শোভন গায়েন। কলকাতা সারাদিন।
“তিন দিন ধরে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সে সফর সেরেছেন, তা একেবারে দিশাহীন কর্মসূচি।” এভাবেই আজ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উত্তরবঙ্গ সফর নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
গতকাল মুখ্যমন্ত্রী উত্তরবঙ্গ থেকে ফিরে এলেও আজ কলকাতা বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “ধন্যবাদ জানাব যে কয়েকটা ব্যবসায়ী সংগঠন, কোচবিহার এবং অন্যান্য জায়গার পুরসভা পঞ্চায়েতগুলোর জুলুমের কথা তুলে ধরেছেন। কেউ বলেছেন, নাম পরিবর্তন করার জন্য আগে দু’হাজার টাকা লাগত, এখন পাঁচ লক্ষ টাকা নেয়। কেউ বলেছেন, আগে ট্রেড লাইসেন্স করতে ৭০০টাকা দিতে হত, এখন ৭০ হাজার টাকা নেয়। কেউ মুখ্যমন্ত্রীকে বলেছেন, ইলেকট্রিক বিল যা করে দিয়েছেন তাতে ছোট ব্যবসা চলবে কী করে। তার উত্তরে রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান বলেছেন, এসব কথা রাখুন, শুনব না। আপনাদের জন্য আমি অনেক করে দিয়েছি।”
এর পরেই উত্তরবঙ্গের চা বাগান গুলি ধ্বংসের জন্য সিপিএমের পাশাপাশি মমতাকেও দায়ী করে শুভেন্দুর অভিযোগ, চা বাগানগুলো বেসরকারিকরণ করে মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের হাতে তুলে দিয়েছেন। সিপিএম-এর মতো চা বাগানগুলো ধ্বংস করছেন মমতা।”
প্রসঙ্গত, গতকাল শুধু পুরসভাগুলি নয়, মুখ্যমন্ত্রীর নিশানায় ছিল গ্রাম পঞ্চায়েতও। বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “পঞ্চায়েতগুলি অবাধে বাড়ি, দোকান করে নেওয়ার অনুমতি দিচ্ছে। আগুন নেভানোর ব্যবস্থা থাকছে না। দমকল ঢুকতে পারছে না। এজন্য একটা সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন করে দেওয়া হয়েছে। অনেকেই তা মানছে না। পঞ্চায়েতের পাশাপাশি বিডিওরা বিষয়টি লক্ষ্য রাখবেন।”
আজ তিরঙ্গা যাত্রার জন্য শিলিগুড়িতে পৌঁছে সামসেরগঞ্জের ঘটনা প্রসঙ্গে শুভেন্দু আবার বলেন, “এপ্লিকেন্ট আমি, প্রধান বিচারপতি ছুটির দিনে হাইকোর্ট খুলেছিলেন। ধুলিয়ান শামসেরগঞ্জের হিন্দুদের বাঁচানোর জন্য আমাকে হাইকোর্টে যেতে হয়েছিল। এবং হাইকোর্টের সিট ও কমিটি গঠন করেছিল। সিটের রিপোর্টে পরিষ্কার সত্য উঠে এসেছে। পুলিশ চার ঘন্টা ধরে ফোন ধরেননি।

কোন রাজ্যে আমরা বসবাস করছি। তৃণমূলের নেতা মেহবুব আলম এবং বিধায়কের লিডারশিপের দাঙ্গা সংগঠিত হয়েছে। এই দুটো শব্দই যথেষ্ট। যা যা করার করব আমরা। উচ্চতর আদালতে ভিকটিমরা গেছেন। যে রিপোর্টটা সামনে এসেছে এবং লাস্ট ১৫ই মে যে অর্ডার সেখানে রাজ্যে পুলিশ বলে কিছু নেই প্রমাণিত। ওখানে পুলিশ চার ঘন্টা ধরে ফোন ধরেনি। বিএসএফ যদি না থাকতো তাহলে হরো গোবিন্দ দাস চন্দন দাস নয় শত শত হিন্দুর দেহ পাওয়া যেত। আমি নিজে প্রত্যেকটি বাড়ি ঘুরেছি।সেই বাড়িগুলোতে সাধারণত পোষাক থেকে শুরু করে নুন রাখার বাটি রাখেনি। সমস্তটাই ধুলিস্যাৎ করে দিয়েছে আগুন ধরিয়ে। এর জন্য দায়ী হচ্ছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দিদি তার ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতি করার জন্য পশ্চিমবাংলায় হিন্দুদের এই দুরবস্থা করেছে।”