সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
ক্যানিংয়ে কেলেঙ্কারি! কসবায় সাউথ ক্যালকাটা ল কলেজে আইনের ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ থেকে শুরু করে জোকায় ম্যানেজমেন্ট স্কুলের ছাত্রীকে ছেলেদের হোস্টেলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ ঘিরে যখন বাংলা উত্তাল, তার মধ্যেই ক্যানিং এর নাম করা বেসরকারি স্কুলের প্রিন্সিপালকে স্কুল থেকেই ধরে নিয়ে গেল পুলিশ।
নাবালিকা ছাত্রীকে দিনের পর দিন – “রাত হলেই অশালীন প্রস্তাব দিয়ে অশ্লীল ভাষায় হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ পাঠাতেন প্রিন্সিপাল।” অভিযোগ এমনটাই।
আটক অভিযুক্ত। ঘটনাটি ঘটেছে ক্যানিংয়ের একটি বেসরকারি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে। অভিযোগ সামনে আসতেই অভিযুক্ত প্রিন্সিপাল লক্ষণ লামাকে আটক করেছে ক্যানিং থানার পুলিশ।
সেখানেই নাবালিকা ছাত্রীকে অশ্লীল মেসেজ করার অভিযোগ স্কুলের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে ক্যানিং থানা এলাকায়। অভিযোগ সামনে আসতেই অভিযুক্ত অধ্যক্ষকে আটক করেছে ক্যানিং থানার পুলিশ। অভিযোগ খতিয়ে দেখে অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ক্যানিং পশ্চিমের বিধায়ক পরেশরাম দাসও।

নাবালিকার পরিবারের দাবি, ওই অধ্যক্ষ একাধিক নোংরা মেসেজ পাঠায় তাঁকে। দিনের পর দিন এই কাণ্ড ঘটিয়ে চলেছেন তিনি। এমনকী তিনি হুমকি দেন এই বিষয়ে কাউকে জানালে পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেওয়া হবে। এই নিয়ে ভয়ও দেখান তিনি।
সম্প্রতি স্কুল ছাত্রী মাধ্যমিক পরীক্ষায় পাশ করলে এ বিষয়ে মা-বাবাকে জানায়। এরপর সেই ছাত্রীর কাছে পাঠানো মেসেজ দেখে ক্ষোভে ফেটে পড়েন ছাত্রীর পরিবার।
শনিবার এ বিষয়ে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেয় অভিযোগকারিনীর পরিবার। উত্তেজনা ছড়ায় স্কুল চত্বরেও। স্কুলে এসে পৌঁছয় ক্যানিং থানার পুলিশ।
স্কুল থেকে প্রিন্সিপালকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এই বিষয় সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খোলেননি স্কুলের প্রিন্সিপাল। শুধু হেসে-হেসে বললেন, “সরি…সরি।”
বিধায়ক পরেশরাম দাস বলেন, “এটা একটা সিবিএসসি বোর্ডের স্কুল। ওই স্কুলের বর্তমান যিনি অধ্যক্ষ তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ। তিনি ছাত্রীদের খারাপ-খারাপ মেসেজ করেন। নোংরা নোংরা কথা বলেন।”
অপরদিকে অভিযোগকারিনীর বাবা বলেন, “অধ্যক্ষ গত এক বছর ধরে আমার মেয়েকে যৌন হেনস্থা করে যাচ্ছেন। ও বোর্ডের পরীক্ষা দেবেন বলে আমরা ধৈর্য ধরে ছিলাম এতদিন। এবার আমরা স্টেপ নেওয়া শুরু করলাম। বর্তমানে উনি অভিযোগ অস্বীকার করলেও আমরা ছেড়ে কথা বলব না।”

বর্তমানে অভিযুক্ত অধ্যক্ষকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ছাত্রী ও পরিবারের তরফে দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ধর্ষণ ও পকসো আইনে মামলা রুজু করেছে। পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে ক্যানিং থানার একটি বিশেষ দল।

এই ঘটনার পর স্থানীয় মানুষজনের দাবি, স্কুলে সিসিটিভি, কাউন্সেলিং এবং অভিযোগ জানানোয় সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা থাকা উচিত। ন্যায্য বিচার না পাওয়া পর্যন্ত ছাত্রীর পরিবার লড়াই চালিয়ে যাবে বলে জানিয়েছে।