সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
রাজ্য বিধানসভার অন্তর্বর্তী বাজেট অধিবেশনে করা ঘোষণা মত আগামী ১৫ অগাস্ট থেকে নয়, আগামী ১ এপ্রিল থেকেই বাংলার বেকার যুবক-যুবতীরা যুব সাথী প্রকল্পে পাবেন ১৫০০ টাকা। আজ নবান্ন থেকে বা যেতে করা ঘোষণা সংশোধন করে জানিয়ে দিলেন মমতা। আজ নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, যুব সাথী প্রকল্প আগামী ১ এপ্রিল থেকে চালু করা হবে। আগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসা হচ্ছে। এটা ১৫ অগস্ট বলা ছিল। আমাদের ছোট ভুল হয়েছে। ভুল বলব না, ক্যাবিনেটে উল্লেখ করেছি। কারণ যেহেতু নতুন অর্থবর্ষ চালু হচ্ছে তাই ১ এপ্রিল তারিখকে বেছে নেওয়া হয়েছে। ওই দিন থেকে এই প্রকল্প চালু করা হবে। ১ এপ্রিল থেকে যুব সাথী প্রকল্পের শুরু নিয়ে হালকা রসিকতা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ১ এপ্রিল থেকে শুরু করছি। পয়লা এপ্রিল মানেই এপ্রিল ফুল! কিন্তু আমরা এখানে কোনও এপ্রিল ফুল বলছি না।
এর পাশাপাশি বাংলায় আসন্ন উৎসব এবং বিধানসভা নির্বাচনের প্রসঙ্গ তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রমজান, হোলি, ইদ, পয়লা বৈশাখ— সব উৎসবই চলবে। তার মধ্যে যদি নির্বাচন আসে, নির্বাচনও তার নিজের নিয়মে চলবে।
যুব সাথী প্রকল্পের খুঁটিনাটি
আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে বর্তমান সরকারের অন্তর্বর্তী বাজেট বা ভোট অন অ্যাকাউন্ট পেশ করার সময় রাজ্যের অর্থ প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য নতুন যুব সাথী প্রকল্প ঘোষণা করে জানিয়ে ছিলেন আগামী 15 আগস্ট থেকে বাংলা জুড়ে চালু হবে এই প্রকল্প। এই প্রকল্পে শিক্ষিত বেকার অর্থাৎ মাধ্যমিক অথবা সমতুল কোন পরীক্ষায় পাশের পর বাংলার যে সমস্ত যুবক-যুবতী বেকার রয়েছেন তাঁদের প্রতিমাসে দেওয়া হবে ১৫০০ টাকা। তবে ২১ বছর বয়স থেকে ৪০ বছর পর্যন্ত বেকার যুবক-যুবতীরা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। টানা পাঁচ বছর এই প্রকল্প পাবেন বেকার যুবক-যুবতীরা। যদিও এই পাঁচ বছরের মধ্যেও যারা চাকরি পাবেন না তাদের বিষয়টি নতুন করে রিভিউ করা হবে বলেও আজ আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ঐক্যশ্রী, স্বামী বিবেকানন্দ মেরিট কাম স্কলারশিপ, শিক্ষাশ্রী, স্মার্ট কার্ড যাই পাক না কেন, সেগুলোর সঙ্গে এটা কোনও এফেক্ট করবে না। কিন্তু অন্য কোনও স্কিমে যদি তারা টাকা না পায় তাহলে তারা দেড় হাজার টাকা করে আগামী পাঁচ বছর পাবে। তারপর আবার রিভিউ হবে যতদিন তারা চাকরি না পাচ্ছেন।
যুব সাথী প্রকল্পে কিভাবে আবেদন
মমতা জানান, আবেদন প্রক্রিয়া সহজ করতে রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রে বিশেষ ক্যাম্প চালু করা হবে। ক্যাম্প চলবে ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৬ তারিখ পর্যন্ত। সময়, সকাল দশটা থেকে বিকাল ৫ টা। এই ক্যাম্পগুলিতেই সরাসরি আবেদন করতে পারবেন উপভোক্তারা। অনলাইনের ক্ষেত্রে ঝাড়াই বাছাইয়ের ঝামেলা এড়াতেই এই ক্যাম্পের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রথমে এই প্রকল্প দিতে সংবাদমাধ্যমে বিজ্ঞাপন দেওয়া হবে। তারপর আবেদন নেওয়া হবে। এই আবেদন জমা নিতে দুয়ারে সরকারের ধাঁচে ক্যাম্প করা হবে। ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রে পৃথক পৃথক ক্যাম্প করা হবে। এই প্রকল্পে শিক্ষিত বেকার অর্থাৎ মাধ্যমিক পাশ করলেই দেওয়া হবে দেড় হাজার টাকা। যদি কোনওরকম স্কলারশিপ পেয়ে থাকেন, তাতে কোনও সমস্যা নেই। তবে স্কলারশিপ ছাড়া যদি রাজ্য সরকারের অন্য কোনও জনমুখী প্রকল্পের আওতায় থেকে থাকেন, তাহলে যুব সাথীর সুবিধা মিলবে না। যে হেতু সময় কম, তাই অনলাইনে আবেদনপত্র জমা নেওয়া হবে না। কে পাঠাবে না পাঠাবে, রিভিউ করতে সময় লাগবে। ফলে বঞ্চিত হয়ে পড়তে পারেন। আমরা তা চাই না। কষ্ট করে এসে দরখাস্ত করে যাবেন। আমাদের কাছে লক্ষ্মীর ভান্ডার-সহ সব প্রকল্পের তালিকা রয়েছে।

ভূমিহীন কৃষকদের জন্য বিশেষ প্রকল্প
তবে শুধুমাত্র বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য যুব সাথী প্রকল্প অথবা লক্ষ্মীর ভান্ডারের ঘোষণা নয়, রাজ্যের ভূমিহীন কৃষকদের জন্যও বিশেষ প্রকল্পের সুবিধে দেবার কথা ঘোষণা করলেন মমতা। মমতা বলেন, মারা গেলে ২ লক্ষ করে টাকা দিই আমরা কৃষকবন্ধুদের। শস্যবিমা দিই বছরে ১০ হাজার টাকা করে, যাঁদের ১ একরের বেশি জমি আছে। এ কাঠা জমি থাকলেও ৪০০০ টাকা করে পান। এবার ক্ষেতমজুর, অর্থাৎ ভূমিহীন চাষিদের বছরে দু’বার ২০০০ টাকা করে দেওয়া হবে।
পাশাপাশি তিনি জানান, ইরিগেশন বা শ্যালো টিউবওয়েলের জন্য যেটা দিতেন ওঁরা, সেটা তুলে নেওয়া হচ্ছে। প্রাইভেটে যাঁরা করেন, তাঁদের নিয়ে বলছি না। তাঁরা স্বাধীন ভাবে করেন। যাঁরা আমাদের কাছে দরখাস্ত করবেন ২০০০ টাকার মধ্যে, তাঁদের কথা বলা হচ্ছে। এই টাকাটা পাওয়ার ডিপার্টমেন্ট নিত জল তোলার জন্য। আর টাকা নেওয়া হবে না।