বিতস্তা সেন। কলকাতা সারাদিন।
দক্ষিণ কোরিয়ার সিওলের গাংনাম এলাকায় একটি লিঙ্গ বৃদ্ধির অস্ত্রোপচার যে কীভাবে একজন মানুষের জীবন এক ঝটকায় বদলে দিতে পারে, তারই ভয়াবহ উদাহরণ সামনে এল। ৩৫ বছর বয়সি এক পুরুষ রোগী, গার্লফ্রেন্ডের অনুরোধে লিঙ্গ বড় করার আশায় অস্ত্রোপচারে রাজি হয়েছিলেন। কিন্তু সেই সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত তাঁর জীবনে নেমে আসে চরম বিপর্যয় হিসেবে।
অস্ত্রোপচারের সময় ঘটে যায় মারাত্মক দুর্ঘটনা।
চিকিৎসাগত ভুলে রোগীর যৌনাঙ্গ আড়াআড়িভাবে কেটে যায়। এর ফলে তিনি স্থায়ীভাবে যৌন ক্ষমতা হারান। শুধু তাই নয়, স্বাভাবিকভাবে প্রস্রাব করার ক্ষমতাও গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। শারীরিক যন্ত্রণা তো আছেই, তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে গভীর মানসিক ট্রমা—যা হয়তো আজীবন বয়ে বেড়াতে হবে তাঁকে।
আদালতের নথি বলছে, সংশ্লিষ্ট ইউরোলজিস্ট চিকিৎসককে প্রথমে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রায় ১৩,১০০ পাউন্ড দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপর চলতি মাসে সিওলের একটি আদালত পেশাগত অবহেলার মাধ্যমে শারীরিক ক্ষতি করার দায়ে তাঁকে আরও প্রায় ৩,৬০০ পাউন্ড জরিমানা করে। যদিও চিকিৎসক এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন।
ঘটনার পেছনের চিকিৎসাগত প্রেক্ষাপটও কম জটিল নয়। ওই রোগী এর আগে দু’বার লিঙ্গ সংক্রান্ত অস্ত্রোপচার করিয়েছিলেন। আগের একটি অস্ত্রোপচারে বসানো কৃত্রিম ইমপ্লান্ট সময়ের সঙ্গে সঙ্গে লিঙ্গের ভেতরের ইরেকটাইল টিস্যু—কর্পাস ক্যাভারনোসামের সঙ্গে লেগে যায়। চিকিৎসাবিজ্ঞানে একে বলা হয় “অ্যাডহিশন”। এটি পরিচিত জটিলতা হলেও, এর ঝুঁকি আগেভাগে রোগীকে স্পষ্টভাবে জানানো অত্যন্ত জরুরি।
অভিযোগ অনুযায়ী, চিকিৎসক সেই ঝুঁকির বিষয়টি যথাযথভাবে ব্যাখ্যা করেননি। অস্ত্রোপচারের সময় তিনি কর্পাস ক্যাভারনোসামের পুরো অংশ কেটে ফেলেন এবং মূত্রনালিকে ঘিরে থাকা কর্পাস স্পঞ্জিওসামের প্রায় সবটাই ক্ষতিগ্রস্ত করেন। ফলে লিঙ্গ ও ইউরেথ্রা—দুটিই ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল স্পষ্ট। গুরুতর অ্যাডহিশনের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আগেই অস্ত্রোপচার বন্ধ করা উচিত ছিল। প্রয়োজনে সেলাই করে জটিলতা সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা যেত। কিন্তু শারীরিক গঠন পরিষ্কারভাবে বোঝা না সত্ত্বেও অস্ত্রোপচার চালিয়ে যাওয়াই এই বিপর্যয়ের মূল কারণ।
বিচার চলাকালীন চিকিৎসক দাবি করেন, তিনি রোগীকে ঝুঁকির কথা জানিয়েছিলেন এবং ইউরেথ্রা ক্ষতিগ্রস্ত হবে তা আগে থেকে অনুমান করা সম্ভব ছিল না। তবে আদালত সেই যুক্তি মানেনি। রায়ে বলা হয়, চিকিৎসক তাঁর পেশাগত দায়িত্ব ও রোগীকে সম্পূর্ণ তথ্য জানানোর নৈতিক কর্তব্য পালন করতে ব্যর্থ হয়েছেন। আদালতের মতে, অস্ত্রোপচারের পূর্ণ ঝুঁকি জানা থাকলে হয়তো রোগী এমন সিদ্ধান্ত নিতেনই না।

এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দেয়—অস্ত্রোপচার কেবল চিকিৎসকের দক্ষতার বিষয় নয়, রোগীকে সঠিক তথ্য দিয়ে সচেতন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ করে দেওয়াও সমান জরুরি। একটি ভুল সিদ্ধান্ত বা অবহেলা কীভাবে কারও পুরো জীবনটাই বদলে দিতে পারে, এই ঘটনা তার নির্মম প্রমাণ।