সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
মাত্র কয়েকদিন আগেই খাস কলকাতা শহরে ট্যাংরার দে পরিবার সপরিবারে আত্মহত্যা করতে গিয়েছিল। পরিবারের তিন মহিলা মারা গেলেও বেঁচে যান পরিবারের তিন পুরুষ সদস্য। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবারে খাস কলকাতায় হালতুতে আরো একটি পরিবার আত্মহত্যা করল নির্মমভাবে। হালতুতে একটি বাড়িতে মিলল এক পরিবারের ৩ জনের মৃতদেহ। তিন জনের মধ্যে রয়েছেন স্বামী স্ত্রী ও তাদের আড়াই বছরের সন্তান। তার থেকেও ভয়ংকর ঘরের দেওয়ালে লেখা রয়েছে পরিবারের আত্মহত্যার কারণ হিসেবে সুইসাইড নোট। পুলিশ সূত্রে খবর মৃতরা হলেন সোমনাথ রায় (৪০), সুমিত্রা রায় (৩৫) ও দেড় বছরের রুদ্রনীল রায়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার বিকেলে শেষবার দেখা গিয়েছিল পরিবারের ৩ জনকে। পুলিশ সূত্রে খবর, কয়েকদিন ধরে বাড়িতে পাওনাদারদের আনাগোনা চলছিল। তাই আর্থিক চাপের মধ্যে ছিল পরিবার, এটা স্পষ্ট। দেনার ভারেই কি তবে শিশুসন্তানকে মেরে আত্মঘাতী বাবা-মা? নাকি এর পিছনে ছিল আরও কোনও কারণ ? ঘটনাস্থল থেকে মিলেছে একটি সুইসাইড নোটও।
পুলিশ সূত্রে খবর, ঘরের একদিকে বাচ্চাকে কোলে নিয়ে বাবার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়েছে। অন্যদিকে দেওয়ালের দিকে মুখ করে ঝুলছিল মায়ের দেহ! প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের ধারণা, দেড় বছরের শিশুকে খুন করে আত্মঘাতী হয়েছেন বাবা। এখন প্রশ্ন, মহিলাও কি আত্মঘাতী হয়েছেন, নাকি তাঁকে খুন করা হয়েছিল? তা জানা যাবে ময়নাতদন্তের পরই। বাবার শরীরের সঙ্গে শিশুর দেহটি বাধা ছিল।
অন্যদিকে, স্ত্রীর বাপের বাড়ির অভিযোগ, সোমনাথের মামা অর্থাৎ সুমিত্রার মামাশ্বশুর তাদের ওপরে অত্যাচার করত, ছিল পারিবারিক সম্পত্তিগত বিবাদও। সাম্প্রতি ট্যাক্সের বিল জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে ঝামেলাও হয় নিজেদের মধ্যে, দাবি প্রতিবেশীদের। সোমনাথ রায়ের মামা, মামী এবং মাসিকে ইতিমধ্যেই আটক করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে কসবা থানায়।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমনাথ রায়ের দিদা স্বাধীনতা সংগ্রামীদের যে পেনশন দেওয়া হয়, সেই পেনশন পেতেন। এখনও সেই পেনশনের টাকা পান প্রতি মাসে। এই নিয়েও মামাদের সঙ্গে বিবাদ চলত দীর্ঘদিন ধরে। পাশাপাশি, মৃতের মামা ট্রাফিক পুলিশের কর্মরত ছিল, এখন অবসরপ্রাপ্ত। তিন জনকেই কসবা থানার পুলিশ আটক করে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে গিয়েছে কসবা থানায়। সোমনাথ রায় আত্মহত্যা করার আগে দেওয়ালে লিখে গিয়েছেন, তাঁর মৃত্যুর জন্য মামা এবং মামী দায়ী। তবে কেন তারা মামা বাড়িতে থাকতেন, পরিবারে আর কে কে রয়েছেন, জানতে চলছে জিজ্ঞাসাবাদ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ইউনিয়নের কাছ থেকে আট হাজার টাকার লোন নিয়েছিল সোমনাথ রায়। সেই টাকা সোমবার রাতে শোধ করে দেন। আরও একজনের কাছে ১০,০০০ টাকা তিনি নিয়েছিলেন, সেই টাকাও তিনি শোধ করেন। তার সহকর্মী জানান, দীর্ঘদিন ধরে মামা-মামী অত্যাচার করত, এমন কথা তিনি জানাতেন তাঁদের।