সুষমা পাল মন্ডল। কলকাতা সারাদিন।
‘এই সরকার আসায় বাংলা ও বাঙালি বেঁচেছে, আর এঁরাও ফিরে আসতে শুরু করেছেন।’ বাঁকুড়ার মেজিয়াতে বিপুল অংকের বিনিয়োগ আসার পরে এভাবেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম না করে তীব্র আক্রমণ করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরে প্রথম ভারী শিল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন শুভেন্দু।
একই সঙ্গে জানালেন, ইতিমধ্যেই একাধিক বড় গোষ্ঠীর সঙ্গে আলোচনা চলছে। রাজ্যে ব্যাপক বিনিয়োগ আসতে চলেছে। মেজিয়ার নতুন ইউনিট নিয়ে শ্যাম স্টিল কর্তৃপক্ষের দাবি, নতুন এই কারখাানা চালু হলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মিলিয়ে প্রায় ১০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি, এই প্রকল্পকে কেন্দ্র করে এলাকায় একাধিক অনুসারী শিল্প গড়ে ওঠার সম্ভাবনাও রয়েছে। বাঁকুড়ায় মেজিয়ায় শ্যাম স্টিলের কারখানার নতুন ইউনিটের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী শুক্রবার সেই মঞ্চ থেকেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র কটাক্ষ করে বলেন, ‘আপনার এখন হাতে অনেক সময় আছে। একবার দেখে যাবেন।’
শ্যাম স্টিল কর্তৃপক্ষের দাবি, নতুন এই কারখানা চালু হলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মিলিয়ে প্রায় ১০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি, এই প্রকল্পকে কেন্দ্র করে এলাকায় একাধিক অনুসারী শিল্প গড়ে ওঠার সম্ভাবনাও রয়েছে। ফলে বাঁকুড়া ও সংলগ্ন জেলার শিল্প ও আর্থ-সামাজিক দিকটিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, ‘আজ ১৫ হাজার কোটির বিনিয়োগ। আগামীকাল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের হাত ধরে ধূলাগড়ে ৭০০ কোটির আমূল প্ল্যান্টের ভার্চুয়ালি উদ্বোধন। অগাস্টের ১৫ তারিখের পর আবার দুর্গাপুরে আসব। ৪ হাজার কোটির নতুন বিনিয়োগ তৈরি আছে। বড় বড় গ্রুপের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। আদানি গ্রুপের নিউটাউনে হাসপাতাল। দাদনপাত্রপাত্রবাড়ে বন্দর তৈরির প্রস্তাব করা হয়েছে। ব্যাটারি প্রকল্পের জন্য সঞ্জীব গোয়েঙ্কার সঙ্গেও বৈঠক হয়েছে। পুজোর আগেই হরিণঘাটায় ফ্লিপকার্টের ইউনিট তৈরি হয়ে যাবে।’

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় থাকাকালীন গুজরাত, উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দাদের বহিরাগত বলে নিশানা করতেন। বিশেষ করে তাঁর টার্গেটে থাকত ভিনরাজ্যের বিজেপি নেতারা। সেই প্রসঙ্গ তুলে খোঁচা দিয়ে শুভেন্দু বললেন, ‘আপনার হাতে এখন অনেক সময় আছে। আপনি একবার এসে এই প্ল্যান্টের ভিতরটা দেখে যান। কেন বললাম জানেন? উনি কথায় কথায় মাড়োয়ারিদেরকে, হিন্দিভাষীদেরকে বলেন, এরা তো বহিরাগত। গুজরাত হতে দেব না, উত্তরপ্রদেশ হতে দেব না। আমি ওঁকে বলব, আমি আপ্লুত, মন্দির তো আছেই, রাধামাধবজি তো আছেই, মহাদেবের শিবলিঙ্গ তো আছেই, গোশালা তো আছে, সবুজায়ন তো আছে, সঙ্গে বাংলার কলা সংস্কৃতি, স্বাধীনতা সংগ্রামের দুই বরেণ্য ব্যক্তিত্বের মূর্তিও আছে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর।’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল সরকার থাকাকালীন তৃণমূল নেতাদের তোলাবাজির আতঙ্কে ভিন রাজ্যের শিল্পপতিরা পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগ করতেন না বলে অভিযোগ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আপনি একবার এসে দেখে যাবেন। আমাকে জানাবেন, আমি সরকারের হেলিকপ্টারটা দিয়ে দেব। আর যাই বলুন, এদেরকে বহিরাগত বলবেন না। এ বারে যদি এই সরকারটা না আসত, এরা সব ওড়িশা চলে যাবে ঠিক করেছিল। সিন্ডিকেটরাজ, তোলাবাজি… রাস্তায় গাড়ি নিয়ে বেরলে হাত পাততো, গুন্ডা ট্যাক্স। কী অবস্থা করে রেখেছিলেন আপনারা! এই সরকার আসায় বাংলা ও বাঙালি বেঁচেছে, আর এঁরাও ফিরে আসতে শুরু করেছেন।’
ট্রেন দুর্ঘটনা প্রসঙ্গে
শ্যাম স্টিলের কারখানার নতুন ইউনিটের ভিত্তিপ্রস্তর অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আগে আজ সকালে বহরমপুরে দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানোদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘অত্যন্ত বেদনাদায়ক ঘটনা। আমি ভগবানের কাছে ওই বাচ্চাগুলির আত্মার শান্তি কামনা করি। পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাই। আর প্রার্থনা করব, যে দু’জনের চিকিৎসা চলছে তাদের আমরা সর্বোচ্চ চিকিৎসা দিয়েছি, বোর্ড বসিয়েছি। আমরা তাদের যেন ভাল করতে পারি দেখব। রেলের পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণ ঘোষণা হয়েছে। আমাদেরও ভাবনা চিন্তায় আছে। এত ছোট ছোট বাচ্চা, ওই জন্য আমি এই মুহূর্তে ডিএমকে একটা নির্দেশ দিয়েছি। কিন্তু এখনই বলছি না। কারণ এটা বলার মতো মানসিকতা বা পরিবেশ নেই। আমরা পরিবারের সঙ্গ কথা বলব। কিন্তু ক্ষতিপূরণ দিয়ে তো আর এই শূন্যস্থান পূরণ হওয়ার নয়। একেবারে ছোট ছোট ফুলের মতো বাচ্চা মারা গিয়েছে। গেটম্যানকে গ্রেফতার তো করা হয়েছে। আমি পুলিশকে বলেছি, ও মদ্যপ ছিল কি না সেটা মেডিকেল টেস্ট করাতে। রেলের পক্ষ থেকে তাঁরা ব্যবস্থা নিচ্ছেন। মানুষের ভুলের জন্য এটা হয়েছে। এটা কোনও দুর্ঘটনা নয়। এটা ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ গেটম্যান করেছে। এটা ক্ষমা করা মতো জায়গায় নেই।’