সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
‘এখনও পর্যন্ত মোট ২২টি ভুয়ো অ্যাকাউন্ট পাওয়া গিয়েছে। যেখান থেকে পুরুষদের লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা ঢুকছে। ১টি অ্যাকাউন্ট রাকিবুলের, আরও ১৫টি মুস্তাফিজুর রহমান ও তার স্ত্রী তুহিনার, বাকি ৬টি অ্যাকাউন্ট তারিকুল রহমানের।’ এই তথ্য পরিসংখ্যান পেশ করে আজ নবান্ন থেকে সাংবাদিক বৈঠক করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ব্যাখ্যা করলেন কেন অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাওয়ার জন্য তেরো পাতার ফরম বাধ্যতামূলক করেছে রাজ্য সরকার।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, ‘যারা ১২ পাতা, ১৬ পাতা, ১৮ পাতা করছেন – জনগণের দ্বারা প্রত্যাখ্যাত নেতা ও তাদের দলকে বলব সংখ্যাটা কত হবে আমরা জানি না। অনুপ্রবেশকারী, হাজার হাজার তৃণমূল নেতা – যারা মহিলা নন – তারা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার লুট করছেন। আমরা কাউকে ছাড়ব না। সিট গঠন করতে বলেছি। আমরা হিসাব করে দেখেছি। রাকিবুল, মুস্তাফিজুরদের বিরুদ্ধে ব্য়বস্থা হবে। লুটেরাদের পার্টি কীভাবে লুট করেছে এটা তার প্রমাণ। তৃণমূল স্তর থেকে খতিয়ে দেখা হবে।’
এদিন মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে মিথ্যা প্রচার চলছে। ফর্মপূরণ করতে এগিয়ে এসেছেন অনেকে। জনগণ সহযোগিতা করেছেন। সোমবার থেকে অনলাইনে চালু হয়ে গিয়েছে। আশা করছি বুধবার আরও অনেকের ফর্ম ফিলআপের কাজ হয়ে যাবে।’
বিধানসভার সই জাল কান্ড প্রসঙ্গে
তৃণমূলের সব ভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সহ তৃণমূলের একাধিক বিধায়কের বাড়িতে কত কয়েক দিনে সিআইডির গোয়েন্দারা যাওয়ার প্রেক্ষিতে বিরোধীদের উপরে রাজনীতির প্রতি হিংসা নেওয়া হচ্ছে বলে যে অভিযোগ উঠেছে তার সম্পূর্ণ খন্ডন করলেন মুখ্যমন্ত্রী। সোমবার নবান্ন থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘অমুকের বাড়ি তমুকের বাড়ি সিআইডি যাচ্ছে বলে আপনারা দেখাচ্ছেন। এতে বিজেপি অথবা সরকারের কোনও ভূমিকা নেই। গত ৯ মে আঞ্চলিক দল তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক একটি চিঠি লেখেন বিধানসভার অধ্যক্ষকে। সেই চিঠিতে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা করার কথা জানিয়ে চিঠি দেন। ১৮ মে বিধানসভার প্রধান সচিব আঞ্চলিক দলের সর্বভারতীয় সম্পাদককে দলীয় বৈঠকের মিনিটস জমা দেওয়ার জন্য চিঠি দেন। ২০ মে সেই চিঠির জবাব আসে। ২৭ মে দু জন তৃণমূল বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহা অভিযোগ করেন যে বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের জন্য ৬ মে তৃণমূলের দলীয় বৈঠকে কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। তাঁরা শুধুমাত্র বৈঠকে উপস্থিত থাকার জন্য সই করেছিলেন। তাঁদের সই জাল করা হয়েছে। তৃণমূলেরই দুই বিধায়কের অভিযোগের ভিত্তিতে অধ্যক্ষের নির্দেশে বিধানসভার সচিব হেয়ার স্ট্রিট থানায় অভিযোগ জানান। এর পর স্বরাষ্ট্রসচিবের নির্দেশে এবং আমার অনুমোদনে মামলার তদন্তভার হাতে নেয় সিআইডি।’
মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেছেন, তৃণমূলের দেওয়া ওই চিঠিতে ১৪ জন তৃণমূল বিধায়কদের সই হিসেবে বড় হরফে তাঁদের নাম লেখা ছিল। ওই ১৪ জন বিধায়কদের সঙ্গে কথা বলেছে সিআইডি। হস্তরেখা বিশারদকে দিয়ে ওই বিধায়কদের সইও মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। ১৪ জন বিধায়কের মধ্যে ১৩ জন বিধায়কের সঙ্গে সিআইডি ইতিমধ্যে কথাও বলেছে। তিন জন বিধায়ক তাঁদের সই জাল করা হয়েছে বলে স্বীকার করে নিয়েছেন বলেও দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
তৃণমূলের পক্ষ থেকে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে যে প্রতিহিংসাপরায়ণতার অভিযোগ করেছিল, তা খণ্ডন করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এখানে বিজেপি অথবা সরকারের কোনও ভূমিকা নেই। তৃণমূলের দুই বিধায়কের অভিযোগেই তদন্ত হচ্ছে। তৃণমূল চোরের দল। এতদিন বাংলার মানুষকে ঠকিয়েছে, এবার নিজেদের বিধায়কদের ঠকাচ্ছে। যে দল ১৫ বছর সরকার চালিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে এই ধরনের অভিযোগ ওঠা বাংলার জন্য অত্যন্ত চিন্তার।’ তবে তৃণমূলকে হুঁশিয়ারি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘পুলিশমন্ত্রী হিসেবে বলছিস যাঁরা সই জাল করেছেন তাঁদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা আছে। আমরা সেই আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব। বিধানসভা থেকেও পুলিশ সুপারিশ নেবে। একজনের সই তো অন্যজন করতে পারেন না।’

তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বকে আক্রমণ করে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘সব চোরের পাঠশালা, কালীঘাটের টালির চালা। তৃণমূল পার্টিটা কার্যত উঠেই গেছে। ভোটে লড়ার আগে তৃণমূলের প্রার্থী পালাচ্ছেন। তৃণমূলের কোনো লোকই প্রতিবাদে রাস্তায় নামবেন না। নিজের দলের বিধায়কদের সঙ্গে তঞ্চকতা ও প্রতারণা করেছে তৃণমূল। তবে বিজেপি সরকারের আমলে এই সই চোরেরা কোনো ছাড় পাবেন না। একজনের সই অন্যজন করতে পারেন না।’