সুষমা পাল মন্ডল। কলকাতা সারাদিন।
ড্রাইভারদের ওপর বেআইনিভাবে জরিমানা চাপানো এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স বাজেয়াপ্ত করার ঘটনায় এবার কড়া অবস্থান নিল কলকাতা হাইকোর্ট। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, কোনও পুলিশ অফিসার লিখিত নথি বা অস্থায়ী অনুমোদনপত্র ছাড়া ড্রাইভিং লাইসেন্স বাজেয়াপ্ত করতে পারবেন না। পাশাপাশি জোর করে নগদ জরিমানা আদায়ও বেআইনি।
ঘটনার সূত্রপাত ২০২৩ সালের ২৬ মার্চ। হাইকোর্টের এক আইনজীবী শুভ্রাংশু পান্ডা খিদিরপুর রোডে একটি ট্রাফিক সিগন্যালে ট্রাফিক সার্জেন্ট পলাশ হালদার দ্বারা আটক হন। অভিযোগ, গাড়ির গতি বেশি থাকার অভিযোগে তাঁকে নগদ ১,০০০ টাকা জরিমানা দিতে বলা হয়। তিনি অনলাইন পেমেন্ট করতে চাইলেও সার্জেন্ট তাঁর লাইসেন্স কেড়ে নেন এবং কোনওরকম স্লিপ বা রসিদ দেননি।
এই ঘটনা আদালতের নজরে আসার পর বিচারপতি পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায়ের একক বেঞ্চ ট্রাফিক পুলিশের বিরুদ্ধে কড়া মন্তব্য করে। আদালতের পর্যবেক্ষণ—“সন্দেহের বশে কেউ লাইসেন্স বাজেয়াপ্ত করতে পারে না। পুলিশ অফিসারের এমন কোনও আইনসিদ্ধ অধিকার নেই, যা তাঁকে লাইসেন্স সাসপেন্ড বা বাতিল করার ক্ষমতা দেয়।” এই অধিকার একমাত্র রয়েছে সংশ্লিষ্ট RTO বা লাইসেন্স ইস্যুকারী কর্তৃপক্ষের।
মোটর ভেহিকল আইন ১৯৮৮ অনুযায়ী, নিশ্চিতভাবে আইন লঙ্ঘন প্রমাণিত হলে পুলিশ অফিসার অস্থায়ী ভিত্তিতে লাইসেন্স রাখতে পারেন, তবে সেই ক্ষেত্রেও চালককে অস্থায়ী অনুমোদনপত্র দিতে হবে। কলকাতা হাইকোর্ট সেই আইনই আবার স্মরণ করিয়ে দিয়েছে।
আদালত রাজ্য সরকার এবং কলকাতা পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের এই রায় যথাযথভাবে মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছে। রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দফতর এবং ডিজিকে এই রায়ের কপি পাঠানো হয়েছে। একইসঙ্গে, ট্রাফিক পুলিশদের জন্য আইন সম্পর্কিত প্রশিক্ষণের পরামর্শও দিয়েছে আদালত।
বিচারপতির মত, “পুলিশকে আইন মেনে, পেশাদার ও সম্মানজনক আচরণ করতে হবে। কোনও নাগরিককে বেআইনিভাবে ভয় দেখানো বা টাকা আদায় করা চলবে না।”

যদিও সার্জেন্ট পরবর্তীতে আইনজীবীর লাইসেন্স ফেরত দেন, তাই কড়া শাস্তির পরিবর্তে তাঁকে সতর্ক করে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে আদালতের এই রায় ভবিষ্যতে পুলিশের আচরণে বড় প্রভাব ফেলবে বলেই মনে করছে বিশ্লেষক মহল।