সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
মুখ পুড়ল মোহাম্মদ সেলিমের। ধুলোয় লুটিয়ে গেল বাংলায় সিপিএমের মধ্যে আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের নিয়ন্ত্রণ। ইতিহাসে প্রথমবার বাংলায় সিপিএমের জেলা কমিটি গঠন করতে গিয়ে ভোটাভুটি হল। তাতে হেরে গেলেন উত্তর ২৪ পরগনার বিদায়ী জেলা সম্পাদক মৃণাল চক্রবর্তী।
গত সপ্তাহে সিপিএমের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার সম্মেলনের শেষে জেলা কমিটি গঠন করতে ব্যর্থ হয় আলিমুদ্দিন। মধ্যমগ্রাম ও বিধান নগরের দুই সিপিএম নেতা আলিমুদ্দিনের নির্দেশ মানতে অস্বীকার করায় ভোটাভুটি হবে বলে ঠিক হয় রবিবার।
মূলত উত্তর চব্বিশ পরগনার পরপর দুইবারের জেলা সম্পাদক মৃণাল চক্রবর্তীর নেতৃত্ব মানতে অস্বীকার করে উত্তর ২৪ পরগনা সিপিএমের একটা বড় অংশ। মোঃ সেলিম বারে বারে চেষ্টা করেও সকলকে রাজি করাতে ব্যর্থ হন।
প্রসঙ্গত এবারেই প্রথমবার উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলা সিপিএমের সম্মেলনে নেই সাসপেন্ডেড সিপিএম নেতা তন্ময় ভট্টাচার্য। রাজ্যের মধ্যে যেভাবে একমাত্র উত্তর 24 পরগনায় সেলিম ও আলিমুদ্দিনকে মুখ থুবড়ে পড়তে হল তার পিছনে তন্ময় ভট্টাচার্যের ঘনিষ্ঠ অনুগামীদের বড় ভূমিকা রয়েছে বলে অনুমান আলিমুদ্দিনের।
বিদায়ী জেলা সিপিএমের কমিটিতে ৭০ জন সদস্য থাকলেও বিস্তর মতানৈক্যের মধ্যে ঠিক হয় চলতি কমিটিতে সদস্য হবেন ৭৫ জন। সত্তর ঊর্ধ্ব বয়স হওয়ার জন্য বিদায়ী কমিটির ১০ জনের নাম বাদ পড়ে। এরপর জেলা কমিটি এবং সম্পাদক মণ্ডলীর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নতুন ১৪জনের নাম মিলিয়ে মোট ৭৪জনের কমিটি হবে বলে ঠিক হয়।
পরবর্তীতে খড়দহ থেকে একজনকে জেলা কমিটিতে নেওয়া হবে জানিয়ে একটি জায়গা ফাঁকা রাখা হয়। এখানেই বাদ পড়েন সাসপেন্ডেড তন্ময় ভট্টাচার্য।
পালটা, উপস্থিত ৪৯৬ জন প্রতিনিধির মধ্যে একে একে ২৯ জন প্রতিনিধির নাম কমিটিতে নেওয়ার জন্য জমা পড়তে থাকে। কেন্দ্রীয় কমিটির নেতারা শত বুঝিয়েও কাজ না হলে শেষে কমিটি থেকে নিজের নাম প্রত্যাহার করেন প্রাক্তন বিধায়ক মানস মুখোপাধ্যায়।
এরপরই মানস মুখোপাধ্যায়কে জেলা কমিটিতে থাকার অনুরোধ জানিয়ে একে একে ২৭ জন প্রতিনিধি নিজেদের প্রার্থী পদ থেকে নাম প্রত্যাহার করে নেন। যদিও মধ্যমগ্রামে সনৎ বিশ্বাস এবং রাজারহাট নিউটাউনের সৌমেন চক্রবর্তী নিজেদের নাম প্রত্যাহার না করায় এদিন বারাসত জেলা সিপিএম কার্যালয়ে ভোটে হবে বলে ঠিক হয়।
সেইমত রবিবার ৪৮১জন প্রতিনিধি ভোটে অংশগ্রহণ করেন। দুবারের জেলা সম্পাদকই সব থেকে কম ভোট পেয়েছেন। তাঁর বদলে জেলা কমিটিতে জায়গা করে নিয়েছেন সনৎ বিশ্বাস।

নব নির্বাচিত জেলা কমিটির সম্পাদক নিবার্চনেও ভোটাভুটি একপ্রকার প্রায় নিশ্চিত। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক জেলা কমিটির সদস্য বলেন, “মৃণাল চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে এদিন ঐক্যবদ্ধ হয়ে সকলে ভোট দিয়েছে। কিন্তু বুধবার তো হবে পলাশ দাস, সোমনাথ ভট্টাচার্যের লড়াই। এই দুই গোষ্ঠীর লড়াইয়ের মাঝে আবার মানস মুখোপাধ্যায়ের নাম উঠে আসলেও কেউ অবাক হবে না।”