বিতস্তা সেন। কলকাতা সারাদিন।
হিমাচল প্রদেশে গত কয়েকদিনের প্রবল বৃষ্টিপাত এবং ভূমিধ্বসের কারণে বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে। নদীগুলোর জল বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে, আর এর ফলে অসংখ্য মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে, রবিবার হিমাচল প্রদেশের মান্ডি জেলার দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করতে যান বিজেপির সাংসদ কঙ্গনা রানাউত। তবে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য তার কাছে কোন তহবিল নেই বলে জানিয়েছেন তিনি।
কঙ্গনার মন্তব্য এবং রাজনৈতিক বিতর্ক
মান্ডি জেলা পরিদর্শন শেষে কঙ্গনা রানাউত জানান, “আমার হাতে কোন তহবিল নেই, তাই আমি সাহায্য করতে পারব না। আমি শুধু মানুষের কাছে বাস্তবতা তুলে ধরেছি যে, একজন সাংসদ হিসেবে আমার কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। আমাদের দল যতটুকু সম্ভব মানুষের সাহায্য করবে।” কঙ্গনার এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে উত্তপ্ত বিতর্ক শুরু হয়েছে।
কংগ্রেস এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতারা কঙ্গনার মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন। কংগ্রেসের দাবি, কঙ্গনা দেরি করে এলেও তিনি এই বিপর্যয়ের ঘটনায় যথাযথ সহায়তা প্রদান করেননি। তবে কঙ্গনা পাল্টা জবাব দিয়ে বলেন, “কংগ্রেস আমার মন্তব্যকে ভুলভাবে উপস্থাপন করেছে। আমি কোনও তহবিল নিয়ে কথা বলিনি। বরং, আমি মানুষের কাছে পৌঁছানোর জন্য সময়সীমা মেনে চেষ্টা করেছি।”
কঙ্গনার পদক্ষেপে স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া
কঙ্গনার এই পদক্ষেপের পর অনেক স্থানীয় বাসিন্দা তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তারা আশা করছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী হস্তক্ষেপ করবেন এবং হিমাচল প্রদেশের জন্য বিশেষ আর্থিক সাহায্য ঘোষণা করবেন। কঙ্গনা জানিয়েছেন, তিনি প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখে রাজ্যের জন্য বিশেষ আর্থিক প্যাকেজের দাবি জানাবেন।
হিমাচলের বিপর্যয়: মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ৭৮
হিমাচল প্রদেশের ব্যাপক বৃষ্টিপাত এবং ভূমিধ্বসের কারণে বর্তমানে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৮-এ। আরও বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন এবং তাদের সন্ধানে উদ্ধার কাজ চলছে। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে তৎপরভাবে ত্রাণ ও উদ্ধার কাজ চলছে, তবে পরিস্থিতি এখনও সংকটজনক। মান্ডি জেলার মতো বন্যাপ্রবণ এলাকাগুলিতে তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

কঙ্গনা রানাউত জানিয়েছেন, তিনি আগামীদিনে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখে হিমাচলের পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানাবেন এবং বিশেষ সাহায্যের জন্য আবেদন করবেন। রাজ্যের দ্রুত পুনর্গঠন এবং পুনর্বাসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কেন্দ্রের সক্রিয় সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি মনে করছেন।
কঙ্গনা রানাউত এভাবে হিমাচল প্রদেশের বিপর্যয়ের পর পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও, তার মন্তব্য এবং তহবিল নিয়ে বক্তব্য রাজনৈতিক মহলে বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। তবে, রাজ্যবাসী আশা করছেন যে কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকার একযোগে কাজ করে দ্রুত বিপর্যয় কাটিয়ে উঠবে এবং ত্রাণ সহায়তা পৌঁছাবে।