সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
যত গন্ডগোল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে। বাম এবং অতি বামপন্থী ছাত্রদের হাতে আক্রান্ত হলেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। অভিযোগ, শিক্ষামন্ত্রীর গাড়ির চাকার হাওয়া খুলে দেওয়া হয়েছে। মূলত, ছাত্র সংসদের নির্বাচনের দাবিকে কেন্দ্র করে এই উত্তেজনা। আহত হন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যও। বিক্ষোভ দেখাতে গিয়ে আহত এক ছাত্রও।
শনিবার বেলায় যাদবপুরের ওপেন এয়ার থিয়েটারে ওয়েবকুপার বৈঠকে যোগ দেন ব্রাত্য। সেই বৈঠক শুরু হওয়ার আগে তৈরি হয় উত্তেজনা। ওই সময় বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ ভোটের দাবিতে স্লোগান দিচ্ছিলেন বামপন্থী ছাত্র সংগঠন এসএফআই, আইসা, ডিএসএফ (ডেমোক্র্যাটিক স্টুডেন্টস’ ফ্রন্ট)-এর সদস্যেরা। তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট আটকে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। পাল্টা মানববন্ধন তৈরি করেন তৃণমূল ছাত্র পরিষদ (টিএমসিপি)-এর সদস্যেরা।
ছাত্র বিক্ষোভে আটকে থাকা অবস্থায় ব্রাত্য বসু বলেন, “এটাই হচ্ছে এই সব (বাম-অতিবাম) ছাত্র সংগঠনের গণতন্ত্র। এরাই রাস্তায় নেমে অসভ্যতা করেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ধৈর্যে বিশ্বাস করেন। গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেন। আমরা সহিষ্ণুতার পাঠ জানি। আমি ওদের বললাম আপনারা দুজন আসুন। ওরা বলল চল্লইস জন যাব। আর এতজন মিলে কথা হয়। এরপরই ওরা বাধা দেয়। আমাদের প্ররোচনা দেওয়া হচ্ছে যাতে পুলিশ ডাকি। কিন্তু সেটা করব না।”
এ দিন, বিক্ষোভ দেখাতে গিয়ে আহত হয়েছেন এক ছাত্র। জানা যাচ্ছে, ব্রাত্য বসু যে সময় গাড়ি নিয়ে বেরোচ্ছিলেন সেই সময় ওই পড়ুয়া গাড়ির তলায় শুয়ে পড়ার চেষ্টা করেন। তারপর গাড়ির উপরে উঠে যান তিনি। এরপর তৃণমূল প্রভাবিত শিক্ষক সংগঠন ওয়েবকুপার কয়েক জন্য সদস্য তাঁকে সরানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু তিনি ফের ছুটে আসেন। ফলস্বরূপ ছাত্রর মাথার একদিকে কেটে গিয়েছে। রক্তাক্ত হয়েছেন তিনি। আহত ছাত্রকে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে কেপিসি-তে। অসুস্থ আরও দুই। তাঁর সামনেই চলতে থাকে বিক্ষোভ। ওঠে ‘চোর-চোর’ এবং ‘গো ব্যাক স্লোগান’। পরে মন্ত্রীর গাড়ি এবং সঙ্গে থাকা দু’টি পাইলট কারে ভাঙচুর চালানো হয়। ভেঙে দেওয়া গাড়ির ‘লুকিং গ্লাস’ও। মন্ত্রী জানান, গাড়িতে ইট ছোড়া এবং হেনস্থার জেরে আহত হয়েছেন তিনি। প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য তিনি যান এসএসকেএম হাসপাতালের ট্রমা কেয়ার সেন্টারে। পড়ুয়াদের বিক্ষোভ থেকে রেহাই পাননি অধ্যাপকেরাও। এক সময় প্রতিবাদী পড়ুয়াদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি শুরু হয় ওয়েবকুপার সদস্যদের। যাদবপুরের অধ্যাপক তথা ওয়েবকুপার সদস্য ওমপ্রকাশ মিশ্রকে লাঠি হাতে তাড়া করেন বাম এবং অতি বাম সংগঠনের কয়েক জন পড়ুয়া।

পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তারক্ষীরা তাঁকে সরিয়ে নিয়ে যান। প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, ধস্তাধস্তির মধ্যে এক পড়ুয়ার মাথা ফেটেছে। আহত হয়েছেন দুই অধ্যাপক। এক মহিলা অধ্যাপকের শাড়ি ছেঁড়ার অভিযোগও উঠেছে আন্দোলনরত পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে। সব মিলিয়ে তুমুল উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বলেন, “ব্রাত্য বসু যখন স্পিচ দিচ্ছিলেন সেই সময় মাওবাদী-বামগুলো চেয়ার ছোড়াছুড়ি করছিল। মন্ত্রীর গাড়ি পর্যন্ত ভাঙচুর করেছে। আর এরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রও নয়। আমরা একজনকে চিহ্নিত করেছি। যে প্রেসিডেন্সির পড়ুয়া। ইচ্ছাকৃত অশান্তি তৈরির চেষ্টা চলেছে।”

বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বেরোনোর আগে ছাত্রবিক্ষোভ সম্পর্কে ব্রাত্য বলেন, ‘এই গুন্ডামি চলতে পারে না। পড়ুয়াদের চার জন প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলতে পারি। কিন্তু সবাই মিলে গুন্ডামি করলে মুশকিল। তবে আমি কোনও প্ররোচনায় পা দেব না। যাঁরা এগুলি করছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে উপাচার্য পদক্ষেপ করবেন।’ পরে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে বিশৃঙ্খলা প্রসঙ্গে ব্রাত্য বলেন, ‘এটা যদি উত্তরপ্রদেশে হত, কোনও ছাত্র সংগঠন এই কাজ করতে পারত? আজকের যে ঘটনা, আমরা চাইলেই পুলিশ ডাকতে পারতম। কিন্তু আমি বারণ করেছি, শিক্ষাঙ্গনে যেন এক জনও পুলিশ না প্রবেশ করে।’ এর পাশাপাশি শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘যাঁরা আজ অধ্যাপকদের উপর আক্রমণ করছেন, তাঁরা শিক্ষাক্ষেত্রে গৈরিকীকরণের বিরুদ্ধে কটা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন?’ তাঁরা তৃণমূলের অধ্যাপকদের উপর আঘাত করতে চান, কিন্তু বিজেপির ব্যাপারে তাঁরা নিশ্চুপ থাকেন।’