শোভন গায়েন। কলকাতা সারাদিন।
“এই সরকারই নাকি পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য পাঁচ হাজার টাকা মাসিক ভাতার ব্যবস্থা করছে, যা আদতে তৃণমূল নেতাদের পকেটেই ঢুকবে। ভাতার সরকার, আর নেই দরকার!” ভিন রাজ্য থেকে বাংলায় ফিরে আসা বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকদের মাসে ৫০০০ টাকা করে দেওয়ার যে ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় করেছেন তার প্রেক্ষিতে এভাবেই তীব্র আক্রমণ করলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
সোমবার শুভেন্দু অধিকারী নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে লেখেন, “পশ্চিমবঙ্গে একটা সরকার প্রায় পনেরো বছর ক্ষমতায়। এই পনেরো বছরে পশ্চিমবঙ্গে বহু ছোট-মাঝারি থেকে বৃহৎ শিল্প কল কারখানা বন্ধ হয়েছে, অনেক সংস্থা পাততাড়ি গুটিয়ে ভারতবর্ষের অন্য রাজ্যে চলে গেছে। সিঙ্গুর থেকে শুরু করে আজকের হলদিয়া শিল্পাঞ্চল, সর্বত্রই বিসর্জনের ব্যাথা।
আজ পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ খেটে খাওয়া শ্রমিকদের কাছে ছবিটা স্পষ্ট। এই দুর্নীতিগ্রস্ত সরকার শ্রমিকদের স্বার্থ দেখে না। হলদিয়ার কিছু তৃণমূলপন্থী শ্রমিকরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তার ভাইপোর ছবি লাগিয়ে নিজেদের কাজ হারানোর প্রতিবাদ করছেন, বিকল্প কর্মসংস্থানের আর্তি জানাচ্ছেন। গত একবছর ধরে তাঁরা কর্মহীন অথচ তাদের দল ও সরকার পাশে নেই। আর ভাবুন এই সরকারই নাকি পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য পাঁচ হাজার টাকা মাসিক ভাতার ব্যবস্থা করছে, যা আদতে তৃণমূল নেতাদের পকেটেই ঢুকবে। ভাতার সরকার, আর নেই দরকার!”
অন্যদিকে, সোমবার আবার গ্রেফতার হয়েছেন তৃণমূল বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহা। এবার তাঁকে গ্রেফতার করেছে ইডি। তাঁর গ্রেফতারি নিয়ে রাজ্যের শাসক দলকেই নিশানা করেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তৃণমূল বিধায়কের গ্রেফতারি প্রসঙ্গে শুভেন্দুর প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া – “জীবনকৃষ্ণ ছিলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়, ভাইপো, কালীঘাটের কাকু, মানিক ভট্টাচার্যের অন্যতম বড় এজেন্ট। বীরভূম-মুর্শিদাবাদ জেলার সমস্ত তালিকা তুলে দেওয়া, টাকা লেনদেন, একটা অংশ রাখা, এই ছিল তাঁর কাজ।”
বিরোধী দলনেতার দাবি, কান্দি-নবগ্রাম সহ একাধিক এলাকার বিধায়কদের দিয়ে তিনি তালিকা তৈরি করাতেন, টাকার বিনিময় চাকরি পাইয়ে দেওয়ার কাজ করেছেন। তাই কান টানা হয়েছে ঠিক আছে, মাথাও টানতে হবে। ইডি যখন সোমবার জীবনকৃষ্ণর বাড়িতে যায় তখন তিনি সেখান থেকে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন। ইডি আসছে জানতে পেরেই বাড়ির পিছনের পাঁচিল টপকে পালাতে গিয়েছিলেন তিনি। তাড়াহুড়োর মধ্যে নিজের মোবাইল ফোন পুকুরের দিকে ছুড়ে দেন। তবে ফোন গিয়ে পড়ে পুকুর পাড়ের পাশের নর্দমায়।
শুভেন্দুর খোঁচা, ”শাসক দল যখন বলছে রাজনীতি হচ্ছে, তখন এটাও বলা উচিত যে, কেন তিনি পালাতে গেলেন! উনি যদি বিপ্লবী বা রাজনৈতিক সংগ্রামী হয়ে থাকেন, তাহলে তাঁর সামনে দাঁড়িয়ে ইডিকে ফেস করা উচিত ছিল। কিন্তু কী হয়েছে সবাই দেখেছে।” আগামী বছরই বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই গ্রেফতারি নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই নানা প্রশ্ন তুলছে তৃণমূল। বলা হচ্ছে, রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। শুভেন্দুর কথায়, প্রথম গ্রেফতারি ২০২১ সালে হয়েছিল। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে সিবিআই তদন্তভার নিয়েছিল। সেই সময় তো কোনও ভোট ছিল না। আর এখন এই গ্রেফতারি হয়েছে পিএমএলএ অ্যাক্টে। তাই ইডি যুক্ত হবেই। তাই এসব অবান্তর কথা।