সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
রাজ্যে দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের আদলে তৈরি হবে দুর্গাঙ্গন। শহিদ দিবসের ধর্মতলার সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেছিলেন এ কথা। এবার তা বাস্তবায়নের পথে। সোমবার রাজ্য মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পেল এই প্রকল্প। মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস জানান, দুর্গাঙ্গন তৈরির জন্য একটি ট্রাস্ট গঠন করা হচ্ছে। ট্রাস্টের সদস্যদের নাম পরে ঘোষণা করা হবে। এই প্রকল্পে সহযোগিতা করবে হিডকো ও পর্যটন দফতর। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘোষণা অনুযায়ী, এটি রাজ্যের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্র বা সাংস্কৃতিক তীর্থস্থান হিসেবে গড়ে উঠবে।
তবে কোথায় এই দুর্গাঙ্গন তৈরি হবে, তা এখনও ঠিক হয়নি। মন্ত্রী জানান, সব কিছু চূড়ান্ত হওয়ার পর বাজেট নির্ধারণ করা হবে। অরূপ বিশ্বাসের কথায়, মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন রাজ্যে দুর্গাঙ্গন হবে এবং সেটা হচ্ছেও। আমাদের মুখ্যমন্ত্রী যা বলেন, তাই করেন। শহিদ দিবসে মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, জগন্নাথধামের মতো দুর্গাঙ্গন তৈরি করব, যাতে মানুষ সারা বছর সেখানে আসতে পারেন। বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজো ইতিমধ্যেই ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পেয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর পরিকল্পনা, সেই সম্মানকে মর্যাদা দিতেই রাজ্যে হবে এই দুর্গাঙ্গন।
নবান্ন সূত্রে খবর, পর্যটন দফতর এবং হিডকো যৌথভাবে এই ‘দুর্গা অঙ্গন’ নির্মাণ করবে। রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস ঘোষণা করেছেন যে, এটি নির্মাণের জন্য একটি ট্রাস্ট গঠন করা হচ্ছে। এই ট্রাস্ট গঠনের পরেই প্রকল্পের বাজেট এবং মন্দির স্থাপনের নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ করা হবে। এদিন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস এবং মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম নবান্নে এক সাংবাদিক বৈঠক করেন। সেখানে তাঁরা জানান, ইউনেস্কো বাংলার দুর্গাপুজোকে হেরিটেজ তকমা দিয়েছে। সেই সম্মানার্থে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ‘দুর্গা অঙ্গন’ তৈরির ঘোষণা করেছিলেন, যা মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদিত হয়েছে। অরূপ বিশ্বাস আরও বলেন, এটি দিঘার মন্দিরের মতো বাংলার একটি গুরুত্বপূর্ণ দর্শনীয় স্থান হবে। তবে এর সঠিক স্থান এবং বাজেট এখনও চূড়ান্ত হয়নি। স্থান নির্বাচনের পরেই বিস্তারিত জানানো হবে। ট্রাস্টের সদস্যদের নামও পরে ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
জঙ্গলমহলে আরও ২ বিদ্যুৎকেন্দ্র
এবারের বিশ্ববাংলা বাণিজ্য সম্মেলনেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেছিলেন শালবনীতে তৈরি হবে জিন্দালদের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র। সোমবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে শালবনিতে দু’টি নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের সিদ্ধান্তে সিলমোহর দেওয়া হয়েছে। বৈঠক শেষে বিদ্যুৎমন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস জানান, প্রতিটি কেন্দ্রের উৎপাদন ক্ষমতা হবে ৮০০ মেগাওয়াট, ফলে দু’টি কেন্দ্র মিলিয়ে মোট ১৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে। সরকারি ও বেসরকারি যৌথ উদ্যোগে এই প্রকল্প গড়ে তোলা হবে। এর জন্য শীঘ্রই দরপত্র আহ্বান করা হবে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, কয়েক মাস আগেই মুখ্যমন্ত্রী শালবনিতে আরও দু’টি বিদ্যুৎকেন্দ্র উদ্বোধন করেছেন, যেগুলি ১৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে।

নতুন প্রকল্প যুক্ত হলে জঙ্গলমহলে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা উল্লেখযোগ্য ভাবে বৃদ্ধি পাবে, যা রাজ্যের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। সেই সঙ্গে তিনি জানান, মুর্শিদাবাদের সাগরদিঘিতে ৬০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি সুপার ক্রিটিক্যাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের উদ্বোধনও শীঘ্রই হবে। এই কেন্দ্র আধুনিক প্রযুক্তিতে নির্মিত হওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদনে অধিক দক্ষতা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে।