সুষমা পাল মন্ডল। কলকাতা সারাদিন।
সিঙ্গুরের তিক্ততা ভুলে মমতার বাংলায় ফিরে এলো টাটা। বছর ঘুরলেই বাংলায় যেখানে 2026 সালের বিধানসভা নির্বাচন তার ঠিক আগেই ২০০৬ সালের সিঙ্গুর পর্বকে অতীতের গর্ভে ঠেলে দিয়ে মমতার সঙ্গে দেখা করতে নবান্ন ছুটে এলেন এয়ার ইন্ডিয়ার মালিকানা কিনে নেওয়া টাটা সন্স এবং ভারতের বৃহত্তম শিল্পগোষ্ঠী টাটার চেয়ারম্যান নটরাজন চন্দ্রশেখরন।
বাংলায় বিনিয়োগের জন্য আগ্ৰহী টাটা গোষ্ঠী। বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করতে আগ্রহ প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে নবান্নে বৈঠক করলেন টাটা গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান এন চন্দ্রশেখরন।
বুধবার এক্স হ্যান্ডলে ছবি-সহ একথা জানানো হয়েছে তৃণমূলের তরফে। টাটা গোষ্ঠীর চেয়ারম্যানের সঙ্গে মমতার বৈঠকের পরই রাজ্যে নতুন বিনিয়োগের জল্পনা জোরালো হয়েছে।
এক্স হ্যান্ডলে তৃণমূলের তরফে জানানো হয়েছে, ‘বাংলার শিল্পায়নে ও সুযোগসুবিধা নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে…।’ টাটা গোষ্ঠীর চেয়ারম্যানকে মমতার উত্তরীয় পরানোর ছবি প্রকাশ করা হয়েছে। বৈঠকে মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ-সহ রাজ্য প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গিয়েছে।
চলতি বছরের বিশ্ব বঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলনে টাটা সন্সের চেয়ারম্যান এন চন্দ্রশেখরন নিজে আসতে না পারলেও প্রতিনিধিকে পাঠিয়েছিলেন। পরে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তিনি ফোনে কথাও বলেন। সেসময় রাজ্যে টাটা সন্স বিনিয়োগের বার্তা দিয়েছিল। আর বুধবার মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করতে চন্দ্রশেখরন কলকাতায় এলেন। এদিন বিকেলে নবান্নে তাঁকে উত্তরীয় পরিয়ে স্বাগত জানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপর তাঁরা একান্তে বৈঠক করেন। মনে করা হচ্ছে, বাংলায় শিল্পস্থাপন নিয়ে দু’জনের মধ্যে কথা হয়েছে। আর তাতে ফের টাটাকে নিয়ে আশা বাড়ছে।
প্রসঙ্গত, নিউ টাউনে টাটা মেডিসিটি প্রকল্প ইতিমধ্যেই দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে। এবার সেই তালিকায় আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প যোগ হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সূত্রের খবর, হাওড়া, পূর্ব মেদিনীপুর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা— এই তিন জেলায় শিল্পপ্রস্তাব নিয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে টাটা গোষ্ঠী।

অর্থনীতিবিদদের মতে, রাজ্যে এই ধরনের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ও শিল্পপ্রস্তাব রাজ্যের আর্থিক ভিত মজবুত করতে সাহায্য করবে। পাশাপাশি, নতুন কর্মসংস্থানের দুয়ারও খুলবে বলেই মত শিল্পমহলের।