ইয়া দেবী সর্বভূতেষু শান্তিরূপেণ সংস্থিতা। নমস্তসৈ নমস্তসৈ নমস্তসৈ নমো নমঃ।। ইয়া দেবী সর্বভূতেষু শ্রদ্ধারূপেণ সংস্থিতা। দুর্গাপূজো মানেই মাতৃ শক্তির আরাধনা। আর মাত্র শক্তির আরাধনা করার জন্য এবারে ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে নিজেদের জীবনের মায়া না করে যে সমস্ত বীরাঙ্গনারা ইংরেজদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন তাদের ইতিহাস তুলে ধরতে নিজেদের দুর্গাপুজোর থিম বানালো হাতিবাগান নবীন পল্লী।
২০২৫ সালের দুর্গাপুজোয় হাতিবাগান নবীন পল্লী বেছে নিয়েছে এক অভিনব ভাবনা— ‘আমাদের দেশ, আমাদের দুর্গা’। থিমটির মূল ভাবনায় রয়েছে ভারত ছাড়ো আন্দোলনের অখ্যাত বীরাঙ্গনারা, যাঁরা নিজেদের নিরাপত্তা ও জীবন উৎসর্গ করেছিলেন মাতৃভূমির স্বাধীনতার জন্য।উদ্যোক্তাদের মতে, ঔপনিবেশিক শোষণ ও দমননীতির বিরুদ্ধে দৃঢ়চিত্তে প্রতিরোধ গড়ে তোলা প্রতিটি নারীই প্রকৃত দুর্গার প্রতিচ্ছবি। এবারের প্যান্ডেলে সেই অসংখ্য নামহীন সংগ্রামী মহিলাদের স্মরণ করা হবে। ১৯৪২ সালে শুরু হওয়া ভারত ছাড়ো আন্দোলন গোটা দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন সেই সময় সাধারণ মানুষ ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন। শুধু পুরুষ নয়, অসংখ্য নারীও হাতে তুলে নিয়েছিলেন সংগ্রামের অস্ত্র। অরুণা আসফ আলি, উষা মেহেতা, মাতঙ্গিনী হাজরা, কুমুদিনী ডাকুয়া, কনকলতা বড়ুয়া, তিলেশ্বরী বড়ুয়া, ভোগেশ্বরী ফুকাননী, শশীবালা দাসী— এমন অনেকেই নেতৃত্ব দিয়ে আন্দোলনে নেমেছিলেন। কেউ কারাবরণ করেছেন, কেউ শহিদ হয়েছেন। এঁদের সংগ্রামী জীবনই এবারের থিমের কেন্দ্রবিন্দু।
উত্তর কলকাতার একেবারে প্রথম সারির দূর্গা পুজো গুলোর মধ্যে বরাবর নিজের নাম করে নিয়েছে হাতিবাগান নবীন পল্লী। ২০২৩ সালে হাতিবাগান নবীন পল্লী ‘আবোল-তাবোল পাড়া’ থিম সাড়া ফেলে। ২০২৪ সালে আবার উঠে আসে ‘থিয়েটার পাড়া’, যেখানে বাঙালির পেশাদারি থিয়েটারের দীর্ঘ ঐতিহ্য ফুটিয়ে তোলা হয়। এবার ২০২৫-এ উদ্যোক্তারা ইতিহাসকে নতুনভাবে তুলে ধরতে চাইছেন। প্রধান উদ্যোক্তা দীপ্ত ঘোষের কথায়, “আমাদের কাছে এই সংগ্রামী নারীরাই প্রকৃত দুর্গা। তাঁরা ঔপনিবেশিক অসুরশক্তিকে পরাস্ত করতে দেশের হয়ে ত্রিশূল ধরেছিলেন।”
এই থিম বাস্তবায়নের দায়িত্বে রয়েছেন শিল্পী অভিজিৎ ঘটক। মুখ্য উপদেষ্টা প্রিয়দর্শিনী ঘোষ বাওয়া জানিয়েছেন, এবারের পুজোয় মানুষ এক অনন্য অভিজ্ঞতার সাক্ষী হবেন।
এই থিমের বিশেষ দিক হল— প্রতিটি সংগ্রামী নারীকে দেবী দুর্গার প্রতিরূপ হিসেবে দেখা হবে। যেখানে ত্রিশূলের জায়গায় তাঁদের সাহস, ভালোবাসা আর আত্মত্যাগই হয়ে উঠবে মূল প্রতীক। প্যান্ডেলের শিল্পকলা ও মণ্ডপ সজ্জায় ঔপনিবেশিক শাসনের দমননীতি, সাধারণ মানুষের কষ্ট ও স্বাধীনতার জন্য রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের চিত্র ফুটিয়ে তোলা হবে। এতে মানুষ ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত হবে শিল্পের মাধ্যমে।
- kolkatasaradinnews@gmail.com
- Kolkata
Get Started
- Home
- About
Quick Links
- Products
- Services
- Gallery
- Affiliates
Legal
- Shipping & Refunds
- Terms & Conditions
- Privacy Policy
- Disclaimer
© 2025 Kolkata Saradin All Rights Reserved | Designed by Great Tech India