সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
সুন্দরবনের মতো প্রত্যন্ত এলাকায় সমাজের সব বাধা অতিক্রম করে ওরা জিতিয়েছিলেন নিজের ভালবাসাকে। গোটা বাংলা সাক্ষী থেকেছিল তার।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার মন্দিরবাজার ও বকুলতলা— এই দুই প্রান্তের দুই তরুণী, রিয়া সরদার ও রাখি নস্কর, ভেঙে দিলেন সমাজের কুসংস্কার ও সংকীর্ণতার দেওয়াল। পরস্পরের প্রতি ভালোবাসাকে স্বীকৃতি দিয়ে তাঁরা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। সুন্দরবনের মাটিতে তাঁদের এই সাহসী পদক্ষেপ আজ সমগ্র বাংলার গর্বের প্রতীক হয়ে উঠেছে। দুই তরুণীর এমন সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সর্বভারতীয় তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সামাজিক বেড়াজাল, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও সাংস্কৃতিক বাধাকে উপেক্ষা করে তাঁরা একে অপরের হাত ধরেছেন জীবনের নতুন পথে।
তাঁদের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, ‘স্বাধীন ভারতের স্বাধীন মানসিকতা, মানবিকতা, মুক্ত চিন্তা ও সাহসিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন রিয়া ও রাখি। বাংলাই আগামীকে পথ দেখায়।’
এর আগে তিনি নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, ‘সামাজিক বেড়াজাল ছিন্ন করে সুন্দরবনের দুই তরুণী বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন, যা বাংলা তথা দেশের কাছে দৃষ্টান্ত স্বরূপ উদাহরণ – স্বাধীন ভারতের স্বাধীন মানসিকতার, মানবিকতার, মুক্ত চিন্তা ভাবনার ও সাহসিকতার। সারাজীবন একসাথে থাকার অঙ্গীকার নিয়ে তাঁরা যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন তা বাংলার কাছে ও বাঙালির কাছে গর্বের।সংকীর্ণতার গণ্ডি পেরিয়ে সামাজিক মতভেদ, ধর্মীয় মূল্যবোধ এবং সাংস্কৃতিক বাধা এসব অতিক্রম ক’রে লক্ষ্যে স্থির থেকেছেন – প্রকৃত ভালোবাসাকে প্রাধান্য দিয়েই। তাঁদের এই পবিত্র ভালোবাসা চিরঅক্ষয় থাকুক। দক্ষিণ ২৪ পরগনার মন্দিরবাজারের বাসিন্দা রিয়া সরদার ও বকুলতলার বাসিন্দা রাখি নস্কর এই নবদম্পতিকে আমি অনেক অনেক শুভেচ্ছা এবং হার্দিক অভিনন্দন জানাচ্ছি। পরমেশ্বরের আশীর্বাদ বর্ষিত হোক ওদের জীবনে। রঙিন হয়ে উঠুক আগামীর পথ। বাংলাই আগামীকে পথ দেখায়। এই সাহসিকতার জোরেই আমাদের সমাজ অচলায়তন ভেঙে ও সংকীর্ণতাকে পিছনে ফেলে মুক্ত চিন্তাভাবনার অঙ্গন হয়ে উঠবে।’
সোমবার কুলতলী গ্রামে আয়োজিত এক সংবর্ধনা সভায় উপস্থিত ছিলেন কুলতলির বিধায়ক গণেশ চন্দ্র মণ্ডল এবং মথুরাপুরের সাংসদ বাপি হালদার। নবদম্পতিকে ফুল ও উপহার দিয়ে অভিনন্দিত করেন তাঁরা। এলাকাবাসীরও উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা যায় এই সাহসী পদক্ষেপে। গ্রামবাংলার মানুষ এখন এই দু’জন তরুণীকে সমাজ পরিবর্তনের প্রতীক হিসেবে দেখছেন। তাঁদের গল্প প্রমাণ করে দিয়েছে, ভালোবাসা কোনও সীমা, ধর্ম, লিঙ্গ বা সামাজিক বিধি মানে না।

সুন্দরবনের এই দুই নারী নতুন প্রজন্মের কাছে এক অনুপ্রেরণা— ভালোবাসা ও সাহসিকতার এক অবিনাশী প্রতীক। সংবর্ধনা সভায় ফোন মারফত অভিষেক বার্তা দেন সমাজ পরিবর্তনের। সেই বার্তা ফোনেই শোনান তৃণমূল নেতৃত্ব । যেখানে অভিষেককে বলতে শোনা যায়, ‘আমার অত্যন্ত ভাল লেগেছে সুন্দরবনের মাটিতে এমন ইতিহাস রচিত হয়েছে। রিয়া ও রাখি তাঁরা যে এমন পদক্ষেপ করতে পেরেছে তার জন্য তাঁদের শুভেচ্ছা জানাই। আমাদের সমাজে চেনা ছকের বাইরে গিয়ে ভালবাসার সত্যিকারের অর্থকে সামনে এনেছে রিয়া ও রাখি। তাঁরা প্রমাণ করেছে ভালবাসা কোনও সীমারেখায় আটকে থাকে না। ভালবাসা কোনও বাধা মানে না ধর্ম-বর্ণ-লিঙ্গে। দুজনই জানত পথ এতটা সহজ হবে না। সমাজ থেকে বাধা আসবে। তাও তাঁরা একসঙ্গে থাকার লড়াই থেকে পিছিয়ে আসেননি। তাঁদের কুর্নিশ। আর যে গ্রামবাসী তাঁদের এই সাহস জুগিয়েছেন তাঁদেরও শুভেচ্ছা জানাই।’