সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
তৃণমূলের রাজনৈতিক উপদেষ্টা সংস্থা আইপ্যাক-এ ইডি-র হানা কি নিছকই তদন্ত, নাকি এর পিছনে রয়েছে গভীর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র? কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের নির্দেশেই কি বিরোধীদের প্রচারের তথ্য হাতিয়ে নিতে চাইছে তদন্তকারী সংস্থা? এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ।
একটি হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটের স্ক্রিনশট (যার সত্যতা যাচাই করেনি কলকাতা সারাদিন) সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করে তিনি দাবি করেছেন, দিল্লির ইশারায় এই তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে। এই ঘটনাকে ‘বৃহত্তর ষড়যন্ত্র’ বা ‘লার্জার কন্সপিরেসি’ বলে অভিহিত করে পুলিশি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন কুণাল ঘোষ। ঘটনার সূত্রপাত কয়েকদিন আগে গত বৃহস্পতিবার। আইপ্যাকের দফতরে তল্লাশি এবং সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডি-র হানা ঘিরে রাজ্য রাজনীতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছিলেন, তল্লাশির নামে তৃণমূলের প্রচারের তথ্যভাণ্ডার চুরি করার চেষ্টা করছে বিজেপি। সেই অভিযোগের সপক্ষে কার্যত এবার ডিজিটাল প্রমাণ পেশের চেষ্টা কুণাল ঘোষের।
সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি কথোপকথনের স্ক্রিনশট পোস্ট করেছেন কুণাল ঘোষ। সেখানে ‘দাদা’ সম্বোধন করে কেউ কাউকে জানাচ্ছেন যে, ‘১৩ জন ইডি অফিসার কলকাতা যাচ্ছেন। গুলশন রাই নামে এক সাইবার এক্সপার্টও যাচ্ছেন। সিজিও কমপ্লেক্সে একটি জরুরি বৈঠক আছে।’ শেষে লেখা, ‘এ ব্যাপারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সচিব সাকেত কুমারের সঙ্গে কথা হয়েছে।’
সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি চ্যাটের ছবি প্রকাশ করেছেন কুণাল। দুই ব্যক্তির মধ্যে কথোপকথনের ওই ছবি পোস্ট করেন কুণাল, যাতে লেখা রয়েছে, ‘আমাদের সূত্র অনুযায়ী—সহকারী ও ডেপুটি ডিরেক্টর পদমর্যাদার ১৩ জন ইডি অফিসার আগামীকাল সকালে 6E 5014 এবং SG 263 নম্বর ফ্লাইটে কলকাতায় আসবেন। মহারাষ্ট্র থেকে একজন আগামীকাল দুপুরে কলকাতায় আসবেন। এছাড়াও একজন সাইবার বিশেষজ্ঞ, শ্রী গুলশন রাই, আজ রাতেই যাত্রা করবেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সচিব শ্রী সাকেত কুমারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, আগামীকাল সিজিও কমপ্লেক্সে একটি জরুরি বৈঠক নির্ধারিত রয়েছে’।
ওই পোস্টেই আইপ্যাকে ইডি তল্লাশি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কুণাল ঘোষ। তাঁর দাবি, দাদা বলে কি কোনও রাজনৈতিক ব্যক্তিকে সম্বোধন করা হল? কে কাকে তল্লাশির বিষয়টি জানাল, প্রশ্ন তুলেছেন কুণাল ঘোষ।