হাইকোর্টের নির্দেশের পর এবার বিধানসভার অন্দরে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে জারি হলো কড়া বিজ্ঞপ্তি। স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এবার থেকে কোনো বিধায়ক বা মন্ত্রীর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা রক্ষী বিধানসভার ভেতরে প্রবেশ করতে পারবেন না। এই কড়া নির্দেশিকা থেকে একমাত্র ব্যতিক্রম থাকবেন শুধু মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
আজ থেকে সব মন্ত্রীর নিরাপত্তারক্ষীরা বিধানসভার বাইরে থাকবেন, এমনই সিদ্ধান্তের কথা জানালেন অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। হাইকোর্টের নির্দেশেই এই সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই তালিকা থেকে বাদ থাকছেন। তিনি নিরাপত্তারক্ষী নিয়েই ঢুকবেন বিধানসভায়। তাঁর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রী ছাড়া অন্য কোনও মন্ত্রী বা বিধায়ক দেহরক্ষী নিয়ে আর বিধানসভায় ঢুকতে পারবেন না। বিধানসভা চত্বরের বাইরে দেহরক্ষীদের রেখে তবেই প্রবেশ করতে হবে। লোকসভাতেও একই রকম নিয়ম রয়েছে। দেশের বিভিন্ন বিধানসভাতেও ওই নিয়ম রয়েছে।
বিধায়কদের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের বিধানসভার চৌহদ্দিতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার আবেদন জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ও বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ। বিরোধী বিজেপি বিধায়কদের মামলার প্রেক্ষিতেই এই পদক্ষেপ। আদালত জানতে চেয়েছিল, তৃণমূল বিধায়কেরা রাজ্য পুলিশের দেহরক্ষী নিয়ে ঢুকতে পারলে বিজেপি বিধায়কেরা কেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান নিয়ে ঢুকতে পারবেন না।

বৃহস্পতিবার সেই মামলার শুনানিতে আদালত জানায়, নিরাপত্তারক্ষী নিয়ে সরাসরি আদালত কোনও হস্তক্ষেপ করবে না। তবে বিচারপতি স্পষ্ট করে দেন— ‘নিয়ম সবার জন্য একই হওয়া উচিত।’ হাইকোর্টের প্রশ্নের পরেই অধ্যক্ষ স্পষ্ট করে দেন, কোনও বিধায়কই দেহরক্ষী নিয়ে বিধানসভায় ঢুকতে পারবেন না। শেষমেশ সেই মামলায় আদালতের নির্দেশ মেনে, সিদ্ধান্তের কথা জানালেন স্পিকার। সকলের নিরাপত্তারক্ষীরই ভিতরে ঢোকা বন্ধ করার কথা বললেন। এদিন বিমানবাবু বলেন, ‘হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে এবার থেকে বিধানসভায় কোনও নিরাপত্তা কর্মীই প্রবেশ করতে পারবে না। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়া কারও কোনও নিরাপত্তা রক্ষী থাকবেন না বিধানসভার অন্দরে।’
ফলে আজ, সোমবার থেকে একমাত্র মুখ্যমন্ত্রী ছাড়া আর কোনও মন্ত্রীর নিরাপত্তারক্ষীই বিধানসভায় ঢুকতে পারবেন না। এই মর্মে এদিন নোটিসও দেওয়া হয়েছে বিধানসভায়।

ঘটনার সূত্রপাত, গত বছরের অগস্টে শুভেন্দু যখন বিধানসভার ভিতর থেকে বাইরে বেরিয়ে আসছিলেন, তখন তাঁকে লক্ষ্য করে কিছু প্রশ্ন করতে দেখা গিয়েছিল পূর্বস্থলী উত্তরের তৃণমূল বিধায়ক তপন চট্টোপাধ্যায়কে। ওই ঘটনায় কিছুক্ষণ বাকবিতণ্ডাও চলে দু’জনের মধ্যে। সেই সময় তৃণমূল বিধায়ক তপন চট্টোপাধ্যায় তাঁকে ধাক্কা মারেন বলে অভিযোগ করেছিলেন শুভেন্দু। এ ব্যাপারে বিজেপি বিধায়কদের নিরাপত্তা চেয়ে বিজেপি শিবিরের তরফে স্পিকারকে চিঠিও দেওয়া হয়েছিল। সোমবার থেকে কার্যকর এই নতুন নিয়ম ঘিরে চরম অসন্তোষ বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর।

স্পিকারের সিদ্ধান্তে ‘পক্ষপাতিত্বের গন্ধ’ পাচ্ছেন তিনি। তাঁর প্রশ্ন, ‘আদালতের রায় সকল জন প্রতিনিধির জন্য এক। তাহলে মুখ্যমন্ত্রীর ক্ষেত্রে আলাদা নিয়ম কেন?’ শুভেন্দু সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী যদি নিরাপত্তারক্ষী নিয়ে বিধানসভায় প্রবেশ করেন, আমি আদালতের দ্বারস্থ হব। স্পিকারের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলাও করব।’ এই নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে বিধানসভায় নোটিসও জারি হয়েছে। তবে শুভেন্দুর প্রশ্ন, ‘মুখ্যমন্ত্রী কেন ব্যতিক্রম হবেন? তিনি তো সবচেয়ে বড় জন প্রতিনিধি, তাহলে তিনি সবার আগে নিয়ম মানবেন না কেন?’