শোভন গায়েন। কলকাতা সারাদিন।
‘প্রথমদিন থেকে লাগাতার ভয় দেখানো হচ্ছে, আতঙ্ক তৈরি করা হচ্ছে। সমস্ত লোকের নামের বানান ভুল, পদবির বানান ভুল। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে করেছে। বিএলও, ইআরও, এইআরও-দের একাংশ দিয়ে, আইপ্যাককে বসিয়ে নাম ও পদবির বানান ভুল করে লক্ষ লক্ষ লোককে শুনানিতে ডেকে নিয়ে গিয়ে হয়রানি করা হয়েছে।’ এভাবেই দিল্লিতে যখন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন সেই সময় কলকাতায় বসে মমতার বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃতভাবে এমন লজিক্যাল ডিসক্রিপ্যান্সির নামে ভোটারদের বাদ দেওয়ার চক্রান্ত করার অভিযোগ তুললেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে পরিকল্পিতভাবে তাঁর প্রশাসন এটা করেছে। তৃণমূল ও আইপ্যাকের নির্দেশে যে সব বিএলও, ইআরও, এইআরওরা এই কাজ করেছেন তাঁদের অবিলম্বে সাসপেন্ড করে এফআইআর করতে হবে। একইসঙ্গে মুর্শিদাবাদ, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও পূর্ব মেদিনীপুরের জেলা শাসককে অবিলম্বে সাসপেন্ড করতে হবে। আমাদের কাছে এদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট তথ্য রয়েছে।’
শুভেন্দুর সংযোজন, ‘আজ প্রতিবাদ হবে ডিএম-এর অফিসের সামনে হয়রানির প্রতিবাদে। আর আমি সহ ১৪ প্রতিনিধি দল যাবে লোকভবনে। রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী দেবীকে চিঠি দিয়েছিলাম হয়রানির অভিযোগ জানাতে যাব আজ তাই। উনি বলেছেন ৬ তারিখ দেখা করবেন আমাদের সঙ্গে। যারা ভুল করেছেন সেই ইআরও, এইআরও-র বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তিন জেলা পূর্ব মেদিনীপুর, মুর্শিদাবাদ ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলাশাসককে বরখাস্ত করতে হবে।’
অন্যদিকে দুর্নীতিতে বঙ্গভবনে দিল্লি পুলিশ দিয়ে ঘিরে ফেলার জন্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে সমস্ত অভিযোগ তুলেছেন তাও উড়িয়ে দেন শুভেন্দু। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পুলিশের বিরুদ্ধে অতিসক্রিয়তার অভিযোগে সরব মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জীবিত হলেও নির্বাচন কমিশনের খাতায় ‘মৃত’, এমন বেশ কিছু জন ভোটারকে দিল্লিতে নিয়ে গিয়েছে তৃণমূল। এসআইআর-র কারণে পরিবারের কোনও সদস্যের মৃত্যু হয়েছে এমন পরিবারগুলির সদস্যরাও এসেছেন দিল্লিতে। বাংলা থেকে আসা সেই সাধারণ মানুষদের হেনস্থা করছে দিল্লি পুলিশ বলে অভিযোগ করেন মমতা। তাঁর দাবি, অতিসক্রিয়তা দেখিয়ে হেইলি রোডের বঙ্গভবন ঘিরে রেখেছে দিল্লি পুলিশ। তল্লাশি চালানো হচ্ছে সেখানে। তাতে আতঙ্কিত পশ্চিমবঙ্গ থেকে আসা সাধারণ পরিবারের মানুষ। এই খবর পেয়েই এক কাপড়ে চাণক্যপুরীর বঙ্গভবন থেকে হেইলি রোডের বঙ্গভবনে চলে যান তৃণমূল সুপ্রিমো। সঙ্গে ছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘নিশ্চিতভাবে কিছু ইনপুট আছে দিল্লি পুলিশের কাছে। কাশ্মীরের জঙ্গি যদি ক্যানিংয়ে থাকতে পারে, যদি সিমির লোকদের সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের যোগাযোগ থাকতে পারে, তাহলে তো পুলিশ সতর্ক থাকবে। মুখ্যমন্ত্রীর সহযোগিতা করা দরকার।