দেশের ৫৫ কোটিরও বেশি মানুষ জনধন অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত। সাধারণ মানুষকে ব্যাংকিং পরিষেবার আওতায় আনতে ২০১৪ সালে শুরু হয়েছিল প্রধানমন্ত্রী জনধন যোজনা। এই অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে কোটি কোটি পরিবার সঞ্চয়ের সুযোগ পেয়েছেন এবং সরাসরি সরকারি ভর্তুকি ও অন্যান্য সুবিধা উপভোগ করছেন।
কিন্তু এবার জনধন অ্যাকাউন্ট সচল রাখতে নতুন নিয়ম কার্যকর হলো। সকল অ্যাকাউন্ট হোল্ডারদের আবারও কেওয়াইসি (Know Your Customer) নথি জমা দিতে হবে। সময়সীমা না মানলে অ্যাকাউন্টের নানা সুবিধা বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
কবে থেকে কবে পর্যন্ত কেওয়াইসি জমা করতে হবে?
২০২৫ সালে জনধন যোজনার ১০ বছর পূর্তিতে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংক জানিয়েছে—
১ জুলাই ২০২৫ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫-এর মধ্যে প্রত্যেক জনধন অ্যাকাউন্ট হোল্ডারকে নতুন করে কেওয়াইসি জমা করতে হবে।
এই সময়সীমার মধ্যে কাজ সম্পন্ন না হলে ভবিষ্যতে অ্যাকাউন্ট ব্লক হয়ে যেতে পারে বা সরকারি প্রকল্পের সুবিধা বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
পঞ্চায়েত স্তরে বিশেষ ক্যাম্প
অ্যাকাউন্ট হোল্ডারদের সুবিধার্থে বিভিন্ন পঞ্চায়েত ও স্থানীয় শাখায় বিশেষ ক্যাম্প আয়োজন করা হচ্ছে।
যাদের ঠিকানা পরিবর্তন হয়েছে, তারা নতুন নথি জমা দিয়ে আপডেট করতে পারবেন।
কেউ চাইলে ব্যক্তিগত তথ্য (যেমন মোবাইল নম্বর, ইমেল বা অন্য তথ্য) পরিবর্তনও করতে পারবেন।
সব নথি জমা দেওয়ার পর অ্যাকাউন্ট ভবিষ্যতেও সচল থাকবে।
কোন কোন নথি লাগবে?
কেওয়াইসি জমা দেওয়ার জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি প্রয়োজন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য—
আধার কার্ড
ভোটার কার্ড
রেশন কার্ড
ড্রাইভিং লাইসেন্স
পাসপোর্ট
এই নথিগুলি পরিচয় ও ঠিকানার প্রমাণ হিসেবে জমা দিতে হবে। বিশেষত যারা নতুন জায়গায় বসবাস শুরু করেছেন বা ঠিকানা বদল করেছেন, তাদের জন্য এই নথি অত্যন্ত জরুরি।
কেন কেওয়াইসি জরুরি?
প্রতারণা ও ভুয়ো অ্যাকাউন্ট রোধ করতে।
প্রত্যেক গ্রাহককে সঠিকভাবে সনাক্ত করতে।
সরকারি ভর্তুকি ও প্রকল্পের সুবিধা যেন প্রকৃত অ্যাকাউন্টধারীর কাছেই পৌঁছায়।
আন্তর্জাতিক ব্যাঙ্কিং নিয়ম মেনে নিরাপদ লেনদেন নিশ্চিত করতে।
জনধন অ্যাকাউন্টধারীদের জন্য কেওয়াইসি জমা দেওয়া এখন অপরিহার্য। ২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই সুযোগ থাকলেও শেষ মুহূর্তে ভিড় এড়াতে যত দ্রুত সম্ভব কেওয়াইসি জমা করা উচিত। আধার, ভোটার কার্ড বা অন্যান্য বৈধ নথি প্রস্তুত রাখুন এবং স্থানীয় শাখা বা পঞ্চায়েত ক্যাম্পে গিয়ে প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করুন।
গণহিতের এই উদ্যোগের মাধ্যমে সরকার চাইছে, প্রতিটি জনধন অ্যাকাউন্ট সচল ও স্বচ্ছ থাকুক এবং দেশের আর্থিক অন্তর্ভুক্তির পথে সাধারণ মানুষ আরও শক্তভাবে যুক্ত হোক।