সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
বছর ঘুরলেই বাংলায় ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন। একদিকে যখন বিজেপি বাংলার ভোটার তালিকায় অবৈধ অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশী এবং রোহিঙ্গাদের তাড়ানোর জন্য জাতীয় নির্বাচন কমিশনের এস আই আর প্রক্রিয়াকে সামনে রেখে রাজ্য জুড়ে প্রচারে নেমেছে, সেই সময় এই এসআইআর প্রক্রিয়াকে সামনে রেখেই দলের সংগঠনিক শক্তি বুঝে নিতে চাইছে তৃণমূল। গত সপ্তাহেই তৃণমূলের প্রায় ২৫ হাজার নেতা নেত্রী এবং জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে ভার্চুয়াল বৈঠকে রাজ্যজুড়ে প্রতিবাদ আন্দোলন এবং এসআইআর প্রক্রিয়ার ফলে সাধারণ মানুষ যাতে কোনোভাবে হয়রান না হন তা দেখার জন্য সক্রিয় হতে নির্দেশ দিয়েছিলেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের সেই নির্দেশ দলের নেতা নেত্রী এবং জনপ্রতিনিধিরা কতখানি কাজে করে দেখিয়েছেন সেই সম্পর্কে রিপোর্ট কার্ড বানাতে চলেছেন অভিষেক। এসআইআর প্রক্রিয়ায় কোন নেতা কেমন কাজ করছেন, তার রিপোর্ট দেবেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
এই এসআইআর প্রক্রিয়ায় কারা ঠিক কাজ করল, কারা পিছিয়ে এবং বলার পরও কোনও নেতারা উদ্যোগী হননি, তা নিয়ে মমতাকে রিপোর্ট দেবেন অভিষেক। আগামী ৬ ডিসেম্বর তিনি রিপোর্ট দেবেন। তৃণমূল সূত্রে খবর, ভোটের আগে এই রিপোর্টের ভিত্তিতেই অনেক নেতার পদ হারানো কিংবা পদে থাকা নির্ভর করছে। এর আগেও দেখা গিয়েছে, যে এলাকায় লোকসভা ভোটে খারাপ ফল করেছে তৃণমূল, সেখানকার পৌরসভার চেয়ারম্যান বদল হয়েছে। তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের লক্ষ্য, এসআইআর প্রক্রিয়ায় দলের নেতারা যাতে তীক্ষ্ণ নজর রাখেন। সেজন্য ভার্চুয়ালি বৈঠক করেছেন অভিষেক। দলের নেতাদের দায়িত্ব ভাগ করে দিয়েছেন। সেখানেই তিনি বলেছিলেন, কাজ করতে না পারলে পদে থেকে চেয়ার গরম করার কোনও প্রয়োজন নেই। মূলত রাজ্যে এনমুনারেশন ফর্ম যাতে ১০০ শতাংশ জমা পড়ে তারই বিষয়ে নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি। সেই কাজই দলের নেতারা কেমন করছে তাই খতিয়ে দেখার কাজ শুরু হয়েছে। এনুমারেশন ফর্ম ১০০% জমা করার বিষয়ে অনেকেই কূটনীতি দেখছেন। কারণ এই ফর্ম কেউ জমা না দিলে পরবর্তী সময়ে ভোটার তালিকায় নাম তোলার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে প্রবল সমস্যায় পড়তে হবে। নাম বাদ পড়ার আশঙ্কাও রয়েছে। তাই ফর্ম ফিলাপ করার পরে কোনও ব্যক্তিকে যদি হিয়ারিং-এর জন্য ডাকা হয় তাহলে প্রয়োজনীয় নথি দিয়ে তৃণমূল সহযোগিতা করতে পারবে। পাশাপাশি এনুমারেশন ফর্মকে সামনে রেখে স্থানীয় নেতাদের জনসংযোগের ওপরও জোর দিয়েছেন তৃণমূলের সেনাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
আবার ভার্চুয়াল বৈঠকে যেমন কারও প্রশংসা করতে দেখা গিয়েছে, তেমনই ভর্ৎসনাও করেছেন কাউকে কাউকে। ৪ নভেম্বর থেকে এসআইআরের ফর্ম বিলি শুরু হয়েছে। ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত ফর্ম বিলি ও জমা নেওয়ার কাজ চলবে। কমিশন যেমন তথ্য ডিজিটাইজেশন করছে, তেমনই তৃণমূলের বিএলএ-২’রা তথ্য ভান্ডার তৈরি করছে। দিদির দূত অ্যাপে তথ্য আপডেট করা হচ্ছে। এই এসআইআর প্রক্রিয়ায় কারা ঠিক কাজ করল, কারা পিছিয়ে এবং বলার পরও কোনও নেতারা উদ্যোগী হননি, তা নিয়ে মমতাকে রিপোর্ট দেবেন অভিষেক।