সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
“প্রধানমন্ত্রীর মঞ্চে কারা ছিলেন, ভালো করে দেখবেন সবকটা দলবদলু। শুভেন্দু অধিকারী, তাপস রায়, অর্জুন সিং, সজল ঘোষ…. আর কটা নাম বলবো! এরা বিজেপি?” দমদমে নরেন্দ্র মোদীর সভায় ডাক না পেয়ে এবার এভাবেই নিজের রাগের বহিঃপ্রকাশ ঘটালেন পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। আগামী বছরের বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “এদের দেখে মানুষ বিজেপি করতে আসবেন? এদের বিরুদ্ধেই তো বিজেপি লড়াই করেছিল, ফলে যা হবার তাই হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর জনসভা কার্যত ফাঁকা।”
প্রধানমন্ত্রীর সভায় সদস্য সমর্থকদের সংখ্যা দেখে অবাক দিলীপ নিজেও। তিনি বললেন, “প্রধানমন্ত্রীর সভায় এত কম লোক! আমরা মিছিল মিটিং করলে তো এর চেয়ে বেশি লোক হয়। প্রধানমন্ত্রীর সভায় যে ৫ হাজার লোক হবে তাতো ভাবাই যায়না। দর্শকদের ছবি দেখছিলাম সব গল্প করছে। সেই জোশটাই নেই। এভাবে হয় নাকি?”
মোদির কলকাতা সফরকালীন সময়ে বেঙ্গালুরু পাড়ি দিয়েছিলেন দিলীপ ঘোষ। হাইভোল্টেজ সভায় ডাক না পেয়ে কি বারবার পালিয়ে যাচ্ছেন তিনি? এর জবাব না মিললেও রাজ্য সরকারকে নানা ইস্যুতে কটাক্ষ করতে ছাড়ছেন না দিলীপ ঘোষ। রাজ্য বিজেপিতে তাঁর অবস্থান নিয়ে জল্পনা চলছেই। দীর্ঘ সময় ধরেই এভাবে প্রতীকী উপেক্ষার শিকার হচ্ছেন রাজ্য বিজেপির এক প্রাক্তন কাণ্ডারি। এজন্যই হয়তো মোদির সাম্প্রতিক রাজ্য সফরের কর্মসূচিতে ডাক নাম পেয়ে অভিমানে দিলীপ বলে উঠলেন, “দিলীপ ঘোষ কোনওদিন অভিমান করেনি। ছোটবেলা থেকে আজ পর্যন্ত কাজ করেছি। লোকের অভিমান ভাঙিয়েছি।”
রবিবার সকালে নিউটাউন ইকোপার্কে প্রাতঃভ্রমণে আসেন প্রাক্তন সাংসদ তথা বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। সেখানেই তৃণমূলের প্রতিষ্ঠা দিবসে পরীক্ষা বাতিল নিয়ে রাজ্য সরকারকে কটাক্ষের সুরে আক্রমণ করেন। এছাড়াও কাটোয়ার মন্তেশ্বরের একটি ঘটনাকে উল্লেখ করে তিনি রাজ্যের শিক্ষার হাল নিয়ে সরকারকে নিশানা করেন। বিহারের ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধনের বিষয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, “বিহারে ইতিমধ্যেই এসআইআর-এর কাজ সম্পন্ন হয়েছে। চলছে ক্লেম অবজেকশন দাখিলের প্রক্রিয়া। প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে বাকি মাত্র ন’দিন। কেবল সিপিআই-এর পক্ষ থেকে ৯টি ক্লেম ও অবজেকশন করা হয়েছে।”
২৬-এ কিছু আশা দেখছেন? দিলীপের জবাব, “খুব খারাপ, খুব খারাপ। লড়াইটা হল ২১এর আসন ধরে রাখার লড়াই। সেটাই এখন দূর-অস্ত লাগছে।” দিলীপ বুঝিয়ে দিয়েছেন এই বিজেপিকে নিয়ে মোটেই কোন স্বপ্ন দেখছেন না কর্মী সমর্থকেরা।
তবে বাংলায় বিজেপির ভবিষ্যৎ খুব একটা উজ্জ্বল নয় বলে আশঙ্কা প্রকাশ করলেও দল ছাড়া যে কোন সম্ভাবনা নেই তাও জানিয়ে দেন তিনি। প্রাক্তন বিজেপি সাংসদ দিলীপ ঘোষ বলেন, “শমীক ভট্টাচার্য আমার ক্যাপ্টেন, যেদিন বলবেন সেদিন পার্টির কাজের জন্য ঝাঁপিয়ে পড়তে রাজি আছি। শমীক ভট্টাচার্যের উপর আস্থা আছে। তিনি চাইছেন সকলকে নিয়ে চলতে। যেদিন আমাকে যে দায়িত্ব দেবে, আমার কাজ করতে কোন আপত্তি নেই। আবার একটা টুল পেতে যদি বলে চুপ করে বসে থাকো, তাহলে তাই বসে থাকব। ভোট এলে ডাকবে, আমি যাব।” দিলীপ ঘোষের দাবি, দলের নির্দেশ পেলেই সেই পরিবর্তনের যুদ্ধে ঝাঁপাতে তৈরি।