ব্রেকিং
  • Home /
  • বাংলার রাজনীতি /
  • Mamata Banerjee Murshidabad Meeting : ‘যদি এসআইআর না করতে দিতাম, তা হলে ভোট না করে ওরা রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করত’ মুর্শিদাবাদের জনসভা থেকে বিজেপির বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ মমতার

Mamata Banerjee Murshidabad Meeting : ‘যদি এসআইআর না করতে দিতাম, তা হলে ভোট না করে ওরা রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করত’ মুর্শিদাবাদের জনসভা থেকে বিজেপির বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ মমতার

সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন। ‘এসআইআর নিয়ে ভয় পাবেন না। শুধু নিজেদের নথিগুলো জমা দিন। যদি এসআইআর না করতে দিতাম, তা হলে ভোট না করে ওরা রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করত।’ বুধবার মুর্শিদাবাদের জনসভা থেকে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে এমন বিস্ফোরক অভিযোগ....

Mamata Banerjee Murshidabad Meeting : ‘যদি এসআইআর না করতে দিতাম, তা হলে ভোট না করে ওরা রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করত’ মুর্শিদাবাদের জনসভা থেকে বিজেপির বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ মমতার

  • Home /
  • বাংলার রাজনীতি /
  • Mamata Banerjee Murshidabad Meeting : ‘যদি এসআইআর না করতে দিতাম, তা হলে ভোট না করে ওরা রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করত’ মুর্শিদাবাদের জনসভা থেকে বিজেপির বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ মমতার

সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন। ‘এসআইআর নিয়ে ভয় পাবেন না। শুধু নিজেদের নথিগুলো জমা দিন। যদি এসআইআর....

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
X
Threads
Telegram

আরও পড়ুন

সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।

‘এসআইআর নিয়ে ভয় পাবেন না। শুধু নিজেদের নথিগুলো জমা দিন। যদি এসআইআর না করতে দিতাম, তা হলে ভোট না করে ওরা রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করত।’ বুধবার মুর্শিদাবাদের জনসভা থেকে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে এমন বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বুঝেছেন অমিত শাহের চালাকি? আমরা অত বোকা নই বাবুমশাই, গোদিভাই! আমরা করব, লড়ব। আমরা জিতে দেখাব। আমাদের ভাতে মারা যাবে না। সম্পত্তি কেড়ে নেওয়া যাবে না। যে সব রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় নেই, সেখানেই কেন ভোটের আগে এসআইআর হবে? অসম, ত্রিপুরায় বাংলাদেশের সীমান্ত নেই? সেখানে কেন এসআইআর হবে না? বিজেপি ক্ষমতায় আছে বলে?’
মমতা আগেই অভিযোগ করেছিলেন, এসআইআর করে আসলে এনআরসি-র পথ সুগম করা হচ্ছে। কিন্তু সেই এনআরসি তিনি এ রাজ্যে হতে দেবেন না বলে এ বার হুঁশিয়ারি দিলেন মমতা। বললেন, গলা কেটে দিলেও বাংলায় এনআরসি হবে না। সেই প্রসঙ্গ তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ভাগ্যিস আমি বীরভূমে জন্মেছিলাম! নয়তো আমাকেও বাংলাদেশি বলত। শুনে রাখুন, বাংলায় এনআরসি করতে দেব না। আমার গলা কেটে দিলেও এখানে কোনও ডিটেনশন ক্যাম্প করতে দেব না, কাউকে তাড়াব না। রোহিঙ্গা বাংলায় কোথা থেকে আসবে? রোহিঙ্গা তো আসবে মণিপুর, মিজ়োরাম, ত্রিপুরা দিয়ে। সীমান্ত, আইটিবিপি, বিএসএফ, পাসপোর্ট, ভিসা— সবই তো কেন্দ্রের হাতে। এখন দোষ দিলে হবে?’
রাজ্যে এসআইআর নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন মমতা। তাঁর অভিযোগ, ‘শুধু বাংলাতেই ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে। ভোটের আগে সরকারি কাজ বন্ধ করতে এসআইআর আনা হয়েছে। হিম্মত থাকলে দু’বছর আগে করত। এসআইআর–এর নামে বাংলাভাষী ও গর্ভবতী মহিলাকেও বাংলাদেশে পাঠানো হচ্ছে। সুপ্রিম কোর্টে এর বিরুদ্ধে মামলা করেছে রাজ্য।’

