শোভন গায়েন। কলকাতা সারাদিন।
হামলার পর বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মুর নিরাপত্তা ব্যবস্থা এক্স ক্যাটেগরি থেকে বাড়িয়ে ওয়াই প্লাস ক্যাটাগরি করল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। অন্যদিকে, নাগরাকাটায় হামলা নিয়ে মুখ খুললেন বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু। তিনি দাবি করলেন, সেদিন তাঁকে খুন করার চেষ্টা করা হয়েছিল।
গত সোমবার উত্তরবঙ্গের নাগরাকাটায় বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু এবং বিধায়ক শঙ্কর ঘোষের ওপর হামলা হয়। প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর এলাকা পরিদর্শন এবং ত্রাণ বিতরণ করতে নাগরাকাটায় গিয়েছিলেন মালদা উত্তরের বিজেপি সাংসদ খগেন এবং শিলিগুড়ির বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর। শঙ্কর ঘোষকে চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয়। তাঁর হাতে চোট লেগেছিল। তবে খগেন মুর্মুর চোখের নীচের হাড় ভেঙে গিয়েছে। তাঁর ভাঙা হাড়ের এক্স-রে রিপোর্ট সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। এই আবহে খগেনকে হাসপাতালে দেখতে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু, সুকান্ত মজুমদাররা। এদিকে সাংসদের ওপর হামলায় ইতিমধ্যেই পুরো ঘটনা নিয়ে রিপোর্ট তলব করেছেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা।
হামলা প্রসঙ্গে খগেন মুর্মু সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘যারা হামলা চালিয়েছিল, তারা টিএমসির গুন্ডা। বলেছিল, আমরা দিদির লোক। কোনও প্রয়োজন নেই বিজেপির। যান এখান থেকে। আমরা কোনওরকমে গাড়িতে উঠে পড়েছিলাম। ওরা দরজা খোলার চেষ্টা করেছিল। পারেনি। তখন ইট দিয়ে গাড়ির কাচ ভাঙে। ইট এসে লাগে। যদি গাড়ি থেকে টেনে নামাতে পারত, তবে আমাদের মেরে ফেলত।’ হাসপাতালের আইসিইউতে বেডে শুয়েই বিস্ফোরক অভিযোগ করে বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু নাগরাকাটার ঘটনা প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমরা ওখানে প্রথমে যাই ত্রাণ দিতে, তারপর আমাদের বাধা দেওয়া হয়। আমাদের বলা হয়, আপনারা এখান থেকে যান, না হলে খারাপ হবে। ধাক্কা মারতে মারতে আমাদের এলাকা থেকে সরানো হয়েছে। আমরা দৌড়ে পালিয়ে প্রাণে বেঁচেছি। গাড়ির দরজা খোলার চেষ্টা করে। জানালার কাচ ভেঙে দেয়, পাথর ছুড়ে মারে।’ তিন জায়গায় ফ্র্যাকচার হয়েছে বলেও জানিয়েছেন বিজেপি সাংসদ। তাঁকে দেখতে হাসপাতালে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। খগেন মুর্মুর চোটকে ‘সামান্য’ বলেছেন তিনি। এই প্রসঙ্গে বিজেপি সাংসদ বলেছেন, ‘উনি তো সবটাই ছোট সামান্য বলেন। ওনার চোখে কোনওটাই বড় ঘটনা নয়। এখানে জঙ্গলের রাজত্ব চলছে।’
এদিকে খগেন পুত্র অনিমেষও দাবি করেন, বাবাকে খুনের চক্রান্ত করা হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘এর আগেও বাবার ওপর হামলার চেষ্টা হয়েছিল। এবারও ছক করেই আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে উপস্থিত ছিল দুষ্কৃতীরা। আদিবাসী সমাজে ক্রমশ জনপ্রিয় নেতা হয়ে উঠেছিলেন বলেই খুনের চেষ্টা করা হয় বাবাকে।’
যে ৫ জনকে এখনও পর্যন্ত গ্রেফতার করা হয়েছে তাঁদের নাম এফআইআর- এ নেই বলেই জানা গিয়েছে। যদিও বুধবার একরামুল হক ও গোবিন্দ শর্মা নামে যে ২জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল, তাঁদের ছবি প্রকাশ করে পুলিশ জানিয়েছে, হামলার সময় তাঁরা ঘটনাস্থলেই ছিলেন। এই ২ জনকেই প্রথম গ্রেফতার করা হয়। একজনকে নাগরাকাটা থেকে এবং আরেক জনকে জয়গাঁও থেকে গ্রেফতার করা হয়। সোমবার নাগরাকাটা কাণ্ডের পর বিজেপি সাংসদ মনোজ টিগ্গার নেতৃত্বে নাগরাকাটা থানায় ৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানানো হয়।