সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
দীর্ঘ রাজনৈতিক নীরবতা কাটিয়ে ফের রাজনৈতিক ময়দানে বিরোধী নেত্রী হিসেবে মাঠে নামছেন মমতা। গত ৪ মে বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের ফল বেরোনোর পর থেকে কার্যত নিজেকে ঘরবন্দী করে ফেলেছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে এবারে প্রথমে অভিষেক এবং কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপরে শারীরিক হেনস্থার ঘটনার পর আগামী মঙ্গলবার থেকে সরাসরি ফের বিরোধী নেত্রীর ভূমিকায় মমতাকে দেখতে পাবে বাংলার মানুষ।
মঙ্গলবার দুপুরে রানী রাসমণি রোডে অবস্থান ধরনায় বসবেন বলে ঘোষণা করেছেন মমতা। বিধানসভা নির্বাচনের ফল বেরোনোর পর থেকেই যেভাবে ভোট পরবর্তী হিংসার বলি হচ্ছেন তৃণমূল নেতা কর্মীরা এবং একের পর এক তৃণমূল নেতা কর্মীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে তার প্রতিবাদ জানাতেই এই অবস্থানে বসবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
ভোটের ফল বেরনোর পর থেকে নিজেকে ঘরবন্দী করে ফেললেও শনিবার সোনারপুরে ভোট পরবর্তী হিংসায় নিহত তৃণমূল কর্মী সঞ্জু কর্মকারের বাড়িতে যাওয়ার পথে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভয়াবহ ভাবে আক্রমণ করার পরে তাঁকে বেলভিউ হাসপাতালে ভর্তি না নেওয়ায় সেখানে ছুটে যান মমতা। বেলভিউ থেকে অ্যাপোলো হাসপাতালে অভিষেককে নিয়ে ছোটা ছুটির পাশাপাশি বারে বারে সংবাদ মাধ্যমের সামনে নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন মমতা। রবিবার দুপুরে শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়েছে খবর পাওয়ার পরেই সঙ্গে সঙ্গে ছুটে যান দলনেত্রী মমতা। সন্ধ্যায় আবার অভিষেকের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে পৌঁছে যান অভিষেকের বাসভবনে।

মমতার বৈঠকে অনুপস্থিত 60 বিধায়ক
আগামী মঙ্গলবার থেকে পথে নেমে পুরোপুরি রাজনৈতিক আন্দোলন শুরু করার আগে এবারের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের টিকিটের বিজয়ী ৮০ বিধায়ককে নিজের বাসভবনে বৈঠকে ডেকেছিলেন মমতা। কিন্তু অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণভাবে এবারে মমতার ডাকা বৈঠকে উপস্থিত হলেন মাত্র ২০ বিধায়ক। ৮৫ শতাংশের বেশি বিধায়ক এদিনের মেগা বৈঠক ‘বয়কট’ করায় শেষপর্যন্ত তড়িঘড়ি বাতিলই করে দিতে হল কালীঘাটের বৈঠক। ফিরহাদ হাকিম, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বা কুণাল ঘোষের মতো হাতেগোনা কয়েকজন প্রবীণ ও হেভিওয়েট ছাড়া বেশিরভাগ বিধায়কেরই দেখা মেলেনি কালীঘাটে। একাংশের বিধায়করা শীর্ষ নেতৃত্বের ফোন এড়িয়ে চলছিলেন বলে যে খবর সকাল থেকে ভাসছিল, মাত্র ২০ জন বিধায়কের উপস্থিতিতে তা একপ্রকার সিলমোহর পেয়ে গেল।

এর মধ্যেই তড়িঘড়ি আসরে নামে তৃণমূল নেতৃত্ব। বৈঠক বাতিলের পর দলের অন্যতম প্রধান মুখ তথা রাজ্য মুখপাত্র কুণাল ঘোষ সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পাল্টা আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। কুণাল ঘোষ সাফ জানিয়েছেন, ১ জুন সোমবার রাজ্যের প্রত্যেকটি পুর অঞ্চল এবং পঞ্চায়েত এলাকায় তীব্র প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করবে তৃণমূল কংগ্রেস। কুণাল ঘোষ বলেন, সোনারপুরে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর নজিরবিহীন আক্রমণ হয়েছে। শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর আক্রমণ করা হয়েছে। এছাড়া নির্বাচন পরবর্তী সময়ে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তৃণমূল কর্মীদের ওপর লাগাতার হামলা চালানো হচ্ছে। এই সমস্ত ঘটনার প্রতিবাদে ১ জুন রাজ্যের প্রতিটা কোণায় প্রতিবাদে নামবেন কর্মীরা।