বাদ পড়া ভোটারদের জন্য শিবির

আগামী ১১ ডিসেম্বর ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ার প্রাথমিক ধাপ শেষ হবে। খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশিত হবে ১৬ ডিসেম্বর। কিন্তু সেই দিন পর্যন্ত অপেক্ষা না-করে তার আগেই বাদ পড়তে চলা ভোটারদের জন্য নথি তৈরিতে ব্লকে ব্লকে শিবির করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। বুধবার মালদহের গাজোলের জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেন, ‘১২ ডিসেম্বর থেকে ব্লকে ব্লকে ‘মে আই হেল্প ইউ’ ক্যাম্প তৈরি হবে। সেখানে আপনারা যাবেন। যাঁর যা শংসাপত্র দরকার, সেখান থেকে নিয়ে নেবেন।’ গাজোলের সভা থেকে বুধবার মমতা ইঙ্গিত দিয়েছেন, ভোটের আগে তিনি নতুন কোনও জনকল্যাণমূলক প্রকল্প ঘোষণা করতে পারেন। সভামঞ্চে তিনি তথ্য দিয়ে জানাচ্ছিলেন, কোন সামাজিক প্রকল্পে কত মানুষ সুবিধা পান। সেই সূত্রেই ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’-এর কথা বলেন তিনি। তার পরেই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আগামী দিন হয়তো আরও কিছু করতে পারি। তবে এখন যেটা আছে, সেটাই বলছি!’ মমতা জানিয়েছেন, ২০২১ সাল থেকে আগামী ভোট পর্যন্ত সময় ধরলে দেখা যাবে ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ প্রকল্পে রাজ্যের সাধারণ শ্রেণিভুক্ত মহিলারা ৬০ হাজার টাকা পেয়েছেন। তফসিলি জাতি ও উপজাতিভুক্তেরা পেয়েছেন ৭৫ হাজার টাকা।

বিহারে ভোটের আগে ১০ হাজার টাকা দেওয়াকে কটাক্ষ করে মমতা বলেন, ‘‘আমিও অঙ্ক জানি। এখানে আমরা দিই। আর ওখানে ভোটের আগে ১০ হাজার, ভোটের পরে বুলডোজ়ার! এসআইআর-এ ৪০ জন মারা গিয়েছেন। তাঁদের ২ লক্ষ টাকা দেব। হাসপাতালে যাঁরা আছেন তাঁদের ১ লক্ষ করে দেওয়া হবে। গ্রামের অনেক বাড়িতে জল পৌঁছে দিয়েছি। আরও কাজ চলছে। টাকার সংস্থান করতে পারলে আরও করে দেব। বিহারে গোদী সরকার বেছে ভোটের আগে ১০ হাজার দিল। আর যেই ভোট চলে গেল দিল বুলডোজার। হাজার মানুষকে উৎখাত করল। আপনাদের চিন্তা নেই, লক্ষ্ীর ভান্ডার পাবেন। কারও কটু কথায় পা দেবেন না। এখনও ৬ মাস বাকি আছে ভোটের। মানুষকে টাকা দেয় না উন্নয়নের জন্য। অথচ সরকার যাতে কাজ না করতে পারে তার জন্য ছমাস আগে এসআইআর করছে। আমি সব ধর্মকে সম্মান করি। মানুষের অধিকার কাড়লে মানব না…মানব না…মানব না। বাংলায় কথা বললে বাংলাদেশি? ওদের ভাষা এক আমাদের এক। এটা তো ঐতিহাসিক কারণে। বাংলা ভাষা আন্তর্জাতিক ভাষা। এক শ্রেণির মানুষের উপর রাগ। সংখ্যালঘু তাড়াও, মতুয়া তাড়াও। এসআইআর করে বিজেপি আরও গেছে। যেটুকু ছিল সব যাবে। ওদের শূন্য করে দিন। বিহারে চালাকি করে ইন্ডিপেনডেন্ট করে চারটে দাঁড় করেছিল। সোনালী খাতুনের জন্য সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছি। উনি গর্ভবতী মা। কেস করে বলেছি ফিরিয়ে আনতে হবে। পরিযায়ী শ্রমিকরা বাংলার বাইরে গেলে অত্যাচার করছে। বিজেপি বাংলা বিদ্বেষী। তাই জন্য বিদ্যাসাগর, রবীন্দ্রনাথ, রাজা রামমোহনকে অসম্মান করেন। আর আপনাদের বলি, বাংলায় কোনও ডিটেনশন ক্যাম্পে হবে না। নিজের নাম ভোটার লিস্টে তুলবেন। আমি এখনও তুলিনি, আপনারা যতক্ষণ না তুলবেন, ততক্ষণ আমিও তুলব না। কোথাও সার্ভার ডাউন করে দিচ্ছে। হেয়ারিংয়ে ডাকলে যাবেন। কারণ, নয়ত নাম কেটে দেবে আর বলবে নাগরিক নও এই দেশের। আমরা আপনাদের সাহায্য করব। আমরা ক্যাম্প করছি।’

