কনিষ্ক সামন্ত। কলকাতা সারাদিন।
‘আপনি ভারত হেলাবেন বলেছেন, আপনাকে পশ্চিমবঙ্গের লোক এপ্রিল মাসে এমন হেলাবে, এমন হেলাবে যে আপনার ভাইপো যাবে জেলে। আর আপনাকে বাটি নিয়ে কালীঘাটের সামনে বসাব। আমাদের নাম মেদিনীপুর।’ এভাবেই হলদিয়ার পরিবর্তন যাত্রার সভা থেকে মমতাকে হুঁশিয়ারি দিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। গতকালই বনগাঁর সভা থেকে মমতা হুঙ্কার ছেড়েছিলেন, ‘আমাকে আঘাত করলে আমি সারা ভারত হেলিয়ে দেব। এটা মাথায় রেখো।’ তার প্রেক্ষিতে আজ শুভেন্দু অধিকারী বলেন, আপনি কাল বারাসাতে কী দেখলেন ? তৃণমূল মৃত মানুষের চোখও তুলে বিক্রি করে দেয়। ভাবতে পারেন, কোন রাজ্যে বসবাস করছেন আপনারা ? আমরা পঞ্চায়েত ভোটে তৃণমূল নেতাকে ব্যালট খেতে দেখেছি। এই সর্বভুক তৃণমূল সব খেয়ে হজম করে দিচ্ছে। তাই, আগামী বিধানসভা নির্বাচনে এই চোরদের আমাদের হারাতে হবে।’ রাজ্যে পরিবর্তনের লক্ষ্যে বিজেপির সংকল্প কী ? সেই প্রসঙ্গও এদিন শুভেন্দুর বক্তব্যে উঠে আসে। তিনি বলেন, ‘আমাদের সংকল্প, প্রতি হাতে কাজ। প্রতি পেটে ভাত, প্রতি মাথায় ছাদ। আমাদের সংকল্প, সোনার বাংলা। আমাদের সংকল্প কী ? টাটাকে ফেরাব বাংলায়। আমাদের সংকল্প কী ? শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি সরকারি…আবার নতুন করে সেজে উঠুক। আমাদের সংকল্প, নারীর সুরক্ষা। আমাদের সংকল্প, কন্যা সুরক্ষা।’
অন্যদিকে, বিরোধী দলনেতার শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে উত্তরবঙ্গে বিজেপির পূর্ব ঘোষিত পরিবর্তন সংকল্প যাত্রার অনুমতি পুলিশ না দেওয়ায় কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলো বিজেপি। রাজ্যজুড়ে পরিবর্তন সংকল্প যাত্রা করছে বিজেপি। জুড়ছে উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ। আগামী ২৯ নভেম্বর চ্যাংড়াবান্ধায় অনুষ্ঠিত বিজেপির পরিবর্তন সংকল্প যাত্রা হওয়ার কথা। উপস্থিত থাকার কথা খোদ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর। থাকবেন আরও এক ঝাঁক নেতা। প্রস্তুতিও শুরু হয়ে গিয়েছে পুরো মাত্রায়। কিন্তু অনুমতি নিয়ে চলছে টানাপোড়েন। অনুমতি দেয়নি কোচবিহার জেলা পুলিশ। এমনটাই অভিযোগ বিজেপির। বিজেপির দলীয় নেতৃত্বের দাবি, মেখলিগঞ্জ থানার পুলিশ অনুমতি না দেওয়ার পাশাপাশি লিখিত যে আবেদন করা হয়েছিল তার রিসিভ কপিও দেওয়া হয়নি। তাতেই ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে পদ্ম শিবিরের অন্দরে। প্রশাসনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগে সরব হয়েছেন দলের নেতারা। এবার এই ইস্যুতে তাঁরা কলকাতা হাইকোর্টেরও দ্বারস্থ হচ্ছেন বলে জানাচ্ছেন।
অন্যদিকে, নন্দীগ্রামের একটি পঞ্চায়েতে তৃণমূলের এক সদস্যের সোশ্যাল মিডিয়ার পোস্ট ঘিরে সম্প্রতি তৈরি হয়েছে বিতর্ক। যেখানে লক্ষীর ভান্ডার বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন তিনি। যার ফলে একজন জনপ্রতিনিধি হয়ে কি করে সরকারি প্রকল্পের টাকা শুধুমাত্র বিরোধীদের ভোট দিলে বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে হুমকি দিতে পারেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে তৃণমূলের সেই নেত্রীর বিরুদ্ধে। আর এবার লক্ষীর ভান্ডার বন্ধের হুমকি আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়লেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।

এদিন এই ব্যাপারে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে একটি প্রশ্ন করা হয়। আর সেই ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘যে বলেছে, ওর বাপের নাম যদি ঠিক থাকে, তাহলে বন্ধ করে দেখাবে। আর আমি শুভেন্দু অধিকারী কি জিনিস, একবার মমতা বুঝিয়েছি, আবার বুঝিয়ে দেব। ওটা ওর বাপের টাকা নাকি? সরকারের টাকা। বন্ধ করে দেখবেন। ওর যদি বাপের নাম ঠিক থাকে, বন্ধ করবেন। আমি বলে দিলাম তো। শুনতে খারাপ লাগলেও বলে গেলাম, চ্যালেঞ্জ করে গেলাম।’