শোভন গায়েন। কলকাতা সারাদিন।
“বীরভূমের জেলার দেউচা-পাঁচামিতে স্থানীয় আদিবাসী মা বোন ভাইদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন কে দমন করতে রাজ্য সরকারের রেজিস্ট্রার্ড গুণ্ডা (পুলিশ) বাহিনীকে লেলিয়ে দেওয়া হয়েছে।” বৃহস্পতিবার সন্ধ্যেবেলা এমন বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলন থেকে দেউচা-পাচামিতে কয়লা খনির খনন কার্য সূচনার কথা ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার পরেও জল, জঙ্গল, জমির অধিকার ছাড়তে নারাজ স্থানীয় মানুষজন। বিক্ষোভ শুরু করেন তাঁরা। বিক্ষোভকারীদের অধিকাংশই আদিবাসী। কোনও রকমে বিক্ষোভ সামাল দিয়ে ৭ ফেব্রুয়ারি রাতের অন্ধকারে মুখ্যমন্ত্রীর মান বাঁচাতে শুরু হয় দেউচায় খননকাজ। কিন্তু আন্দোলনের জেরে ফের বন্ধ খননকাজ।
কয়লাখনি এলাকায় চড়কা কেটে আন্দোলন শুরু করেছে আদিবাসীরা। তাদের বিক্ষোভের জেরে টানা ৩ দিন ধরে বন্ধ দেউচায়-পাঁচামির খনন কাজ। আদিবাদীদের ধারাবাহিক আন্দোলনের আঁচ যাতে ছড়িয়ে পড়তে না পারে সেই জন্য দেউচা-পাঁচামিতে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ইন্টারনেট পরিষেবা। বৃহস্পতিবার বোলপুর থেকে দেউচা-পাঁচামি যাচ্ছিলেন আদিবাসী নেতারা আদিবাসীরা। খবর পেয়ে পুলিশ তাদের থানায় ডেকে আটকে রাখে বলে অভিযোগ। সব মিলিয়ে বিশ্বের দ্বিতীয় ও এশিয়া সর্ববৃহৎ প্রস্তাবিত কয়লা খনির কাজ তিনদিন ধরে বন্ধ।
এই প্রসঙ্গে বিজেপির বীরভূম সাংগঠনিক জেলা সভাপতি ধ্রুব সাহা বলেন, “আমরা শিল্পের বিরোধী নই। তবে শিল্পের নামে আদিবাসীদের জল, জমি ও জঙ্গলের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত করে, চাকরি থেকে বঞ্চিত করে রাজ্যসভার সাংসদ তাঁর নিজের লোকেদের ঢুকিয়ে দিচ্ছেন। কয়লা শিল্পের নামে পাথর তোলার পরিকল্পনা করা হয়েছে। তার জন্য আদিবাসী সমাজের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে। এই আন্দোলন যাতে বাইরে ছড়িয়ে না পড়ে তার জন্য ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।”
অন্যদিকে গোটা বিষয়টি জানার পরে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী নিজের এক্স হ্যান্ডেল এ লিখেছেন, “বীরভূমের জেলার দেউচা-পাঁচামি তে স্থানীয় আদিবাসী মা বোন ভাইদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন কে দমন করতে রাজ্য সরকারের রেজিস্ট্রার্ড গুণ্ডা (পুলিশ) বাহিনী কে লেলিয়ে দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশ অনুসারে প্রশাসন ব্যাপক অত্যাচার শুরু করেছে। এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবা বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। অলিখিত ভাবে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার 163 ধারা লাগু করেছে এই আদিবাসী বিরোধী সরকার ও তার দলদাস প্রশাসন। বাইরে থেকে এলাকায় কাউকে প্রবেশ করতে বাধা দেওয়া হচ্ছে।

জল জঙ্গল জমির অধিকারের এই লড়াইয়ে বিরোধী দলনেতা হিসেবে আমি সর্বদা পাশে আছি ও তাঁদের এই অধিকারের লড়াইকে আমি কুর্নিশ জানাই। হুল জোহার।”