মুর্শিদাবাদের মানুষ অশান্তি পছন্দ করেন না

বুধবার মুর্শিদাবাদের জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুর্শিদাবাদে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার বার্তা দিয়ে বলেন, ‘মুর্শিদাবাদের মানুষ অশান্তির রাজনীতির পছন্দ করেন না। মাঝে ধুলিয়ানে একটা ঘটনা ঘটেছিল। তবে আমি চলে এসেছিলাম। এরপর জঙ্গিপুরে একটা ঘটনা ঘটতে যাচ্ছিল সেইসময় ফোনে বলেছিলাম জাকিরদের, তোমরা হিন্দুদের রক্ষা করো। এটাই নিয়ম। মেজরিটিরা মাইনরিটিদের রক্ষা করবে। বাবা সাহেব আম্বেদকর নির্বাচিত হন বাংলা থেকে। এটা গর্ব। গান্ধিজী গুজরাটে জন্মগ্রহণ করলেও বাংলায় পড়ে থাকতেন। এটাই বাংলা। বাংলার গর্ব নেতাজীর ডানহাত ছিলেন শাহনাওজ খান। কয়েকদিন আগে দেখলাম, রাজ্যসভা থেকে নোটিফিকেশন দিয়েছে, বন্দে মাতরম গান গাওয়া যাবে না। যাঁরা সাম্প্রদায়িকতার রক্তের হোলি খেলছেন, তাঁরা সতর্ক থাকবেন। ছানাবড়া জিআই প্রোডাক্ট পেয়েছে পরশু দিন। আমি গর্বিত। আমাদের সময়ে প্রায় ৪০টা হয়ে গেল। সাগরদিঘি তাপবিদ্যুত কেন্দ্রে ৬৬০ মেগাওয়াট সুপার ইউনিট পাওয়ার করছি। এটা রাজ্যে সব থেকে বড়। ২০১৭ সালে ঘোষণা করেছি, আজ সম্পূর্ণ হয়েছে। এখান থেকে বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে ১০ ডিসেম্বর থেকে। খরচ হয়েছে কোটি টাকা। ২৬ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে। ভাঙন এখানে সমস্যা। প্রকৃতি আমাদের হাতে নেই। এটা কেন্দ্রের অধীনে ছিল, গঙ্গাভাঙন রোধ ও বন্যার জল নিয়ন্ত্রণ। ফরাক্কায় ড্রেজিংয়ের কথা হয়েছিল। ৭০০ কোটি দেবে বলেছিল। তা দেয়নি। আমরাও করতে পারি না। ওরাও করে না। তাই মানুষের সমস্যা হয়। ভাঙন রোধে একটা দেড় হাজার কোটির পরিকল্পনা পাঠিয়েছি এখনও উত্তর দেয়নি। নদী ভাঙনের জন্য ১৭ স্কিম চালু হয়েছে। এর জন্য ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।’

ওয়াকফ প্রসঙ্গে

ওয়াকফ সম্পত্তি নিয়ে রাজ্য সরকার এবং তৃণমূলের বিরুদ্ধে মিথ্যে প্রচার চলছে বলে অভিযোগ করে মমতা বলেন, ‘আমি জগন্নাথ ধামও যেমন করি, আমি তেমন মুসলিম বেড়িয়াল গ্রাউন্ডেও কবরস্থান করি। পুরহিতদের পাশাপাশি মোয়াজ্জেমদের ভাতা দিই। আমি লোকশিল্পীদেরও দিই। কাজেই একাজ আমরা করেছি,করব। কিছু কিছু কথা সংখ্যালঘুদের বিভ্রান্ত করছে। ওয়াকফ নিয়ে আমরা নাকি কিছু করিনি। এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা। আমরা বিধানসভায় কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে আইন পাশ করেছিলাম। জোর করে সম্পত্তি কাড়া যাবে না। এর জন্য আমায় অনেক গালিগালাজ শুনতে হয়। আমি রমজান, ইফতারে গেলে হিজাবি বলে। আমি যখন গুরুদ্বারে যাই, মাথায় কাপড় দিই। তখন তো বলেন না। আমি যতদিন বাঁচব সব ধর্মের পরম্পরা মানব। আদিবাসীর নাচের সময় ওদের ড্রেস পরি কারণ, ওদের সম্মান দিই। আমি বীরভূমে জন্মেছিলাম। বর্ডারে। নয়ত আমায়ও বাংলাদেশে বলত। ছিন্নমূলদের আমি সম্মান করি। আমার গলা কেটে দিলে ডিটেনশন ক্যাম্প করব না। তাড়াব না। বিজেপি ভাল করে জেনে রাখ। রোহিঙ্গা আমরা কীভাবে নিয়ে আসব? মিজোরাম-মণিপুর দিয়ে ঢুকবে? বর্ডারে বিএসএফ, আইটিবিপি এরা সব কেন্দ্রের। ভিতরে ভিতরে যোগাযোগ রাখবে।’

আজকের খবর