শোভন গায়েন। কলকাতা সারাদিন।
কলকাতা হাইকোর্টের পূর্ব নির্দেশ অনুযায়ী, আজ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মুর্শিদাবাদের কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন থাকার কথা ছিল। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছিলেন, ১৭ তারিখের পর কী হবে! কে দেবে নিরাপত্তা! অবশেষে হাইকোর্টের নির্দেশে মিলল স্বস্তি। বাড়ানো হল কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের মেয়াদ। বৃহস্পতিবার বিচারপতি সৌমেন সেনের ডিভিশন বেঞ্চ সেই নির্দেশ দিয়েছে। রাজ্যের তরফেও কোনও আপত্তি জানানো হয়নি।
এদিন আদালত পরামর্শ দিয়েছে, যাদের মৃত্যু হয়েছে, তাদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। পরীক্ষা রয়েছে, ফলে স্কুল যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেদিকেও নজর দেওয়ার কথা বলেছে আদালত। ডিভিশন বেঞ্চ আরও বলেছে, কোনও উস্কানিমূলক বক্তব্য রাখা যাবে না।
রাজ্যের তরফে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “যারা ঘরছাড়া আছে, তাদের লিস্ট দেওয়া হোক। আমি দায়িত্ব নিয়ে তাদের বাড়ি ফেরাব। প্রায় ৪০ শতাংশ দোকান খুলে গিয়েছে। সবজি বাজার খোলা আছে।” তাঁর অভিযোগ, উত্তর প্রদেশের ছবি কলকাতার বলে আপলোড করা হয়েছে। মুর্শিদাবাদে আর নতুন কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি বলেও জানিয়েছেন তিনি।
মামলাকারীদের পক্ষের অন্যতম আইনজীবী প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়াল জানিয়েছেন, ৯০টি পরিবারের মধ্যে মাত্র ৬ জন ফিরে গিয়েছে তাদের বাড়িতে। এই প্রসঙ্গে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌমেন সেন বলেন, “কোন স্কিম নিয়েছেন, ঘরছাড়াদের পুনরুদ্ধার করার জন্য?” বিচারপতি আরও বলেন, একটা কমিটি গড়ে দেওয়া যায়। আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল ঘরে ফিরিয়ে দেওয়া। আদালতে পরবর্তী শুনানি পর্যন্ত বাহিনী মোতায়েন রাখা হচ্ছে।
অন্যদিকে, পরিকল্পিত জঙ্গি হামলা চালানো হয়েছে মুর্শিদাবাদে! বিএসএফ-কে লক্ষ্য করে পেট্রোল বোমা মারা হয়েছে। সেখানকার মানুষ আক্রান্ত, তিনজনের মৃত্যুও হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে এনআইএ তদন্তই ন্যায্য হবে। বৃহস্পতিবার মুর্শিদাবাদের ঘটনার ইস্যুতে কলকাতা হাইকোর্টে মামলার শুনানিতে এমনই যুক্তি দেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর আইনজীবী। তাঁর স্পষ্ট অভিযোগ, মুর্শিদাবাদে যে ঘটনা ঘটেছে তাতে রাজ্যে পুলিশের তদন্ত নিয়ে সন্দেহ আছে।
মুর্শিদাবাদে অশান্তির পিছনে বাংলাদেশ-যোগ রয়েছে বলেও দাবি করেছেন শুভেন্দু অধিকারীর আইনজীবী বিল্বদল ভট্টাচার্য। তাঁর বক্তব্য, মালদহ, মোথাবাড়ির পর মুর্শিদাবাদ, হাওড়া, আমতলা… পর পর একই ঘটনা। বিষয়টি একদমই পরিষ্কার যে গোটাটাই পরিকল্পিত। আর এইসব ঘটনায় বাংলাদেশের যোগসূত্র রয়েছে। সেখান থেকেই লোক এসে এই কাণ্ড ঘটিয়েছে।
এসজি অশোক চক্রবর্তী আদালতে জানান, শুভেন্দু অধিকারীর আইনজীবীর সঙ্গে তিনি সহমত। তাঁর বক্তব্য, রাজ্যে সরকারের পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রককে বিষয়টি জানানো উচিত ছিল, কিন্তু তা তারা করেনি। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক যদি মনে করে তাহলে সরাসরি তারা এনআইএ তদন্তের নির্দেশ দিতেই পারে। এদিকে এনআইএ-র আইনজীবী অরুণ কুমার মাইতি জানান, তাঁদের তরফ থেকে প্রাথমিক একটি রিপোর্ট জমা দেওয়া যেতে পারে, তদন্তে হস্তান্তর না করে।