সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
“আমার দেশের শাসকদলের সঙ্গে আমার রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে। আমি তাঁদের সঙ্গে সেখানে লড়াইয়ের ময়দানে থাকতেই পারি। কিন্তু যখন আমার দেশের জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন উঠে আসে, তখন দেশের স্বার্থই উপরে থাকে।” এভাবেই আন্তর্জাতিক মঞ্চে রাজনৈতিকভাবে ঐক্যবদ্ধ ভারতের এক নতুন ছবি তুলে ধরলেন। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বিজেপির সঙ্গে তৃণমূলের রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও দেশের নিরাপত্তা অথবা সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে যে তৃণমূল বরাবর কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বিদেশ নীতিকে সমর্থন করবে তা আগেই একাধিক বার প্রকাশ্যে জানিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো তথা বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতার সেই আদর্শই এবারে আন্তর্জাতিক মঞ্চে স্পষ্ট করে দিয়ে ভারতের পার্লামেন্টের পক্ষ থেকে বহুদলীয় সাংসদ প্রতিনিধি দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়ে দিলেন, “আমার রাজনৈতিক স্বার্থ জাতীয় স্বার্থের থেকে বড় নয়।”
সন্ত্রাসবাদের প্রশ্নে বিশ্ব দরবারে পাকিস্তানকে কোণঠাসা করতে তত্পর কেন্দ্র। ৪৮ জন সাংসদের প্রতিনিধি দল এখন ঘুরে বেড়াচ্ছে বিভিন্ন দেশে। সেই দলের তৃণমূলের প্রতিনিধি অভিষেক। জাপান, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, কোরিয়া ঘুরে সিঙ্গাপুরে পৌঁছেছেন অভিষেকরা। সিঙ্গাপুরে অভিষেক
বলেন, “আপনি আর কোথায় এটি দেখতে পান? আমি বলতে চাইছি, আমরা আপনাকে প্রমাণ হিসেবে আর কী দিতে পারি? আপনার এটি আরও এগিয়ে নেওয়া উচিত, আপনার সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে এটি চিহ্নিত করা উচিত। আমি বিশ্বাস করি যে আজকের সময়ে সোশ্যাল মিডিয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং টুইটার থ্রেড কূটনৈতিক তারের চেয়ে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। আমাদেরও আমাদের অবস্থান উন্নত করা উচিত।”

সিঙ্গাপুরের কাছে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করার পরে ভারতীয় সাংসদ প্রতিনিধি দলের সদস্য হিসেবে অভিষেকরা পৌঁছে গিয়েছেন ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায়।