সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
ভারতের বিরুদ্ধে মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প যেভাবে ৫০ শতাংশ শতাংশ শুল্ক চালু করেছেন সেই প্রসঙ্গে নরেন্দ্র মোদিকে তীব্র আক্রমণ করেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। তিনি বলেন, “ডোনাল্ড ট্রাম্প নিয়ে প্রশ্ন করতে হলে তাকে করুন যার সঙ্গে ট্রাম্পের ছবি আছে। তাকেই করুন যার জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্প এখানে প্রচারে এসেছিল, যিনি ২০১৯ সালে টেক্সাসে গিয়ে ট্রাম্পের জন্য প্রচার করেছিলেন। ভারতের ওপরে ৫০% ট্যারিফ চাপানো হয়েছে, এর প্রভাব খারাপ হবে খুবই। রপ্তানি প্রভাবিত হবে, বিশেষ করে তিনটি শিল্পক্ষেত্রে—আইটি, ওষুধ, এবং বস্ত্র। এই খাতগুলির চারপাশের পরিষেবাও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। চাকরির সংখ্যা কমবে, আর তার ফলে ভারতীয় অর্থনীতি ধাক্কা খাবে। আমি মনে করি, এটা কূটনৈতিক ব্যর্থত, এবং ভারতের উচিত এর যোগ্য জবাব দেওয়া।
যারা ভারতের বিরুদ্ধে চাপ সৃষ্টি করছে এবং দেশকে দুর্বল করতে চাইছে, তারা হঠাৎ করে এত শক্তিশালী হয়ে উঠল কীভাবে? যে সরকার “৫৬ ইঞ্চির ছাতি” নিয়ে গর্ব করে, তারা এখন ক্ষমতায় থেকেও চিন, আমেরিকা এবং আরও অনেক দেশের কাছে ধাক্কা খাচ্ছে। এটা কার ব্যর্থতা? কে ট্রাম্পকে এখানে এনেছিল এবং ২০২০ সালে করোনা শুরুর ঠিক আগে গুজরাতে তাঁর জন্য প্রচার করেছিল? কে ২০১৯ সালে টেক্সাসে গিয়ে প্রচার করেছিল? বিজেপি নেতারাই করেছে। ট্রাম্পের দীর্ঘজীবন কামনা করে পুজো পর্যন্ত হয়েছিল। মিডিয়ায় রয়েছে, আমরা সবাই দেখেছি। তাই আমি মনে করি, যারা ট্রাম্পের জন্য প্রচার করেছে, তিনি তার প্রতিদান স্বরূপ ২০২০ সালে গুজরাতে এসেছিলেন এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিজেও ২০১৯ সালে টেক্সাসে গিয়ে ট্রাম্পের হয়ে প্রচার করেছিলেন—তাঁরাই এর উত্তর দিতে পারেন। যিনি ডোনাল্ড ট্রাম্পের হয়ে প্রচার করেছিলেন, তিনিই সবচেয়ে উপযুক্ত অবস্থানে আছেন এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য এবং বলতে পারেন যে কী কারণে ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং মার্কিন সরকার ভারতের ওপরে ৫০% ট্যারিফ চাপাল। এর দায় তৃণমূল কংগ্রেসের নয়—দায় প্রধানমন্ত্রীর, বর্তমান এনডিএ সরকার এবং বিজেপি-র।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা তৃণমূল কংগ্রেস কেউই ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আমন্ত্রণ জানায়নি। আমরা কেউ তাঁর হয়ে প্রচার করিনি। আমি ওনার ( মোদীর) কথাই উদ্ধৃত করছি: “আমি আপনাদের সামনে হাজির করছি, আমার বন্ধু এবং ভারতের বন্ধু, ডোনাল্ড ট্রাম্পকে।” আমি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা কোনও বিরোধী নেতা কি এটা বলেছি?
আমি ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভারত-বিরোধী মন্তব্যেরও তীব্র নিন্দা জানাই। উনি বলেছেন, ভারতের অর্থনীতি মৃত। আমি একমত নই। কারোর ক্ষমতা নেই ভারতীয় অর্থনীতিকে হত্যা করার। ১৪০ কোটির ভালোবাসা, আবেগ আর শ্রমে ভারতীয় অর্থনীতি এখনও টিকে আছে। আমি বলব, ভারতীয় অর্থনীতি আই সি ইউ-তে আছে। খারাপ থেকে আরও খারাপ হয়েছে গত ১০ বছরে। আর ৫০% ট্যারিফ চাপিয়ে দিলে, ব্যাপক হারে চাকরি হারাবে মানুষ, রপ্তানি কমে যাবে। আর এই সবকিছুর পেছনে দায়ী ভারত সরকারের ব্যর্থ পররাষ্ট্রনীতি।”