শোভন গায়েন। কলকাতা সারাদিন।
‘স্পিকারের জারি করা নিরাপত্তারক্ষী বিষয়ক বিজ্ঞপ্তি সব বিধায়কের জন্যই প্রযোজ্য হওয়া উচিত।’ এভাবেই রাজ্য বিধানসভার ভেতরে শাসন এবং বিরোধী দলের বিধায়কদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিধি-নিষেধ সমানভাবে প্রযোজ্য হওয়া উচিত বলে দাবি করে শুভেন্দু অধিকারীর দায়ের করা মামলায় নিজের পর্যবেক্ষণ জানালেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অমৃতা সিনহা।
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার অন্দরে বিধায়করা নিরাপত্তারক্ষী নিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন না। দেওয়া হয়েছিল এমন নির্দেশ। তার জল গড়ায় কলকাতা হাইকোর্ট পর্যন্ত। তখন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী প্রশ্ন তোলেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন নিরাপত্তারক্ষী নিয়ে প্রবেশ করেছেন? মামলাও করেন তিনি। সোমবার ছিল সেই মামলার শুনানি।
মামলাটি দায়ের করেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। বিরোধী দলনেতার বক্তব্য ছিল, অধ্যক্ষ বিধানসভায় জানিয়েছিলেন কোনও বিধায়ক নিরাপত্তারক্ষী নিয়ে বিধানসভায় ঢুকতে পারবেন না।
এরপরও মুখ্যমন্ত্রী কীভাবে নিরাপত্তারক্ষী নিয়ে প্রবেশ করেন? মামলা দায়ের করেন শুভেন্দু। বিচারপতি অমৃতা সিনহার এজলাসে চলছিল এই মামলার শুনানি। পূর্ববর্তী শুনানির সময় বিচারপতি সিনহার নির্দেশ ছিল, বিধাসভার সব বিধায়কদের জন্যই যাতে সমান নিয়ম প্রযোজ্য হয় তা নিশ্চিত করবেন সচিব। বিরোধী দলনেতার দাবি, এরপরও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিধানসভার অন্দরে নিরাপত্তারক্ষী নিয়ে প্রবেশ করেছিলেন। যাতে আদালত অবমাননা হয়েছে।
সেখানেই রাজ্যের অবস্থান স্পষ্ট করলেন অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও বিধানসভার অধ্যক্ষের পদ হল সাংবিধানিক। ফলে বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তারক্ষী নিয়ে প্রবেশ আদালত অবমাননা নয়। বিধানসভার ভিতরে নিরাপত্তারক্ষী-সহ প্রবেশ করার বিষয়ে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর দায়ের করা মামলায় এদিন রাজ্যের এজি এজলাসে বলেন, ‘এখানে চারটি সাংবিধানিক পদ রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, বিধানসভার অধ্যক্ষ, বিচারপতি এবং অ্যাডভোকেট জেনারেল। এর বাইরে কেউ নিজেকে সাংবিধানিক পদের সমান বলে দাবি করতে পারে না।’

শুনানির সময় বিচারপতি অমৃতা সিনহা জানিয়েছেন, আদালতও এই মামলার ভিতরে ঢুকতে চায় না। তবে মামলার পরবর্তী শুনানি করার আগে বিধানসভার ভিতরে মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও নিয়মের ব্যতিক্রম হওয়া উচিত নয় বলে জানান বিচারপতি। এই মামলার পরবর্তী শুনানি ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত মুলতবি থাকবে বলে জানিয়েছেন বিচারপতি।