সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগেই বিরোধীদের একটা অস্ত্র ভোঁতা করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যের নতুন মুখ্যসচিব হিসেবে বেছে নিলেন নন্দিনী চক্রবর্তীকে। যিনি এতদিন স্বরাষ্ট্র সচিবের দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন। ২০২৬ সালের প্রথম দিন থেকেই মুখ্যসচিবের দায়িত্ব পালন করবেন বাঙালি আইএএস অফিসার। যিনি ইতিহাসও গড়ে ফেললেন। কারণ এই প্রথমবার কোনও মহিলা মুখ্যসচিব পেল পশ্চিমবঙ্গ। আর যে মনোজ পন্থের জায়গায় তিনি এত বড় দায়িত্ব পেলেন, সেই বিদায়ী মুখ্যসচিবকেও মুখ্যমন্ত্রীর প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি পদে নিয়োগ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে নবান্ন। এমনিতে গত ৩০ জুনই বিদায়ী মুখ্যসচিব মনোজ পন্থের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে তাঁর মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করেছিল মমতা সরকার। সেইমতো ছয় মাস মেয়াদ বাড়িয়ে দিয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকার। আর সেই মেয়াদ শেষ হওয়ার দিনেই ১৯৯৪ ব্যাচের আইএএস অফিসার নন্দিনী চক্রবর্তীকে মুখ্যসচিব পদে বসানো হল। আর স্বরাষ্ট্র সচিব হচ্ছেন ২০০৪ ব্যাচের আইএএস অফিসার জগদীশ মিনার।
সামনেই বিধানসভা নির্বাচন। মনোজ পন্থের মেয়াদও আর বাড়ানো যায়নি। তাই ভোটের আগে ভরসাযোগ্য হিসেবেই নন্দিনীকে বেছে নেওয়া হল বলে মনে করছেন অনেকেই। একগুচ্ছ দফতর সামলেছেন নন্দিনী ১৯৯৪ ব্যাচের আইএএস অফিসার নন্দিনী চক্রবর্তী। ভূগোলে স্নাতকোত্তরের পর আইএএস হন তিনি। তাঁর কর্মজীবন শুরু হয় বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরের মহকুমা শাসক হিসেবে। পরবর্তীতে বর্ধমানের মহকুমা শাসকের পদও সামলেছেন তিনি। পরে বাঁকুড়ার অতিরিক্ত জেলাশাসক হন নন্দিনী চক্রবর্তী। একসময় ছিলেন হাওড়ার জেলাশাসকও। অবর সচিবের দায়িত্ব একসময় ছিল নন্দিনীর কাঁধে। এছাড়া রাজ্য সরকারের একগুচ্ছ দফতরের সচিব হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। কেএমডিএ, স্বাস্থ্য দফতর, শিল্প দফতর, তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর, সুন্দরবন বিষয়ক দফতর, পর্যটন দফতরের পাশাপাশি বায়ো টেকনোলজি, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ দফতরও দক্ষ হাতে সামলেছেন তিনি। রাজভবনেও বেঁধেছিল বিতর্ক ফের বিতর্ক হয় ২০২৩ সালে। ২০২২-এ তাঁকে রাজভবনে প্রধান সচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়। রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস নন্দিনী চক্রবর্তীকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে দিয়েছিলেন। তারপরও অফিসে যাচ্ছিলেন নন্দিনী। নবান্ন থেকে তাঁকে সরানো না হওয়ায় অফিস ছাড়েননি তিনি। পরে নবান্ন নির্দেশিকা জারি করে পর্যটন দফতরের সচিব করে নন্দিনীকে। বার্লিন থেকে পর্যটনে পুরস্কার এনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে তুলে দিয়েছিলেন তিনি। এরপর ২০২৩-এর ৩১ ডিসেম্বর থেকে তিনি পর্যটন এবং স্বরাষ্ট্র দফতরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিবের দায়িত্ব পালন করেছেন।

ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সমীক্ষার (এসআইআর) জন্য পশ্চিমবঙ্গের বিশেষ রোল অবজার্ভার হিসেবে সুব্রত গুপ্তকে নিয়োগ করেছে কমিশন, তিনি মমতা সরকারের আমলে মুখ্যসচিব হতে পারেননি। অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে একটা সময় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিব হওয়ার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু সেই পথে হাঁটেনি মমতা সরকার। কমিশন সুব্রতকে নয়া দায়িত্ব দেওয়ার পরে বিরোধীরা প্রশ্ন তুলতে থাকেন, মমতারা বাঙালি অস্মিতা নিয়ে এত কথা বলেন। অথচ একজন বাঙালিকে মুখ্যসচিব করেননি। সেই আবহে নন্দিনী চক্রবর্তীকে মুখ্যসচিব করে বিরোধীদের সেই অস্ত্র ভোঁতা করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। আর শুধু বাঙালি নন, একজন বাঙালি মহিলাকে মুখ্যসচিব পদে বসালেন।