সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
শোকজের জবাবে অসন্তুষ্ট দল। তাই এবারে আরো কঠোর অবস্থান নিল তৃণমূল। শুভেন্দুকে ঠুসে দেওয়া মন্তব্যে দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে শো কজ করা হয়েছিল ভরতপুরের তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ূন কবীরকে। কিন্তু শো কজের জবাবে নিজ অবস্থানেই হুমায়ূন অনড় থেকেছেন তিনি। শোকজের জবাবে ক্ষমা প্রার্থনা না করায় স্বাভাবিকভাবেই তাঁর উপর অসন্তুষ্ট দল।
সোমবার বিধানসভায় তৃণমূলের শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির বৈঠক বসে। বৈঠকে বসেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস ও চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যরা। এদিকে নিজ বক্তব্যেই অনড় থাকার কথা জানান হুমায়ূনও। বৈঠকে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় জানিয়ে দেন, “সব রাজনৈতিক দলের কিছু মতাদর্শ আছে। হুমায়ূন এমন কিছু বারবার বলছে যা দলের আদর্শের পরিপন্থী। ও বলছে ও যা বলেছে সেটা ওর ব্যক্তিগত জায়গা থেকে।”
শোভনদেব আরও জানান, “একজন বিধায়ক হয়ে হুমায়ূন ব্যক্তিগতভাবে এটা বলতে পারে না। ও শোকজ জবাবে যা বলেছে তা সন্তোষজনক নয়। ও বলেছে এটা ওর জাতের ব্যাপার। কিন্তু এখানে জাতের কথা এলে সংবিধানকে অবজ্ঞা করা হয়। হুমায়ূনকে কাল ডেকে পাঠানো হয়েছে। ওকে শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির সামনে হাজিরা দিতে হবে। আমরা ওকে কিছু ডাইরেকটিভ দেব। সেগুলো মানতেই হবে।”
দলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে সেই হুমায়ুনকে শোকজ করা হয়। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জবাবও দিয়ে দেন বিধায়ক। তবে সংবাদমাধ্যমে তিনি বারবার দাবি করেন, তিনি দলীয় বিধায়ক হিসেবে নয়, একজন মানুষ হিসেবে ওই মন্তব্য করেছেন। তাঁর কথায়, “আমি একজন মুসলিম মায়ের পেটে জন্মেছি। তখন তো তৃণমূলই ছিল না।” এদিকে, দলীয় নেতৃত্বের স্পষ্ট দাবি, বিধায়ক হিসেবে এভাবে কথা বলতে পারেন না হুমায়ুন। তাই তাঁকে এবার সশরীরে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিন বিধানসভার বাইরে হুমায়ুন অবশ্য বলেন, দল যা শাস্তি দেবে মেনে নেবেন। কিন্তু তাঁর শো কজের জবাবে দল যে অসন্তুষ্ট, সে কথা তিনি শোনেনইনি বলে দাবি হুমায়ুন কবীরের। তৃণমূল বিধায়ক বলেন, “দু’বার শোকজ তো আমায় বিধানসভার শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটি করেছে। বিধানসভার অলিন্দে আমি কোন শৃঙ্খলা ভঙ্গটা করেছি? চিঠিতে তো তার একটা কথাও উল্লেখই নেই।”
উল্টে হুমায়ুন আরও বলেন, “আমি যেমন ঠুসে দেব বলেছি, সিদ্দিকুল্লা সাহেব বলেছেন ঠ্যাং ভেঙে দেওয়া হবে। শওকত মোল্লা বলেছেন বাড়ি গিয়ে কিছু করা হবে। তাহলে সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী, শওকত মোল্লা, ফিরহাদ হাকিম, কল্যাণ ব্যানার্জি, তাদের কিছু নেই? আমাকে ৬ মাসে ২ বার শোকজ করা হয়েছে। আমি বিচলিত নই, চিন্তিতও নই, কোনও টেনশনও আমার নেই।” বিধানসভার টিকিট কি তবে তিনি পাবেন না? যদিও এ প্রশ্নের উত্তর দিতে নারাজ হুমায়ুন।
প্রসঙ্গত, বিধানসভার বাইরে দাঁড়িয়ে তৃণমূলকে নিশানা করে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “তৃণমূল বাংলার হিন্দুদের উপড়ে ফেলতে চাইছে। ওদের দলের যে সব মুসলিম বিধায়ক জিতে আসবে তাদের চ্যাংদোলা করে ১০ মাস পরে এই রাস্তায় ফেলব।” এদিকে শুভেন্দুকে আক্রমণ শানাতে গিয়ে এককাঠি উপরে উঠে হুমকি দিয়েছেন তৃণমূলের বিধায়ক হুমায়ূন কবীর।
হুমায়ূন বলেন, ‘উনি যদি মারতে আসেন তাহলে আমরা কি রসগোল্লা খাওয়াবো নাকি? মুসলিম বিধায়কদের তিনি অসম্মান করবেন, আছাড় মেরে রাস্তায় ফেলার কথা বলবেন, আর তাঁকে রসগোল্লা খাওয়াবো না। যা জবাব দেওয়ার তাই দেওয়া হবে। উনি আছাড় মারার কথা বলেছেন, আমি ঠুসে দেব।’ তাতেই তুঙ্গে উঠে বিতর্ক।