেন, “আগামী বছরের বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজস্ব বৃদ্ধির বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আগামী কয়েক মাসে রাজ্য সরকার আরও নানা ঘোষণা করতে পারে। রাজস্ব বাড়লে সরকার জনকল্যাণমূলক প্রকল্পে বেশি খরচ করতে পারবে।”
রাজ্যের বড় ব্যয়গুলোর মধ্যে রয়েছে লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্প (২৫,০০০ কোটিরও বেশি), বাংলার বাড়ি (৪০,০০০ কোটির বেশি), এবং কন্যাশ্রী, লক্ষ্মীশ্রী, পূজা অনুদান ও অন্যান্য সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প (১০,০০০ কোটিরও বেশি)। পাশাপাশি মুলতুবি ডিএ-র কারণে অতিরিক্ত ১১,০০০ কোটি টাকার বোঝা পড়তে পারে রাজ্যের উপর।
২০২৫-২৬ বাজেটের আর্থিক বিবৃতি অনুযায়ী, রাজ্যের আনুমানিক রাজস্ব ঘাটতি ৩৫,৩১৪.৯৫ কোটি টাকা, রাজকোষ ঘাটতি ৭৩,১৭৭.৯৬ কোটি টাকা এবং মোট বকেয়া ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭,৭১,৬৭০.৪১ কোটি টাকায়।
প্রশাসন জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে না-বিক্রি হওয়া সব স্টকেই নতুন দাম প্রযোজ্য হবে এবং গ্রাহকদের সচেতন করতে প্রতিটি বোতলে নতুন মূল্য-স্টিকার লাগাতে হবে। সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে বিজ্ঞপ্তির কপি পাঠানো হয়েছে। ব্র্যান্ড মালিক ও পরিবেশকদের ১ ডিসেম্বরের আগে প্রয়োজনীয় নথিভুক্তি ও লেবেল পরিবর্তন সম্পূর্ণ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিসেম্বরের শুরুতে মদের বাজারে সাময়িক অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। যদিও প্রশাসনের আশা, ব্যবসায়ীদের আগাম প্রস্তুতির কারণে বড় কোনও বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে না। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর থেকেই দাম বৃদ্ধির হিসাব-নিকাশ শুরু করে দিয়েছেন মদ ব্যবসায়ীরা।