ফ্রিজ করা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে কালীঘাট তৃণমূলকে টাকা তোলার অনুমতি হাইকোর্টের, নিয়োগ স্পেশাল অফিসার
সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের ফল বেরোনোর পর থেকে একের পর এক ঘটনা অস্তিত্বহীন হয়ে যেতে যেতেও কলকাতা হাইকোর্টে বড় স্বস্তি পেলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূলের ৩টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে সীমিত পরিসরে লেনদেন করার নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। একইসঙ্গে ওই লেনদেনের উপর নজরদারির জন্য একজন স্পেশাল অফিসার নিয়োগ করা হয়েছে। কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের একক বেঞ্চ অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সুব্রত তালুকদারকে বিশেষ আধিকারিক হিসেবে নিয়োগ করেছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, তৃণমূলের দুই দায়িত্বপ্রাপ্তের স্বাক্ষরযুক্ত চেকের ভিত্তিতেই অর্থ খরচের অনুমতি দেবেন তিনি। বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্ট জানিয়েছে, এই অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
নির্বাচনে ভরাডুবির পরে রাতারাতি ভাঙন ধরে তৃণমূলে। বিধানসভায় জিতে আসা বিধায়কদের সিংহভাগই মমতার শিবির ছেড়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে যোগ দেন। তাঁরাই নিজেদের আসল তৃণমূল বলে দাবি করেন। এই মুহূর্তে কে আসল তৃণমূল, তা নিয়ে লড়াই গিয়েছে দিল্লির নির্বাচন সদন পর্যন্ত। কার হাতে জোড়াফুল প্রতীক থাকবে, এখন সে লড়াইও চলছে। এ সবের মধ্যেই গত ১৮ জুন বিধাননগর সাইবার থানায় শিবির বদল করা এক বিধায়ক অভিযোগ জানান, তৃণমূলের ওই অ্যাকাউন্টে বেআইনি কোনও টাকা থাকলেও থাকতে পারে। পুলিশে অভিযোগ দায়ের হয়। ব্যাঙ্ককে তৃণমূলের তিনটি অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ় করতে বলে পুলিশ। যা নিয়ে মমতা-পন্থীরা হাইকোর্টে যান।
তৃণমূলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ়ের মামলার শুনানির মধ্যে থানায় অভিযোগ জানানো বিধায়কদের তরফে দাবি করা হয়, তাঁরা প্রকৃত তৃণমূল। ফলে ওই অ্যাকাউন্ট অন্য পক্ষকে ব্যবহার করতে দেওয়া যাবে না। যা শুনে কোর্টের পর্যবেক্ষণ, ‘আপনারা প্রকৃত তৃণমূল, সেটা আপনাদের বডি ল্যাঙ্গুয়েজে মনে হচ্ছে না। ভোট হওয়ার পরে রাজ্যে ক্ষমতা বদলে গিয়েছে, তার পরে আপনার একটা স্ট্যান্ড নিয়ে অভিযোগ দায়ের করেছেন। আজ যে সব অভিযোগ তুলছেন, সেটা কেন ৪ মে-র আগে তোলেননি? এখন অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ় করার পরে আপনারা নতুন অঙ্ক কষছেন। ভোট পেরোতেই সেই দল থেকে সামার সল্ট দিয়ে এখন উল্টোদিকে এসে অভিযোগ জানালেন। আবারও বলছি, কেন এত অভিযোগ ভোটের ফল বেরোনোর আগে আপনাদের মুখ দিয়ে বেরোয়নি?’
সূত্রের খবর, এদিন শুনানিতে আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি বলেন, ‘সংবিধান সব রাজনৈতিক দলকেই সমানাধিকার দেওয়ার কথা বলে। এমন ঘটনা রাজনীতিতে আগে কখনও হয়নি।’ ১৮ জুন অভিযোগ, ১৯ আকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়, ওই প্রসঙ্গ তুলে আনেন তিনি। ওই অ্যাকাউন্টগুলি থেকে, অভিযোগকারী বিধায়কেরাও টাকা নিয়েছেন, সেই প্রসঙ্গও তুলে আনেন তিনি।

এরপর আদালতের নির্দেশ, তিনটে ফ্রিজ় অ্যাকাউন্ট থেকে দলের প্রকৃত ব্যবহারকারীরা চেকের মাধ্যমে টাকা তুলতে পারবেন। তার জন্য স্পেশাল অফিসার হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সুব্রত তালুকদারকে নিয়োগ করছে আদালত। তৃণমূলের কোন অংশ ‘আসল তৃণমূল’, সেই বিচার কোর্ট করছে না। তিনটে অ্যাকাউন্টের জন্য দু’জন সই করবেন এবং স্পেশাল অফিসার তাতে সই করে দিলে ব্যাঙ্ক টাকা দেবে। প্রতিদিনের খরচের জন্য টাকা তোলা যাবে। একটা দলকে চালাতে গেলে রোজ যে টাকা দরকার হয়, সেটাই তোলা যাবে বলে নির্দেশ দিল হাইকোর্ট। আইনি খরচও নিতে পারবে এখান থেকে।