ব্রেকিং
  • Home /
  • পশ্চিমবঙ্গ /
  • Private School Teachers : বেসরকারি স্কুলের শিক্ষিকাদের জন্য বিরাট সুখবর! ২ বছরের ‘চাইল্ড কেয়ার লিভ’-এ ঐতিহাসিক রায় দিল্লি হাইকোর্টের

Private School Teachers : বেসরকারি স্কুলের শিক্ষিকাদের জন্য বিরাট সুখবর! ২ বছরের ‘চাইল্ড কেয়ার লিভ’-এ ঐতিহাসিক রায় দিল্লি হাইকোর্টের

সরকারি-বেসরকারি ভেদাভেদে ইতি, সন্তানের জন্য এবার ৭৩০ দিনের ছুটির অধিকার শিক্ষিকাদের সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন। নয় কোনও সরকারি প্রকল্প, নয় বেতন বৃদ্ধি। তবুও হাজার হাজার বেসরকারি স্কুলের শিক্ষিকার মুখে এখন স্বস্তির হাসি। সন্তানের পড়াশোনা, পরীক্ষা কিংবা অসুস্থতার সময় আর চাকরি....

Private School Teachers : বেসরকারি স্কুলের শিক্ষিকাদের জন্য বিরাট সুখবর! ২ বছরের ‘চাইল্ড কেয়ার লিভ’-এ ঐতিহাসিক রায় দিল্লি হাইকোর্টের

  • Home /
  • পশ্চিমবঙ্গ /
  • Private School Teachers : বেসরকারি স্কুলের শিক্ষিকাদের জন্য বিরাট সুখবর! ২ বছরের ‘চাইল্ড কেয়ার লিভ’-এ ঐতিহাসিক রায় দিল্লি হাইকোর্টের

সরকারি-বেসরকারি ভেদাভেদে ইতি, সন্তানের জন্য এবার ৭৩০ দিনের ছুটির অধিকার শিক্ষিকাদের সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন। নয়....

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
X
Threads
Telegram

আরও পড়ুন

সরকারি-বেসরকারি ভেদাভেদে ইতি, সন্তানের জন্য এবার ৭৩০ দিনের ছুটির অধিকার শিক্ষিকাদের

সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।

নয় কোনও সরকারি প্রকল্প, নয় বেতন বৃদ্ধি। তবুও হাজার হাজার বেসরকারি স্কুলের শিক্ষিকার মুখে এখন স্বস্তির হাসি। সন্তানের পড়াশোনা, পরীক্ষা কিংবা অসুস্থতার সময় আর চাকরি বাঁচানো আর সন্তান সামলানোর মধ্যে বেছে নিতে হবে না। দিল্লি হাইকোর্টের (Delhi High Court) এক ঐতিহাসিক রায় বদলে দিল বহু কর্মজীবী মায়ের বাস্তবতা।

এক যুগান্তকারী নির্দেশে আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, সরকারি স্কুলের শিক্ষিকাদের মতোই এবার স্বীকৃত বেসরকারি স্কুলের (Private Schools) শিক্ষিকারাও পাবেন Child Care Leave বা সন্তানের যত্নের জন্য বিশেষ ছুটির সুবিধা। ফলে দীর্ঘদিনের বৈষম্যের অবসান ঘটল বলেই মনে করছেন শিক্ষা মহলের একাংশ।

 

এই মামলার শুনানিতে প্রধান বিচারপতি দেবেন্দ্র কুমার উপাধ্যায় (Devendra Kumar Upadhyaya) এবং বিচারপতি তুষার রাও গেদেলা (Tushar Rao Gedela)-র ডিভিশন বেঞ্চ আগের একটি রায় সংশোধন করে নতুন ব্যাখ্যা দেয়। আদালতের পর্যবেক্ষণ, সন্তান প্রতিপালনের দায়িত্ব শুধুমাত্র ব্যক্তিগত বিষয় নয়, কর্মক্ষেত্রে নারীদের সমান অধিকারের সঙ্গেও তা ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

 

রায়ে বলা হয়েছে, দিল্লি স্কুল শিক্ষা বিধি (Delhi School Education Rules)-র আওতায় থাকা স্বীকৃত বেসরকারি স্কুলগুলি তাদের মহিলা কর্মীদের এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত করতে পারবে না। সরকারি শিক্ষিকারা যে ধরনের Child Care Leave পান, একই সুবিধা দিতে হবে বেসরকারি স্কুলের শিক্ষিকাদেরও।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, একজন শিক্ষিকা তাঁর সম্পূর্ণ চাকরিজীবনে মোট ৭৩০ দিন, অর্থাৎ প্রায় দুই বছরের ছুটি নিতে পারবেন। এই ছুটি মূলত প্রথম দুই সন্তানের দেখাশোনা, পড়াশোনা, পরীক্ষার প্রস্তুতি বা অসুস্থতার সময় ব্যবহার করা যাবে।

তবে এই সুবিধার সঙ্গে কিছু নির্দিষ্ট শর্তও রয়েছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, একবারে অন্তত ১৫ দিনের জন্য এই ছুটি নিতে হবে। পাশাপাশি বছরে সর্বাধিক তিনবার Child Care Leave নেওয়ার সুযোগ থাকবে। অর্থাৎ প্রয়োজনের সময় ছুটি পাওয়া যাবে, কিন্তু তারও একটি নির্দিষ্ট কাঠামো থাকবে।

শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এই রায় শুধু ছুটির অধিকার নয়, কর্মক্ষেত্রে নারীদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গিরও একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত। দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ ছিল, বেসরকারি স্কুলে কর্মরত বহু শিক্ষিকাকে সন্তান ও চাকরির মধ্যে কঠিন ভারসাম্য বজায় রাখতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে সন্তান অসুস্থ হলেও পর্যাপ্ত ছুটি না পাওয়ার সমস্যার মুখে পড়তে হত।

এই পরিস্থিতিতে দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশ ভবিষ্যতে দেশের অন্যান্য রাজ্যেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষত যেখানে সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষাকর্মীদের সুযোগ-সুবিধার মধ্যে এখনও বিস্তর ফারাক রয়েছে।

নারী অধিকার ও শিক্ষা ক্ষেত্রের বিভিন্ন মহলেও এই রায়কে স্বাগত জানানো হয়েছে। তাঁদের মতে, মাতৃত্ব এবং সন্তানের দায়িত্বকে পেশাগত জীবনের অন্তরায় হিসেবে দেখা উচিত নয়। বরং কর্মক্ষেত্রকে আরও মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করে তুলতেই এমন নীতির প্রয়োজন।

দিল্লি হাইকোর্টের এই রায় আপাতত রাজধানীর স্বীকৃত বেসরকারি স্কুলগুলির জন্য হলেও, এর প্রভাব যে জাতীয় স্তরে পৌঁছতে পারে, তা নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, এবার কি অন্যান্য রাজ্যও একই পথে হাঁটবে? সরকারি-বেসরকারি বিভাজন মুছে শিক্ষাক্ষেত্রে কি আরও বড় পরিবর্তনের সূচনা হল? নজর এখন সেদিকেই।

আজকের খবর